বর্ষাকালীন সবজি কাকরোল। সবজি হিসাবে কাকরোল খুব জনপ্রিয়। পুষ্টিগুণে ভরপুর কাকরোল এর চাহিদা বাড়ার সাথে সাথে রায়পুরা উপজেলায় এর চাষ বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। অল্প পুঁজি বেশি লাভ হওয়ায় দিন দিন বাড়ছে এর উৎপাদন। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে মাঠের পর মাঠ শোভা পাচ্ছে মাচায় মাচায় কাকরোল চাষ।
নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাখরনগর, মরজাল, মির্জানাগর, শেরপুর, নয়াচর, আদিয়াবাদ এই সকল এলাকায় কাকরোল চাষ হয় প্রচুর। কাকরোলের পাইকারি হাট বসে যোশর বাজার, নারায়নপুর বাজার, রাধাগঞ্জ বাজার। এই সকল বাজারে গিয়ে দেখা যায় হাটজুড়ে কৃষকরা কাকরোলের পসরা সাজিয়ে রেখেছে। পাইকাররা কাকরোল কিনে ট্রাকে তুলছে কেউবা আবার প্যাকেট করায় ব্যাস্ত বিভিন্ন স্থানে কাকরোল সরবরাহের জন্য। গত বছরের তুলনায় এ বছর কাকরোলের চাষ বৃদ্ধি পেয়েছে।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, চলতি বছর রায়পুরা উপজেলায় ৮২২ হেক্টর জমিতে কাকরোল চাষ হয়েছে। গত বছর কাকরোল চাষের পরিমাণ ছিল ৮১০ হেক্টর। বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি কাকরোল ২৫/২৮ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এই অঞ্চলের কাকরোল স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে রাজধানী সহ বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। বর্তমানে দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে ও রপ্তানি হচ্ছে।
উপজেলার শেরপুর গ্রামের কাকরোল চাষি হযরত আলী বলেন, আমি ১০০ শতক জমিতে কাকরোল চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ৫০/৬০ হাজার টাকা। তিনি এই জমি থেকে কাকরোল বিক্রি করতে পারবেন প্রায় ৪ লাখ টাকার মতো।
রাজা মিয়া বলেন, আমি ১২০ শতক জমিতে কাকরোল চাষ করেছেন। এতে তার খরচ হয়েছে ১ লাখ টাকা। তিনি বিক্রি করতে পারবেন ৪/৫ লাখ টাকা। তিনি গত বছর ৫ লাখ টাকার কাকরোল বিক্রি করেছেন।
তিনি বলেন কাকরোল চাষ খূব লাভজনক। খরচ কম লাভ বেশি। আরেক চাষি ইকবাল হোসেন বলেন, আমার ৩০ শতক জমিতে কাকরোল চাষ করতে খরচ হয়েছে ২০ হাজার টাকা। আমি বিক্রি করতে পারব প্রায় ১ লাখ টাকা।
রায়পুরা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা বনি আমিন খান বলেন, কাকরোল একটি লাভজনক সবজি হওয়ায় রায়পুরায় এর আবাদ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। আমরা কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সবসময় সহযোগিতা করছি। ছত্রাক ও ক্ষতিকর পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষার জন্য পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছি। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে এই অঞ্চলের কাকরোল আরো বৃদ্ধি পাবে বলে মনে করেন এখানকার চাষিরা।
একে এম রেজাউল করিম/বার্তা বাজার/মেরাজ