দোকানপাট খুললেও বেচা-কেনা নিয়ে শঙ্কায় কুড়িগ্রামের ব্যবসায়ীরা
দেশজুড়ে সরকার ঘোষিত ‘লকডাউনে’ গত দুই সপ্তাহ যাবৎ সব ধরনের মার্কেট ও শপিংমল বন্ধ ছিল। কিন্তু ঈদ উপলক্ষে আগামী ৮ দিন চলমান ‘বিধিনিষেধ’ শিথিলের ঘোষণায় বৃহস্পতিবার (১৫ জুলাই) থেকে সারা দেশে দোকানপাট খুলছে।
দীর্ঘদিন পর মার্কেট খোলার অনুমতি পেয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন কুড়িগ্রামের বিভিন্ন মার্কেটের ব্যবসায়ীরা। বুধবার(১৪ জুলাই) জেলার কালীবাড়ি, কুড়িগ্রাম সুপার মার্কেট, জামে মসজিদ, নছর উদ্দিন মার্কেট, এন এ প্লাজাসহ বেশ কয়েকটি মার্কেট সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, কিছু কিছু দোকানে কর্মচারীরা ধোয়ামোছার কাজ করছেন।
কেউ আবার কাপড়চোপড় ঠিকঠাকভাবে সাজিয়ে রাখছেন। তবে অনেক দিন পর দোকানপাট খুলতে পেরে খুশি হলেও ‘সন্তোষজনক’ বেচাকেনা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন ব্যবসায়ীরা।
কুড়িগ্রাম সুপার মার্কেটের ব্যবসায়ী মোকলেছুর রহমান মুকুল বলেন, ‘কোরবানির ঈদে কেউ জামাকাপড় কেনে না। সবাই গরু নিয়েই ব্যস্ত থাকে। এখন দোকান খুললেও রোজার ঈদের মতো জমজমাট হবে না।’
নছর উদ্দিন মার্কেটের কাপড় ব্যবসায়ী আতিকুর রহমান শাওন বলেন, ‘গতকাল দোকানের মালপত্র গুছিয়ে রেখেছিলাম,আজ দোকান খুললাম,বৃষ্টির কারণে দোকানে ক্রেতাদের সংখ্যা তেমন নেই। তবে মার্কেট খুলে কেমন বেচাকেনা হবে, তা এখনো বোঝা যাচ্ছে না।’
আরেক ব্যবসায়ী হাবিবুল ইসলাম বলেন, ‘দোকান খুলবে এটা ভালো কথা, কিন্তু কেমন বেচাকেনা হবে তা তো বাঝা যাচ্ছে না। তবে করোনার জন্য কয়েক বছর ধরে ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ চলছে।’
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রওশন আমিন রিন্টু বলেন, ‘ঈদের আগে দোকান খোলায় ব্যবসায়ীরা কিছুটা খুশি। কিন্তু দোকান খুলে তেমনটা বেচাকেনা হবে না। কোরবানি ঈদে তো সবাই গরু কেনায় ব্যস্ত থাকে।’ এ সময় সবাই যেন স্বাস্থ্যবিধি মেনে দোকান পরিচালনা করে, সে বিষয়ে সমিতির পক্ষ থেকে মনিটরিং করা হবে বলেও জানান এই ব্যবসায়ী নেতা।’
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার(১৩ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ১৪ জুলাই মধ্যরাত থেকে ২৩ জুলাই সকাল ৬টা পর্যন্ত সব বিধিনিষেধ শিথিল করা হবে। প্রজ্ঞাপন জারির পর শপিং মল বা মার্কেটসহ দোকানপাট খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নেন এসব ব্যবসায়ীরা।
সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/পি