আজ শুক্রবার সন্ধ্যা ৬:৩৫, ১৮ই আগস্ট, ২০১৭ ইং, ৩রা ভাদ্র, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৫শে জিলক্বদ, ১৪৩৮ হিজরী

১১ বছর আগের সেই দুঃস্মৃতি আবারও অস্ট্রেলিয়ান মিডিয়ায়

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : আগস্ট ১৩, ২০১৭ , ১:৪৩ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : খেলাধুলা
পোস্টটি শেয়ার করুন

২০০৬ সালের পর আবারও টেস্ট সিরিজ খেলতে বাংলাদেশ সফরে আসছে অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। এই সিরিজকে সামনে রেখে ঘুরে ফিরেই চলে আসছে সেবারের চট্টগ্রাম টেস্ট। ২০০৬ সালে অস্ট্রেলিয়াকে প্রায় হারিয়েই দিয়েছিল হাবিবুল বাশারের দল।

তবে, অজিদের এই ম্যাচ মনে রাখার কারণ হলো, ব্যাট হাতে দারুণ এক ডাবল সেঞ্চুরি করেছিলেন পেসার জেসন গিলেস্পি। এই তারকা টাইগার বোলারদের সেদিন পাড়ার বোলার বানিয়ে দিয়েছিলেন।
সেই হার এখনও উজ্জ্বল সাবেক টাইগারদের মনে। এই ম্যাচটিতেই আরেকটি ঘটনা ছিল চোখে পড়ার মতো। প্রায় ৩০ জন সংবাদকর্মীর উপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালিয়েছিল পুলিশ বাহিনী। অস্ট্রেলিয়ার সংবাদমাধ্যমে সম্প্রতি আবারও উঠে এসেছে ১১ বছর আগের সেই দুঃস্মৃতি।
ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) ওয়েবসাইটের এক প্রতিবেদনে ওইদিনের ঘটনা প্রসঙ্গে লেখা হয়েছে, জ্যৈষ্ঠ এক আলোকচিত্রির সাথে নিরাপত্তা প্রধানের সংঘাত থেকেই এই ঘটনার উৎপত্তি। তারপর এক পর্যায়ে ৩০ জন সংবাদ কর্মী,আলোকচিত্রি ও ক্যামেরা অপারেটরের উপর হামলা চালায় পুলিশ।

ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার ওয়েব সাইটের লেখনীতে, ‘জ্যৈষ্ঠ এক আলোকচিত্রীর সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করে স্টেডিয়ামের দায়িত্বে থাকা নিয়াপত্তা প্রধান। ততক্ষণে গিলেস্পি ১১ রানে বাংলাদেশের তিন ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়েছেন। এমন সময় মধ্যাহ্নভোজের বিরতি দেওয়া হয়। মাঠের বাইরে চলছে সংবাদকর্মী-পুলিশের বাকবিতণ্ডা।’
তারা আরও লিখেছে, ‘সাংবাদিকদের দাবি, নিরাপত্তাপ্রধানকে আলোকচিত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে হবে। এ নিয়ে অবস্থা উত্তপ্ত হতে থাকলে এক পর্যায়ে প্রায় ৩০ জন সাংবাদিক, আলোকচিত্রী ও ক্যামেরা অপারেটরের উপর হামলা চালায় পুলিশ। রাইফেল ও জুতা দিয়ে পিষতে থাকে। পরবর্তীতে সাংবাদিকরা আশ্রয় নেয় আম্পায়ার ও রেফারি জেফ ক্রো’র ছোট্ট রুমে, যেখানে তারা দুপুরের খাবার খাচ্ছিলেন।’
এই ঘটনায় ১০ জন আহত হয়েছিল বলে জানিয়েছে তারা। তাছাড়া, একজন গুরুতর আহত সাংবাদিককে দ্রুত বিমানযোগে ঢাকায় আনার খবরও পাওয়া গেছে তাদের প্রতিবেদনে। তারপর সেই টেস্টের বাকি দিনগুলো গণমাধ্যম বয়কট করেছিল বলেও জানিয়েছে তারা।
প্রতিবেদনে এই প্রসঙ্গে বলা হয়েছে, ‘সবমিলিয়ে প্রায় ১০ জন আহত হয়। এদের মধ্যে একজনকে অজ্ঞান অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়। একজন মাথায় আঘাত পায়। একজন মাথায় বেশি আঘাত পাওয়ায় কোমায় চলে যায়, তাকে দ্রুত বিমানে করে ঢাকায় নেওয়া হয়। পরবর্তীতে প্রতিক্রিয়া হিসেবে টেস্টের বাকি দিনগুলোকে বয়কট করে দেশের পুরো গণমাধ্যম। সত্যিই তারা সেটা করে দেখিয়েছিলো।’
এদিকে, ওই ম্যাচের অন্যতম সেরা ব্যাটসম্যান আফতাব আহমেদ সেই ঘটনার স্মৃতিচারণ করে বলেছেন, ‘আমরা খুব অবাক হয়েছিলাম। আমাদের মন খারাপ করে দেওয়ার মতো লজ্জাজনক ঘটনা ঘটেছিলো। অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটাররাও তাজ্জব হয়ে যায়। রিকি পন্টিংরা শেম শেম করছিলো।’