করোনা পরিস্থিতির মধ্যে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল যখন রোগী নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে, তখন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন সিটি হাসপাতালটি এক বছর ধরে পড়ে আছে।
এক সময় এই হাসপাতালকে গরীবের হাসপাতাল বলা হত। একসময় এই হাসপাতালের বহির্বিভাগে মাত্র ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে ওষুধসহ সব সেবা পেতেন রাজশাহী নগরবাসী। আর ৭৫ টাকা দিয়ে নাম নিবন্ধন করে ১০ মাসব্যাপী সেবা পেতেন প্রসূতি মায়েরা।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগে প্রচুর রোগীর চাপ। এই করোনা পরিস্থিতির মধ্যেও ৭ জুলাই বহির্বিভাগে ৯৪০ জন রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। জরুরি সেবা নিয়েছে ৩৩৩ জন। ভর্তি ছিল ১ হাজার ১৯০ জন। এই চিত্র প্রায় দিনেরই। এই সময় সিটি হাসপাতালটি চালু থাকলে রোগীর চাপ কিছুটা হলেও কম হত এমন মন্তব্যই করছেন সবাই।
সিটি করপোরেশন সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহী নগরের রানিনগর এলাকায় এই হাসপাতালটি অবস্থিত। বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে অনেক টাকার প্রয়োজন হয়। এই প্রেক্ষাপটে ১৯৯৫ সালে ২৫ শয্যার এই হাসপাতালটি নির্মাণ করা হয়।
প্রথমে এর নামকরণ করা হয় শ্রমজীবী হাসপাতাল। এর সংস্কারকাজ শেষ হয় ১৯৯৭ সালে। ১৯৯৯ সালে নাম পরিবর্তন করে সিটি হাসপাতাল রাখা হয়। ২০০০ সালের ১৬ মে হাসপাতালের বহির্বিভাগের কার্যক্রম উদ্বোধন করা হয়। পরের বছর থেকে প্রসবসেবা ও অন্তর্বিভাগ কার্যক্রম চালু করা হয়। সে সময় ১০ টাকা দিয়ে টিকিট কেটে একজন রোগী এক সপ্তাহের ওষুধসহ চিকিৎসা নিতে পারতেন
সেলট্রনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ ফাউজুল মুবিন বলেন, তাঁরা এক বছর প্রতিষ্ঠানটি ভালো চালিয়েছেন। বহির্বিভাগে প্রথম দিকে ১০০ টাকা ফি নিয়ে রোগী দেখা শুরু হয়। পরে অন্তর্বিভাগের মানোন্নয়ন করে সেখান থেকে আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে বহির্বিভাগে বিনা মূল্যে রোগী দেখা শুরু করা হয়েছিল।
করোনা শুরু হলে গত বছরের মার্চে সিটি করপোরেশন তাঁদের হাসপাতালটি তিন মাসের জন্য বন্ধ রাখতে বলে। এরপর করোনা পরিস্থিতির কারণে চিকিৎসক পাওয়া যাচ্ছিল না। আর হাসপাতালের সামনে ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে প্রসূতি মায়েরা এই হাসপাতালে আসতে পারছিলেন না। এ জন্য সিটি করপোরেশনকে রাস্তাটি মেরামত করে দিতে বলা হয়েছিল। তারা সেটা করেনি। এসব কারণে হাসপাতালটি আবার চালু করা সম্ভব হয়নি।
বার্তা বাজার/এস