দেশে আগুনে মৃত্যুর ঘটনায় সাজার নজির নেই

দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় আগুন লেগে বহু শ্রমিক নিহতের খবর প্রায়ই শোনা যায়। এসব ছোট-বড় আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হলেও মামলায় সাজা হওয়ার নজির নেই। মালিকপক্ষের গাফিলতিতে দেশে একের পর এক শিল্প কারখানায় আগুনের ঘটনা ঘটলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মামলা হয়নি। আবার আলোচিত যেসব দুর্ঘটনায় মামলা হয়েছে তার বেশিরভাগ তদন্ত চলছে কচ্ছপ গতিতে। আর দীর্ঘ তদন্তের পর যেসব মামলার অভিযোগপত্র আদালতে পেশ হয়েছে সেগুলোরও বিচার চলছে বছরের পর বছর।

২০১০ সালের ৩ জুন পুরান ঢাকার নিমতলীতে রাসায়নিক গুদামে আগুনে পুড়ে অঙ্গার হন অন্তত ১২৬ জন। এ প্রাণহানির ঘটনায় কোনো মামলাই হয়নি। শুধু নিমতলি ট্র্যাজিডিই নয় গত ৩ দশকে এমন আরো কয়েকটি আগুনের ঘটনায় করা হয়নি কোনো মামলা।

বিচার দূরের কথা ১১ বছরে কোনো মামলা না হওয়ায় ক্ষুব্ধ নিমতলীর আগুনে পরিবারের ৬ সদস্যকে হারানো মোহাম্মদ রিপন।

১৯৯৭ সালে মিরপুরের তামান্না গার্মেন্টে আগুনে প্রাণ যায় ২৭ জনের। মিরপুর-১ নম্বরে মাজার রোডের রহমান অ্যান্ড রহমান অ্যাপারেলসে মারা যান ২২ শ্রমিক। আর ২০০০ সালের নরসিংদীর চৌধুরী নিটওয়্যার লিমিটেডে ৫৩ শ্রমিক আগুনে পুড়ে মারা গেলেও এসব ঘটনায় কোনো মামলা হয়নি। শুধু তাই নয় বিভিন্ন সময় শিল্প কারখানা, বাণিজ্যিক ভবনে মালিকের গাফিলতিতে আগুনে পুড়ে বহু মানুষ মারা গেলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই মামলা দায়ের হয়নি।

কিছু দুর্ঘটনায় মামলা হলেও আসামিরা কিছুদিন পর জামিনে বের হয়ে গেছেন। আর মামলাগুলো এখনও তদন্তেই আটকে আছে। এর মধ্যে ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে পুরান ঢাকার চুড়িহাট্টায় ৭১ জন মারা যাওয়ার ঘটনায় এখনো তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি পুলিশ। ওই বছরের মার্চে বনানীর এফআর টাওয়ার আগুন দুর্ঘটনারও তদন্ত শেষ হয়নি। চলতি বছর ২৩ এপ্রিল আরমানিটোলায় রসায়নিক গুদামে আগুনে ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দিতে পারেনি পুলিশ।

ডিএমপি কমিশনার মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জানান, তদন্ত যেন দ্রুত শেষ হয় এবং দোষীরা যেন সাজা পায় সে বিষয়টি দেখা হবে।

২০১২ সালের নভেম্বরে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরের তাজরীন ফ্যাশনস কারখানার আগুনে মারা যান অন্তত ১১২ জন। ওই দুর্ঘটনার বিচারকাজ ৮ বছরেও শেষ হয়নি। বিচারিক আদালতে আগুনের কোনো মামলায় আসামির সাজা হওয়ারও নজির নেই।

ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের প্রধান কৌঁসুলী আবদুল্লাহ আবু জানান, তদন্ত কাজ শেষ হতেও অনেক সময় বিলম্ব হয়। আবার অনেক সময় সাক্ষীরা ঠিকমতো আদালতে আসেন না। সাক্ষীরা না আসার কারণে মামলার দীর্ঘসূত্রিতার সৃষ্টি হয়েছে।

এসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আদালতের নজরে আনার কথাও জানালেন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের প্রধান কৌঁসুলী।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর