দেশে করোনার মহাসংকটের সময়ও বিএনপি মানুষের পাশে নেই: কৃষিমন্ত্রী

দেশের সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের মানুষের জীবনের সুরক্ষায় ও জীবিকা নিশ্চিতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। পৃথিবীর অনেক দেশ এখনও করোনার ভ্যাকসিন সংগ্রহ করতে পারেনি। সেখানে প্রধানমন্ত্রী শুরুতেই দেশের মানুষের জন্য করোনার ভ্যাকসিনের ব্যবস্থা করেছেন। মাঝখানে কিছুটা সংকট হলেও তা দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণের ফলে সংকট কেটে গেছে। এখন আবার সারাদেশে ভ্যাকসিন দেয়া শুরু হয়েছে। একই সাথে দেশেও ভ্যাকসিন তৈরির চেষ্টা চলছে। আশা করছি, এটিতেও আমরা সফল হব বলে মন্তব্য করেছেন কৃষিমন্ত্রী ড. আব্দুর রাজ্জাক এমপি।

বিএনপি করোনার এই মহাদুর্যোগেও মানুষের পাশে নেই উল্লেখ করে কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, দেশে করোনা ভাইরাস মহাসংকটের সময়ও বিএনপি মানুষের পাশে নেই। শুধু সরকারের সমালোচনায় ব্যস্ত ও সরব রয়েছে। এর সাথে দেশের তথাকথিত কিছু বুদ্ধিজীবীও মানুষের পাশে না থেকে সরকারের সমালোচনায় মুখর রয়েছে। তাদেরকে এই সমালোচনা বাদ দিয়ে সংকট মোকাবেলায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে।

কৃষিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষি বাংলাদেশের অর্থনীতির প্রাণ। কৃষির উন্নয়ন হলেই দেশের সার্বিক উন্নয়ন হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার কৃষিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। ক্রমাগতভাবে কৃষিবান্ধব নীতি গ্রহণ ও তা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। সার, সেচ, বীজসহ কৃষি উপকরণ সহজলভ্য করে কৃষকের দোরগোড়ায় অব্যাহতভাবে পৌঁছে দিচ্ছে।

শ্রমিক সংকট নিরসন ও উৎপাদন খরচ কমাতে কৃষকদেরকে দেয়া হচ্ছে কৃষিযন্ত্র। এর ফলে আগামীর কৃষি হবে সমৃদ্ধ ও দুর্বার। যার মাধ্যমে কৃষক ও গ্রামীণ মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটবে।

মন্ত্রী মঙ্গলবার ( ১৩ জুলাই) তাঁর ঢাকা সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি টাঙ্গাইলের মধুপুর উপজেলায় কৃষকদের মাঝে কৃষিযন্ত্র বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় একথা বলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের এনএটিপি-২ প্রকল্পের আওতায় সিআইজি কৃষকদেরকে কৃষিযন্ত্র প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে এনএটিপি-২ প্রকল্পের পরিচালক আজহারুল ইসলাম সিদ্দিকী, টাঙ্গাইলের উপপরিচালক আহসানুল বাসার, মধুপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার শামীমা ইয়াসমিন, পৌরসভার মেয়র সিদ্দিক হোসেন খান, উপজেলা পরিষদের সদস্যবৃন্দ ও উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের সময়োপযোগী উদ্যোগের ফলে করোনাকালে দেশে খাদ্য নিয়ে কোন সংকট হয়নি উল্লেখ করে ড. রাজ্জাক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে সামনের দিনগুলোতেও কৃষি উৎপাদন কমার কোন সুযোগ নেই। করোনার চলমান ঢেউয়ে সংক্রমণ দ্রুত বাড়ছে। তারপরও আমরা আশা করছি, দেশে ভবিষ্যতে খাদ্য সংকট হবে না।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ এখন আর ভিক্ষুকের জাতি না। বিদেশি সাহায্যের উপর বাংলাদেশ এখন আর নির্ভরশীল না; বরং আত্মনির্ভরশীল। একসময় দুর্যোগ হলেই বাংলাদেশকে অন্যের কাছে হাত পাততে হতো।কিন্তু এখন শত প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও বাংলাদেশকে পৃথিবীর কারও কাছে হাত পাততে হয় না।

মন্ত্রী আরও বলেন, আমাদের জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু উপলব্ধি করেছিলেন, ভিক্ষুকের জাতির কোন সম্মান থাকে না। সারা পৃথিবীতে মাথা উঁচু করে, সম্মান নিয়ে চলতে হলে স্বনির্ভর হতে হবে। কারো নিকট হাত পাতলে চলবে না। তাই তিনি বাংলাদেশকে সব দিক দিয়ে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার উদ্যোগ গ্রহণ করেছিলেন।

আজকে খুবই আনন্দের বিষয় যে, তাঁর সুযোগ্যকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশ আজ সর্বক্ষেত্রে মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। শুধু দেশের উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা নয়। বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগেও বাংলাদেশকে কারো কাছে হাত পাততে হয় না। কারও সাহায্যের উপর নির্ভরশীল হতে হয় না।

হাসান সিকদার/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর