গৃহবধূর উপর হামলা: মামলা না নেওয়ার অভিযোগ পুলিশের বিরুদ্ধে

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলায় গত ১০ জুলাই দুর্বৃত্তদের হামলায় গৃহবধূর হাত ভাঙার ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে অভিযোগ করলেও মামলা না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে পুলিশের বিরুদ্ধে। উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করা হচ্ছে বলে দাবি করছেন ভুক্তভোগীরা।

জানা যায়, উপজেলার কচুবাড়িয়া গ্রামের আবুল হাসেমের পুত্র কামাল হোসেন এবং স্থানীয় চাঁন মিয়ার সাথে জমিজমা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের সূত্র ধরে, গত ৭ জুলাই এই হামলার ঘটনা ঘটে। ঘটনার দিন চাঁন মিয়ার জামাতা এবং কচুবাড়িয়া গ্রামের মৌজে আলীর পুত্র মিজান নিজেদের লোক ও অপরিচিত ১০/১৫ জন লোক নিয়ে কামাল হোসেন নতুন ঘরের কাঠামো ভেঙে ফেলে। এতে বাঁধা দিলে দুর্বৃত্তরা কামাল ও তার স্ত্রী রোকেয়া বেগমকে খুন করার উদ্দেশ্যে হামলা চালায় তারা। হামলায় রোকেয়া বেগমের বাম হাত ভেঙে যায় এবং কামাল হোসেনকে বেধড়ক মারধর শুরু করলে পুকুরে ঝাপ দিয়ে কোনো রকমে প্রাণ বাঁচান তিনি।

ঘটনার পর স্থানীয়রা আহতদের উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে আহত রোকেয়া বেগমকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করেন সেখানের কর্তব্যরত চিকিৎসক।

ভুক্তভোগীরা জানান, আমরা গুরুতর হামলার শিকার হয়েও মিথ্যা মামলায় পালিয়ে বেড়াচ্ছি। অন্যদিকে অভিযুক্ত মিজান আমাদের বাড়ির অন্যান্য সদস্যদের ওপর হামলা করে বাড়িঘর দখলের পায়তারা চালাচ্ছে।

সাবেক শিল্প মন্ত্রী ও ঝালকাঠির সংসদ সদস্য আমির হোসেন আমুর কথিত ধর্ম ছেলে পরিচয় দিয়ে এলাকায় নৈরাজ্য সৃষ্টি করে আসছে মিজান। অবৈধভাবে জমি দখল, মিথ্যা মামলা দিয়ে নিরীহ মানুষকে হয়রানি, কথায় কথায় মারধর, স্থানীয় ও বহিরাগত লোকজন নিয়ে এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েমসহ নানা অভিযোগও আছে তার বিরুদ্ধে।

মঠবাড়িয়া থানার অফিসার ইনচার্জ নূরুল ইসলাম বাদলের মন্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, “কচুবাড়িয়ায় গৃহবধূর হাত ভাঙার ঘটনায় ১০ জুলাই একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। মামলার বিষয়টি যাচাই বাছাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান মিরাজ মিয়া বলেন, “জমিজমা সংক্রান্ত বিরোধ নিয়ে উভয় পক্ষ চাইলে স্থানীয় পর্যায়ে সমাধানের জন্য আমরা বসতে পারি। কিন্তু হামলার ঘটনায় প্রশাসনের ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

বার্তা বাজার/ জে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর