কোরবানীর আর মাত্র ৮ দিন বাকি। এরই মধ্যে গরু মোটা তাজা করণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন মাদারীপুরের খামারীরা। অন্যান্য বছর ঈদের ২/৩ সপ্তাহ আগ থেকে পশুর হাট মেলতে শুরু করলেও এ বছর করোনার কারনে হাট বন্ধ রয়েছে। এতে দুশ্চিন্তায় পড়েছে ব্যবসায়ী ও খামারীরা।গৃহস্থরাও গরু নিয়ে পড়েছে বিপাকে।
খামারেও উল্লেখযোগ্য কোন ক্রেতা না আসায় খামারের শ্রমিকরাও তাদের বেতন পাওয়া নিয়ে রয়েছে শঙ্কায়। বেশি লাভের আশায় গৃহস্থ ও খামারীরা কোন কেমিক্যাল ছাড়াই দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটা তাজা করায় খরচ পড়েছে বেশি। এদিকে অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমেও বেচা কেনায় তেমন সাড়া পাচ্ছেনা তারা। লোকসান এড়াতে পশু বিক্রিতে ক্রেতাদের আকর্ষনীয় সুযোগ সুবিধারও ঘোষণা দিয়েছে খামারীরা।কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করে আগামী ১৪ তারিখের পর সীমিত আকারে গরুর হাট বসানোর আশ্বাস দিয়েছেন জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা।
জানা গেছে, মাদারীপুর জেলায় এ বছর ছোট বড় মিলিয়ে কোরবানীর জন্য হৃষ্টপুষ্টকরণ খামারের সংখ্যা রয়েছে ২ হাজার ৯৮টি। আর ডেইরিসহ মোট খামারের সংখ্যা ১৬ হাজার। জেলায় কোরবানীর জন্য চাহিদার চেয়েও বেশি পশু রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় বন্ধ রয়েছে মাদারীপুরের সকল পশুর হাট। এ বছর খামারীদের এবং গৃহস্থদের গরু কেনাবেচা অন্য বছরের তুলনায় অনেক কম। শুধু নামীদামী কিছু গরু দেখতে আসে উৎসুক জনতা। গৃহস্থরা তাদের উৎপাদিত পশু বিক্রি নিয়েও চরম উৎকন্ঠার মধ্যে রয়েছে। বৈশ্বিক মহামারী করোনা ভাইরাস ও গত বছরের আকস্মিক বন্যায় খামারী ও গৃহস্থদের যে ক্ষতি হয়েছে অনেকেই তা পুশিয়ে উঠতে পারেনি। লোকসান এড়াতে পশু বিক্রিতে ক্রেতাদের আকর্ষনীয় সুযোগ সুবিধারও ঘোষণা দিয়েছে খামারীরা। খামারের গরু বিক্রি করতে না পারলে শ্রমিকদের বেতন পরিষদ ও গৃহস্থদের চরম লোকসানের মধ্যে পড়তে হবে।
মাদারীপুর সদর উপজেলার ধুরাইল ইউনিয়নের দাশেরচর গ্রামের আদর্শ খামারী সানজিদা ইসলাম জানান, করোনার কারনে কোরবানীর হাট না মেলায় খামারের গরু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছি। অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে গরু বিক্রিতে তেমন সাড়া পাইনি। আর গ্রামাঞ্চলে অনলাইনে কেনাবেচা এগুলো অনেকেই ভালোভাবে বুঝেনা।
মাদারীপুর সদর উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নের চরনাচনা গ্রামের কামাল মোড়ল জানান, দীর্ঘ ১০ বছর যাবৎ খামারে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু লালন পালন করা হচ্ছে। এ বছর ২৭ মন ওজনের বস নামের গরুটি দেখার জন্য জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে লোকজন এসে ভীড় করেছে। সপ্তাহ খানেক আগে গরুটির দাম ৬ লাখ টাকা উঠেছিল। কিন্তু করোনার কারনে গরুর হাট না মেলায় সেই গরু তিনি ৪ লাখ টাকায় বিক্রি করে দিয়েছি।
জেলার রাজৈর উপজেলার বদরপাশা গ্রামের আদর্শ পশু পালন কেন্দ্রের মালিক মাস্টার আব্দুর রশিদ আজাদ জানান, আমার খামারে কোরবানীর যোগ্য ৬০টি গরু রয়েছে। গরুকে সবুজ ঘাস খাওয়ানো হয়। খামারের পাশেই সাড়ে সাত বিঘা জমির উপর নেপিয়ার জাতের ঘাস লাগানো হয়েছে। গরু প্রতি প্রতিদিন প্রায় ২শ টাকা খরচ হয়। দৈনিক মোট খরচ হয় ১৬ হাজার টাকা। খামারে ৬ থেকে ৮ জন শ্রমিক প্রতিদিন কাজ করে। গত বছরের বন্যা ও করোনায় আমার খামারের মারাত্মক ক্ষতি হয়েছে। এবার কোরবানীর ঈদে আমার গরুগুলো বিক্রি করতে না পারলে শ্রমিকদের বেতন দিতেই হিমসিম খেতে হবে।
মাদারীপুর জেলা প্রানী সম্পদ কর্মকর্তা ডাঃ এ.কে.এম আনোয়ারুল হক জানান, মাদারীপুর জেলায় কোরবানীর যোগ্য গরুর চাহিদা রয়েছে ৩৪ হাজার ১২৫টি। আমোদের উৎপাদন আছে ৩৬ হাজার ২২৩টি। চাহিদা পূরণ করে সারপ্লাস থাকবে। আমাদের খামারী পর্যায়ে মোটাতাজাকরণ করছে ৮হাজার ২৬০টি এবং পারিবারিক পর্যায়ে ২৭ হাজার ৯৭৫টি। ৬টি অনলাইন প্লাট ফর্মের মাধ্যমে খামারীদের গরু বেচাকেনা হচ্ছে। কোভিড-১৯ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসলে জেলা প্রশাসকের সাথে আলাপ করে আগামী ১৪ তারিখের পর সীমিত আকারে গরুর হাট বসানোর চিন্তা ভাবনা রয়েছে। এদিকে কোরবানির গরু মোটাতাজাকরণে যাতে অসদুপায় অবলম্বন করতে না পারে এ জন্য ২৪টি ভেটেরিনারী মেডিকেল টিম কাজ করছে।
আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/পি