জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে করোনা সংক্রমনের বৃদ্ধির পাশাপাশি বেড়েই চলছে ঘরে ঘরে জ্বর, ঠান্ডা, কাশিসহ নানা রকম রোগের সংখ্যা। ফার্মেসিগুলোতে দেখা দিয়েছে প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধের সংকট। এতে করে সাধারণ রোগীদের ভোগান্তি চরমে। ১০ টাকার নাপা ঔষধ বিক্রি হচ্ছে ২০-৩০ টাকায়। বেশি টাকা দিয়েও ফার্মেসিগুলোতে মিলছে না প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতাল গেট, আরামনগর বাজার, শিমলা বাজার, বাউসি বাজার, স্টেশন এলাকা, সিংগুয়া মোড়, তারাকান্দি গেট পাড় এলাকা, আওনা পুরাতন ঘাট, মহাদানের চেরাগালির মোড়, পিংনা বাজারসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধি পাওয়ায় সারা দেশে চলছে লকডাউন। উপজেলায় করোনা সংক্রমণ বেড়েই চলছে। পাশাপাশি প্রায় বাসা বাড়ীতে দেখা দিচ্ছে জ্বর, ঠান্ডা, কাশির। হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। সেই সাথে বাড়ছে প্রয়োজনীয় ঔষধের চাহিদা। করোনা আক্রান্ত রোগীর পাশাপাশি সাধারণ রোগীর প্রয়োজন প্যারাসিটামল জাতীয় ঔষধ।
কিন্তু ফার্মেসিগুলোতে মিলছে না এ জাতীয় ঔষধ। কিছু ফার্মেসিতে পাওয়া গেলেও তা দ্বিগুন দাম দিয়ে কিনতে হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগীদের। তবে সরবরাহ কম থাকায় এ সংকট দেখা দিয়েছে বলে জানান ফার্মেসি মালিকরা।
আরামনগর বাজারে ঔষধ ক্রয় করতে আসা রবিউল ইসলাম, বেলাল মিয়া, রহিমা বেওয়াসহ আরো অনেকেই বলেন, বাড়ীতে একের পর এক সবাই ঠান্ডা জ্বরে ভোগছে। বাজারে নাপা ঔষধ কিনতে আইছি দাম চায় বেশি। ১০ টাকার ঔষধ ২০-৩০ টাকা দিয়েই নিতে হলো।
বিভিন্ন এলাকায় ফার্মেসিদের সাথে কথা হলে তারা বলেন, করোনা সংক্রমণ বৃদ্ধির সাথে সাথে জ্বর, সর্দি, ঠান্ডা কাশির রোগীও বেড়েই চলছে। ঔষধ কোম্পানিগুলো নাপা জাতীয় ঔষধ সরবরাহ কমিয়ে দিয়েছে। তাই সংকট দেখা দিয়েছে। বাহির থেকে বেশি দামে কিনতে হয় এজন্য আমাদের কেও বেশি দামে বিক্রি করতে হয়।
উপজেলার দায়িত্বে থাকা সিনিয়র অফিসার ফরিদ তালুকদার জানান, বেশ কিছু দিন থেকেই নাপা ঔষধের সংকট। চলতি মাসের শুরু থেকে সেটা আরো বেশি আকার ধারন করেছে। উৎপাদনের চেয়ে বাজারে চাহিদা বেশি থাকায় সরবরাহ করা যাচ্ছে না। তবে ফার্মেসিগুলোতে কিছু কিছু ঔষধ সরবরাহ করা হচ্ছে। ফার্মেসিগুলো বেশী দামে নাপা ঔষধ বিক্রি করছে সেটা শুনেছি।
এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্মকর্তা গাজী রফিকুল হক বলেন, এ বিষয়টি নিয়ে আমরা ওষুধ কম্পানির প্রতিনিধিদের সাথে আলোচনা করেছি। এছাড়া ডাক্তারদের কে বলে দেয়া হয়েছে যে ওষুধ নেই সেটার পরিবর্তে ঐই জাতীয় অন্য ওষুধ লিখে দিতে।
মোস্তাক আহমেদ মনির/বার্তাবাজার/পি