নিয়তি: একযুগ পাঠদানের পর মাস্কের ফেরিওয়ালা হলেন শিক্ষক

কাজী মো. আবু তাহের ( ৩৫)। পেশায় ছিলেন একজন শিক্ষক। করোনায় আর্থিক টানাপোড়নে মাস্ক নিয়ে রাস্তায় বের হয়েছেন তিনি। বৃদ্ধ মা-বাবা, স্ত্রী ও সন্তানদের মুখে খাবার তুলে দিতে হাটে-বাজারে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন মাস্ক। ওই মাস্ক বিক্রির টাকা চলছে পাঁচ সদস্যের সংসার।

রোববার (১১ জুলাই) দুপুরে বাউফল উপজেলার কালাইয়া বন্দরে হেটে হেটে পথচারী ও দোকানিদের কাছে মাস্ক বিক্রি করার এমন দৃশ্য চোখে পড়ে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ওই শিক্ষক পটুয়াখালী জেলার দশমিনা উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের গছানী গ্রামের কাজী মোজ্জামেল হকের ছেলে। গত ২০০৯ সাল থেকে দশমিনা উত্তর লক্ষীপুর গাজী বাড়ি স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় জুনিয়র মৌলভী পদে শিক্ষকতা করছেন। তবে পাচ্ছেন না বেতন ভাতা। দশমিনা বাজারে চায়ের দোকানের উপার্জনের টাকায় চলত সংসার। উপার্জনের একমাত্র চায়ের দোকান করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান লকডাউনে বন্ধ থাকায় বিপাকে পড়েন তিনি। উপয়ান্তর না পেয়ে হাটে-বাজারে মাস্ক বিক্রির পথ বেছে নেন তিনি। মাস্ক বিক্রির টাকায় টেনেটুনে চলছে সংসার।

শিক্ষক আবু তাহের জানায়,‘ ঢাকা থেকে পাইকারি মূল্যে মাস্ক কিনে আনে তিনি। বক্স প্রতি মাস্ক বিক্রি করেন ১২০ থেকে ১৩০ টাকায়। প্রতি বক্সে ১০থেকে ২০ টাকা লাভ হয়। দৈনিক প্রায় ৩০-৪০বক্স মাস্ক বিক্রি হয়। তবে ঢাকা থেকে মাস্ক আনতে বিড়ম্বনা পোহাতে হচ্ছে তাঁর। যোগাযোগ বন্ধ থাকায় ক্রয় মূল্য বেশি পড়ছেন। অনেক সময় হতে হচ্ছে প্রতারণার শিকার। টাকা নিয়ে ঢাকা থেকে মাস্ক না পাঠিয়ে উল্টো ফোন বন্ধ করে রাখছেন প্রতারক চক্র।

শিক্ষক কাজী আবু তাহের বার্তা বাজারকে বলেন,‘ স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী মাদ্রাসায় শিক্ষকতা করছি প্রায় ১২বছর। সরকার বেতন না দেওয়ায় চায়ের দোকান করে সংসার চালাচ্ছিলাম। লকডাউনে তাও বন্ধ। সংসারে মা-বাবা, স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে। বড় মেয়ে চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।

ছোট বাচ্চার বয়স দুই বছর। এদের মুখে খাবার তুলে দিতে পাড়ছিলাম না। বাধ্য হয়ে পায়ে হেটে হেটে দশমিনা ও বাউফল উপজেলার বিভিন্ন হাটে বাজারে মাস্ক বিক্রি করছি। যা উপার্জন হয় তা দিয়ে কোন মতে সংসার চলছে।

তিনি আরও বলেন,‘গত বছর সরকারি প্রণোদনার জন্য তালিকা দিয়েছি। পাইনি। এবারও দিয়েছি। পাবো কিনা জানি না।

বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর