দৃশ্যমান হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে নদীর তীর রক্ষা কার্যক্রম
নোয়াখালীর বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ায় অব্যাহত মেঘনার ভাঙনে বিলীন হয়েছে হাজার হাজার ঘর বাড়ি, শত শত বাজার, স্কুল, মাদরাসা, মসজিদ ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনাসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন। তিন হাজার বছরের পুরোনো প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পরিপূর্ণ এই দ্বীপে সাড়ে সাত লক্ষ লোকের বসবাস। বাপ-দাদার ভিটেমাটি রক্ষায় নিজস্ব অর্থায়নে প্রাথমিকভাবে ৭শ মিটার নদীর তীরের ভাঙন রোধে কাজ শুরু করেছে স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন।
রবিবার সকালে নলছিরা ঘাটে গেলে দেখা যায় ভাঙন রোধে গাজীরপুরের একটি কারখানা থেকে চার ধাপে আনা ৪৪ হাজার জিও ব্যাগের মধ্যে ভাসমান প্লটনের মাধ্যমে ৩৫হাজার ব্যাগ ডাম্পিং সম্পর্ন হয়েছে। প্রতিদিন প্লেসিং ও ডাম্পিং এর কাজ চলছে। ক্রমান্বয়ে দৃশ্যমান হচ্ছে নিজস্ব অর্থায়নে নদীর তীর রক্ষা কার্যক্রম। দ্বীপের লাখো মানুষের স্বপ্ন এখন বাস্তবায়নের দ্বারপ্রান্তে।
সরকারের পক্ষ থেকে প্রায় ২২শ ৩২ কোটি টাকা বায়ে নদী ভাঙন রোধের উদ্দ্যোগ গ্রহণ করা হলেও করোনা মহামারির কারণে স্থগিত হয়ে যায় প্রকল্পটি। গত ৩০ এপ্রিল স্থানীয় আফাজিয়া বাজারে বিভিন্ন পেশার প্রায় সহশ্রাধীক মানুষের উপস্থিতিতে একটি সভার আয়োজন করা হয়। সভায় উপজেলা আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক মহি উদ্দিন আহম্মদকে সভাপতি ও সেচ্ছাসেবকলীগ সভাপতি মহি উদ্দিন মুহিনকে সাধারণ সম্পাদক করে গঠন করা হয় ৫১সদস্য বিশিষ্ট একটি সেচ্ছাসেবী সংগঠন। নাম দেওয়া হয়েছে ‘হাতিয়া নদী শাসন ও তীর সংরক্ষন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন’। শুরু হয় নদী ভাঙন রোধের কার্যক্রম। এর পর থেকে বিভিন্ন পেশার মানুষ তাদের আর্থিক অনুদান কমিঠির নিকট জমা দেওয়া শুরু করে। স্থানীয় লোকজন ও জনপ্রতিনিধি ছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেকে আর্থিক সহযোগীতা করছে এই মহৎ কাজে।
গত বছর নদী ভাঙন এলাকায় ২শ ৯৭মিটারে পরীক্ষামূলক কিছু জিও ব্যাগ পেলে ভাঙন রোধে কাজ করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। তাতে ওই এলাকায় ভাঙন অনেকটা রোধ হওয়ায় বিষয়টি আশা জাগিয়েছিল স্থানীয়দের। তাই আফাজিয়া বাজারের ব্যবসায়ীরা নদীর তীর ভাঙন রোধে কাজ করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন। তাদের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এ কাজে সহযোগিতায় এগিয়ে আসনে সাবেক সাংসদ ও হাতিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোহাম্মদ আলী, স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক, পরিবহন মালিক-শ্রমিক, প্রবাসী, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিসহ দল-মত নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী জামিল আহম্মেদ পাটোয়ারী বলেন, হাতিয়া নদী শাসন ও তীর সংরক্ষন কমিটি প্রতিনিয়ত আমাদের সাথে যোগাযোগ করছেন। আমাদের পক্ষ থেকে তাদের সর্বাত্বক সহযোগিতা করা হচ্ছে। সরকারের পক্ষ থেকে যে প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে করোনা কালীন সময়ের কারণে তা বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাঙন রোধে সেই প্রকল্পের কার্যক্রম ও শুরু হবে।
হাতিয়া নদী শাসন ও তীর সংরক্ষন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্রতিনিধিরা বলেন, নদী ভাঙন রোধে প্রাথমিকভাবে আমরা যে প্রকল্প হাতে নিয়েছি তাতে প্রায় ৪কোটি টাকার প্রয়োজন। বর্তমানে স্থানীয় লোকজন নিজেদের অর্থায়নে কাজ করলেও তা পর্যাপ্ত নই। হাতিয়ার অনেক মানুষ দেশে এবং বিদেশে খুব ভালো অবস্থানে আছেন, হাতিয়ার ভাঙন রোধে দল-মত নির্বিশেষে সকল মানুষকে আর্থিক সহায়তার মাধ্যমে এগিয়ে আসা প্রয়োজন।
জিল্লুর রহমান রাসেল/বার্তাবাজার/পি