বঙ্গবন্ধু আশ্রয়ণ প্রকল্পে সেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাঁধা, বন্ধ নির্মাণ কাজ

মাদারীপুরের রাজৈরে এক সেচ্ছাসেবক লীগ নেতার বাঁধায় বঙ্গবন্ধু আশ্রয়ণ পল্লীর নির্মাণ কাজ বন্ধ রেখেছে প্রশাসন। অভিযোগ ১০ হাজার সরকারি ইট চুরিসহ দাঙ্গাহাঙ্গামা সৃষ্টি করায় কাজ স্থগিত রয়েছে। অভিযুক্তদের দাবি গুচ্ছগ্রাম করলে বড় ক্ষতি হয়ে জাবে তাদের। তবে উর্ধতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ঘর নির্মাণ করা হবে বলে জানান ইউএনও আনিসুজ্জামান।

প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে প্রথম তালিকাগুলো থেকে বাদ পড়া অর্ধশতাধিক অসহায় পরিবারকে জায়গাসহ ঘর দেওয়া হবে। এ উদ্দেশ্যে বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর কাজ শুরু করেছে উপজেলা প্রশাসন। এরই ধারাবাহিকতায় উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়নের ৭২নং সিরাজকাঠি মৌজায় সেনখালি গ্রামের ৪ একর ৫ শতাংশ সরকারি জায়গা দখলমুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। পরে ওই জমিতে লাগানো গাছগুলো সরানোর জন্য দখলদারদের নির্দেশ দেয়া হয়। এতেই ফুসে উঠেন তারা।

একপর্যায়ে দখলকারীরা কিছু অংশের গাছ কেটে নিয়ে জায়গা পরিস্কার করে দেয়। পরবর্তীতে খাল ভরাট করে গুচ্ছগ্রাম করা হচ্ছে বলে উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়। এমনকি ওই খালটি সচল না থাকলে হাজার হাজার একর ফসলী জমিতে চাষাবাদ ব্যহত হওয়ারও অভিযোগ আনেন তারা। অথচ দীর্ঘ ৪৮ বছর আগে বনের বাড়ি-সেনখালি খালটি পরিত্যাক্ত ঘোষণা করায় অচল অবস্থায় রয়েছে। এরপর একাধিকবার প্রকল্পের কজে বাধা দেন একই ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক নিতিষ সরকার (বিচরণ) বাড়ৈ ও তার লোকজন।

এ নিয়ে গত (২৫ জুন) শুক্রবার বিকালে স্থানীয় বাজারে আমগ্রাম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপু ও বিচরণ বাড়ৈর লোকজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি ও হাতাহাতি হয়। একপর্যায়ে বিচরনের লোকজন ইউনিয়ন পরিষদে হামলা চালিয়ে ভাংচুর করে এবং চেয়ারম্যানকে অবরুদ্ধ করে রাখে। পরে তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনার পর থেকেই প্রকল্পের কাজ স্থগিত রাখা হয়।

এ ব্যাপারে বিচরণের সহযোগীরা বলেন, ওই খালের পানি না পেলে জমিতে ফসল নষ্ট হয়ে জাবে। এতে আমাদের অনেক ক্ষতি হবে। তাই আমরা গুচ্ছগ্রাম চাই না।

অভিযুক্ত আমগ্রাম ইউনিয়নের সেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক বিচরণ বাড়ৈ বলেন, খাল ভরাটের বিষয় প্রতিবাদ করায় আমাকে চেয়ারম্যানের লোকজন মারধর করেছে। আমরা চাই গুচ্ছগ্রামের কাজটা যেন বন্ধ করা হয়।

আমগ্রাম ইউনিয়ন আ.লীগের যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক বিরেদ্রনাথ বাড়ৈ বলেন, বঙ্গবন্ধু পল্লী নিয়ে যারা বাধা সৃষ্টি করেছে তারা সাম্প্রদায়িক। ওখানে পূর্বের থেকেই কিছু লোক সন্ত্রাসী তান্ডপ চালিয়ে জায়গাটা দখল করে খাইতো। এই প্রকল্পের জন্য সরকার যখন মাইপা গেছে, তখন তারা গাছ কেটে নিয়েছে। ওই জায়গার কোন গাছ সরকার নেয় নাই। এছাড়া ওই জায়গাটায় দিনে-দুপুরে চুরি হয়। তবে বঙ্গবন্ধু পল্লী হলে ওই স্থানটা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি দিনে দুপুরে চুরি-ডাকাতিও বন্ধ হবে। তাই আমরা বঙ্গবন্ধু পল্লী চাই।

উপজেলার আমগ্রাম ইউনিয়ন ভূমি উপ-সহকারী কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, ৭২নং সিরাজকাঠি মৌজার সেনখালিতে দুইটি দাগে মোট ৪ একর ৫ শতাংশ সরকারি জমি রয়েছে। এর ভিতর থেকে ৮০ শতাংশ জায়গা প্রজেক্টের জন্য নিয়েছি। বাকি অংশে খাল খনন ও পাকা রাস্তা করা হবে। তারপরও বিচরন ও পরিমলসহ স্থানীয় কয়েকজন লোক গিয়ে কাজ বন্ধের জন্য আমাকে হুমকি-ধামকি দিয়েছে। এমনকি ঘর তৈরির জন্য আনা ৬০ হাজার ইটের মধ্যে থেকে প্রায় ১০ হাজার ইট চুরি করে নিয়ে গেছে তারা।

উপজেলার আমগ্রাম ইউপি চেয়ারম্যান জাহিদুর রহমান টিপু জানান, ওইখানে একটা আশ্রয়ণ প্রকল্প পক্ষ চায় এবং আমার কাছে তারা ৩’শ ৬৮ জনের স্বাক্ষরিত একটা লিখিত দিয়েছে। কারণ ওখানে বাসস্থান হলে বিদ্যুৎ, পাকা রাস্তা, কর্মসংস্থান ও বিশুদ্ধ পানিসহ বিভিন্ন সরকারি সুবিধা পাবে তারা। কিন্তু আরেকটা পক্ষ সরকারি জায়গা দখল করে থাকায় এ প্রকল্প চায় না। এজন্য আমার উপর সম্প্রদায়িক তকমা লাগিয়ে আমাকে দোষারোপ করা হচ্ছে। আমি বঙ্গবন্ধু পল্লি নির্মাণ কমিটির কেউ না। এটা বাস্তবায়ন করে উপজেলা প্রশাসন।

রাজৈর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আনিসুজ্জামান বলেন, আপাতত ঐখানে প্রজেক্টের কাজটি স্থগিত রেখেছি। এ বিষয়ে সব কিছু উর্ধতন কর্মকর্তাদের জানিয়েছি। এখনো তারা কোন সিদ্ধান্ত জানাননি। পরবর্তীতে তারা যে নির্দেশনা দেবে আমরা সেই অনুযায়ী কাজ করবো।

আকাশ আহম্মেদ সোহেল/বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর