৬ বছরে শিল্পকারখানায় ৬ হাজার আগুন, নিহত প্রায় ৬শ’ শ্রমিক
গত ৬ বছরে দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় ৬ হাজার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে প্রায় ৬শ’ মানুষের। যাদের বেশিরভাগই ছিল শ্রমিক। এসব ছোট-বড় আগুনের ঘটনায় তদন্ত কমিটি হয়। কমিটি প্রতিবেদনও দেয়। তবে সে অনুযায়ী কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। ফলে বার বার দুর্ঘটনার বলি হন নিরীহ শ্রমিকরা।
২০১২ সালে আশুলিয়ার নিশ্চিন্তপুরে তাজরিন ফ্যাশন নামের পোশাক কারখানায় ভয়াবহ আগুন কেড়ে নেয় শত শ্রমিকের প্রাণ। আগুনের লেলিহান শিখার মাঝে শ্রমিকদের বাঁচার আকুতি আর কান্না, নাড়া দেয় সারা বিশ্বকে।
গত বৃহস্পতিবার এমনই আরেক আগুনের ঘটনা ঘটে নারায়ণগঞ্জ রুপগঞ্জে সেজান জুসের কারখানায়। তালাবদ্ধ কারখানায় পুড়ে অঙ্গার হয় অর্ধশতাধিক শ্রমিক।
ফায়ার সার্ভিসের বিভিন্ন নথিপত্র বলছে, ২০১৫ সালে আগুনের ঘটনা ছিল এক হাজার ১৩টি। নিহত হন ৬৮ জন। ২০১৬ সালে এক হাজার ১৬৫টি আগুনের ঘটনায় মারা গেছেন ৫২ জন। ২০১৭ সালে ১ হাজার ১৯টি শিল্প কারখানার আগুনে মারা যান ৪৫জন। ২০১৮ সালে এক হাজার ১৩১টি দুর্ঘটনায় আগুনে পুড়ে মারা যান ১৩০জন। ২০১৯ সালে ৯৯৭টি আগুনের ঘটনায় মারা যান ১৩৪জন। ২০২০ সালে ৭৫৬টি আগুনে ১৫৩জন মারা যান। সবমিলে ছয় হাজার ৮১টি আগুন দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় একহাজার কোটি টাকা। আর মারা গেছেন ৫শ ৮২ জন মানুষ। যার আশিভাগই শ্রমিক।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টারের সাধারণ সম্পাদক মনে করেন, বেশিরভাগ মালিকের কাছেই কারাখানার শ্রমিকদের জীবনের কোনো দাম নেই। দুর্ঘটনায় তাই কর্মক্ষেত্রেই প্রাণ দিতে হয় নিরীহ শ্রমিকদের।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সেন্টার সাধারন সম্পাদক ওয়াজেদ-উল ইসলাম খান বলেন,’কারখানার সব কিছু ঠিক আছে কি নাই এটি দেখার দায়িত্ব কার? এটা মালিক দেখবে। শ্রমিক না। জীবনের মূল কখনও টাকা দিয়ে হয় না।’
আগুনের ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন দেয়া হলেও সে অনুযায়ী ব্যবস্থা না হওয়ায় এমন দুর্ঘটনা কমছে না মনে করেন বিভিন্ন তদন্তে যুক্ত থাকা ফায়ার সার্ভিসের উপপরিচালক দিনমনি শর্মা। ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগ উপপরিচালক দিনমনি শর্মা জানান,’নিয়ম না মানারা পেছনে কর্তৃপক্ষের অবহেলা, গাফিলতি কাজ করে।’
ফায়ার সার্ভিসের তথ্য বলছে, মোট আগুন দুর্ঘটনার ৩৯ শতাংশ ঘটে বৈদ্যুতিক গোলযোগ থেকে। অন্যদিকে সারাদেশে শিল্পকারখানার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আগুন লাগে ঢাকা বিভাগে।
বার্তাবাজার/পি