সিরাজগঞ্জে আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনিয়ম খুঁজছে তদন্ত দল

সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলায় ‘জমি আছে ঘর নাই’ প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে। শনিবার (১০ জুলাই) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত ঘরগুলো পরিদর্শন করেন রাজশাহী অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) ড. মো. আব্দুল মান্নান।

সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন স্থানে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্পের অনিয়ম-দুর্নীতির তদন্ত শুরু হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্নের এই প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ে ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে কাজিপুরে মোট ২১৭টি ঘর নির্মাণ করা হয়।

তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম নিজেই এই নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ২ ধাপে ১৭টি ও ১৯টি এবং ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৩৭টি ঘর নির্মাণ করেন বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী। প্রতিটি ঘর নির্মাণে সরকারি বরাদ্দ ছিল ১ লাখ টাকা। কিন্তু ২১৭টি ঘর নির্মাণে সেই সময়ের ইউএনও শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। তারমধ্যে বেশ কিছু ঘরের নির্মাণ কাজ শেষ করা হয়নি, আবার ৮টি ঘর নির্মাণ না করেই নির্মাণ বরাদ্দের সমুদয় টাকা উত্তোলন করেন ইউএনও শফিকুল ইসলাম।

অথচ ঘর নির্মাণের জন্য নিয়োগকৃত কাঠ মিস্ত্রি, রড, সিমেণ্ট, ইট সরবরাহকারীদের পাওনা বাবদ ৩৫ লাখ টাকা পরিশোধ না করেই ওই ইউএনও শফিকুল ইসলাম কাজিপুর থেকে চলে যান।

সম্প্রতি আবারও আশ্রয়ণ প্রকল্প-২ এর আওতায় দেশের বিভিন্ন স্থানে ঘর নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। এরই মধ্যে গত ৪ জুলাই কাজিপুরের তৎকালিন ইউএনও (বর্তমান উপসচিব) শফিকুল ইসলামকে ওএসডি করা হয়।

প্রকল্প পরিদর্শন শেষে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. মো. আব্দুল মান্নান সাংবাদিকদের বলেন, প্রধানমন্ত্রী তার স্বপ্নের প্রকল্পের খোঁজখবর যেহেতু নিজেই রাখেন। তাই সবগুলো ঘরই ঘুরে ঘুরে দেখেছি এবং নথিপত্রও সংগ্রহ করা হয়েছে। সবকিছু দেখেই রিপোর্ট দেয়া হবে।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন সিরাজগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোবারক হোসেন, কাজিপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাহিদ হাসান সিদ্দিকী, কাজিপুর উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমান, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা একেএম শাহা আলম মোল্লা প্রমুখ।

এম এ মালেক/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর