‘নিষিদ্ধ পথেই’ কয়েক গ্রামের লাখ লাখ মানুষ

ফরিদপুরের বোয়ালমারী উপজেলায় জরাজীর্ণ একটি সেতুতে যান চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করে প্রায় এক মাস আগে নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে নির্মাণকারী কর্তৃপক্ষ। গত দুই সপ্তাহ ধরে কুমার নদে বর্ষার পানি বাড়ার সাথে সাথে সেতুটির একপ্রান্তের প্রায় ৩০ মিটার অংশ নিচের দিকে প্রায় ৪ ইঞ্চি দেবে গেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন এই এলাকার সেতু ব্যবহারকারী আশপাশের ৪০ গ্রামের প্রায় ৫-৬ লাখ মানুষ। কর্তৃপক্ষের নিষেধ সত্ত্বেও বর্তমানে ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি দিয়ে চলাফেরা করছে এলাকাবাসী।

সরেজমিনে সেতু এলাকা ঘুরে জানা যায়, ১৯৮২ সালে লাইট ট্রাফিক প্রকল্পের (হালকা যানবাহন চলাচলকারী সেতু) আওতায় কুমার নদের ওপর কমলেশ্বরদী সেতু নামে ৬৪ মিটার দৈর্ঘ্য সেতুটি নির্মাণ করে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

সেতু এলাকায় বর্তমান বর্ষা মৌসুমে পানির গভীরতা প্রায় ২০-২৫ ফুট। সেতুর পূর্ব প্রান্তে দাদপুর ইউনিয়নের কমলেশ্বরদী গ্রাম আর পশ্চিম প্রান্তে মাঝকান্দী-বোয়ালমারী-ভাটিয়াপাড়া আঞ্চলিক মহাসড়কে মুজুরদিয়া বাজার। সেতুটির পূর্ব প্রান্তের দাদপুর ও চাঁদপুর ইউনিয়ন এবং পাশের সালথা উপজেলার প্রায় ৩০-৩৫টি গ্রামের প্রায় ৫ লাখ মানুষের বোয়ালমারী উপজেলা সদরসহ আশপাশের জেলা উপজেলায় যাতায়াতের অন্যতম মাধ্যম এই সেতু।

এলাকাবাসী জানান, সেতুর পূর্ব পাশে কমলেশ্বরদী এলাকায় কয়েকশ গজের মধ্যে রয়েছে এয়াকুব আলী উচ্চ বিদ্যালয়, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আইডিয়াল প্রি-ক্যাডেট স্কুল, ডাকঘর, কমিউনিটি ক্লিনিক, শামসুল উলুম কওমী মাদ্রাসা ও এতিমখানাসহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান। আর পশ্চিম পাশের মুজুরদিয়া বাজার পূর্ব দিকের বাসিন্দাদের নিত্যদিনের বাজার সদাইয়ের একমাত্র নিকটবর্তী স্থান।

কমলেশ্বরদী গ্রামের ব্যবসায়ি কাজী ইমরুল হাসান জানান, জরাজীর্ন হয়ে যাওয়ায় সেতুটি ব্যবহার অনুপোযোগী হয়ে পড়েছে। গত এক বছরে সেতুর পশ্চিম পাশ নিচের দিকে দেবে গেছে। এতে সেতুটি আরো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। আমরা প্রতিনিয়ত আতঙ্কের মধ্যে চলাফেরা করছি।

দাদপুর ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, গুরুত্বপূর্ণ এই সেতু দিয়ে বর্তমান লকডাউন কালেও প্রতিদিন অনেক ছোট-বড় যান চলাচল করে। সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় সেতুর প্রবেশ মুখের দুই প্রান্তে পিলার গেড়ে যান চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে বোয়ালমারী উপজেলা প্রকৌশলী একেএম রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, ভারী যান চলাচলের কারণে সেতুটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। বর্তমানে এলজিইডির একটি নতুন প্রকল্পের (এফএসআইবিসিআরআরপি প্রকল্প) আওতায় এখানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য আমরা নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে প্রতিবেদন পাঠিয়েছি। এখানে নতুন সেতু হওয়ার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

মিয়া রাকিবুল/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর