নবীনগরের শাহবাজপুরে আশ্রয়ণ প্রকল্পে দুর্নীতির অভিযোগ

‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া এইসব ঘর যেকুনু সময় ভাইঙ্গা আমাগো উপর পড়তে পারে। আর তহন আমরা মইরাও যাইতে পারি’।

শুক্রবার (৯ জুলাই) ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে গৃহহীনদের জন্য নির্মিত মুজিববর্ষের উপহার হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর দেয়া ঘরগুলো সরজমিনে দেখতে গেলে,ফিরোজা বেগম, সুরাইয়া বেগম, ইউসুফ মিয়া,সোহেল মিয়া,সহ কয়েকটি ঘরের বাসিন্দা বার্তা বাজারকে জানান, ক্ষোভের সঙ্গে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন।

পরে খোঁজ নিয়ে জানা গেল, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের জন্য নির্মাণাধীন আশ্রয়ণ প্রকল্পের এসব ঘর নির্মাণে প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত এক প্রভাবশালী ব্যক্তি নানা অনিয়মের মাধ্যমে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে এসব ঘর তৈরী করে দিয়ে গেছেন। অভিযোগ উঠেছে, ভূমিহীনদের নামে ২ শতাংশ খাসজমি বরাদ্দ থেকে শুরু করে ঘর নির্মাণকাজের প্রতিটি ধাপে অনিয়ম ও নিম্নমানের দ্রব্যাদি ব্যবহার করা হয়েছে।

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিসসূত্রে জানা যায়, ২০২০- ২১ অর্থবছরে অগ্রাধিকার প্রকল্প আশ্রয়ণ ২-এর আওতায় নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে ৩৫ লাখ টাকা ব্যায়ে ২০টি ভূমিহীন পরিবারকে ২ শতাংশ খাসজমি বন্দোবস্ত দিয়ে একটি করে সেমিপাকা ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় ধরা হয়েছে এক লাখ ৭১ হাজার টাকা। প্রকল্পের অধীনে নির্মাণাধীন কাজের দেখভাল করছে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন।

সরজমিন গিয়ে দেখা যায়, উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নের শাহবাজপুর গ্রামে আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরের দেয়াল ও পিলারে বালুর সঙ্গে মেশানো হয়নি পরিমাণ মতো সিমেন্ট। হয়েছে নিম্নমান ঢালাই। নির্মাণের কিছুদিন না যেতেই ভেঙে পড়েছে ঘরের দেয়াল,আর ফেটে ফেটে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর।

তবে এ বিষয়ে নবীনগরের স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এবাদুল করিম বুলবুল বলেন, মুজিববর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীনদের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে কোনো রকম দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। যদি কেউ নিম্নমানের দ্রব্যসামগ্রী দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া উপহার ঘর নির্মাণ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করে তা হলে তাদের কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

তৈরিকৃত আশ্রয়ণ প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা অভিযোগ করে বলেন, আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘর নির্মাণে নিম্নমানের ইট, বালু, কাঠ, টিন ও প্রয়োজনের তুলনায় সিমেন্ট কম ব্যবহার করা হচ্ছে। ফলে দেয়াল থেকে আস্তর ধসে পড়ছে। আর ফেটে ফেটে উঠে যাচ্ছে ফ্লোর। ভেঙে পড়ছে দেয়াল ও পিলার।

নির্মাণকৃত ঘর কোনটা উঁচু কোনটা আবার নিচু। মনে হচ্ছে নিচু ঘরে ইট কম ব্যবহার করা হয়েছে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে নির্মাণ হওয়া প্রধানমন্ত্রীর উপহার ঘর পেয়েও বিপদের আশঙ্কা রয়েছে অনেকের।

এবিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একরামুল সিদ্দিক সাথে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

এবিষয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন ২০টি ঘরের যে যে স্থানের সমস্যা হয়েছে আগামীকাল মধ্যে ঠিক করে দেয়া হবে।

মোঃ আক্তারুজ্জামান/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর