আশ্রয়ণ প্রকল্পের অনিয়ম ঢাকতে ফন্দি: ঘর ভেঙ্গে করা হচ্ছে উঁচু
পাবনার সাঁথিয়ার মাঝগ্রামের অসহায় দুস্থদের জন্য নির্মিত ঘর আবার ২ ফিট উচু করা হচ্ছে। এ ধরনের কাজ পাবনাসহ বিভিন্ন উপজেলায় হওয়ায় গঠিত হয়েছে তদন্ত কমিটিও। বিষয়টি নিয়ে এলাকার মানুষের মধ্যে আরও কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকে এটিকে দুর্নীর্তি ঢাকতে নতুন ফন্দি বলে মনে করছেন।
জানা গেছে, মুজিব জন্ম শতবর্ষে প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে আশ্রয়ণ-২ এর আওতায় পাবনার সাঁথিয়ায় হত দারিদ্র গৃহহীনদের প্রথম পর্যায়ে ৩৭১টি ঘর দেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ঘরগুলোতে অধিকাংশই পরিবার বসবাস শুরু করেছে। পরবর্তিতে আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের ঘর নির্মানে অনিয়মের অভিযোগ উঠে।
এ নিয়ে একটি প্রতিবেদন ছাপা হওয়ার পর কর্মকর্তাদের টনক নড়ে। সারা দেশে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের দূর্নীতির তদন্তের কথা শুনে সাঁথিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও আশ্রয়ণ প্রকল্পের সভাপতির নির্দেশে ঘর ভেঙ্গে দুই ফুট উচু করে পুণরায় ঘর নির্মান শুরু করেছেন।
শুক্রবার (৯ জুলাই) সাঁথিয়ায় উপজেলা ক্ষেতুপাড়া ইউনিয়নের মাঝগ্রামের ১০টি ঘরের চাল খুলে ফেলা হয়। এর আগে ঘরগুলোর বাসিন্দাদের পাশে নতুন করে করা ১২টি ঘরে কিছু দিনের জন্য স্থানান্তর করা হয়।
শুক্রবার (৯ জুলাই) বিকালে সরেজমিনে মাছ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, ৫টি ঘর ছাড়া সব কয়টি ঘরের চালা খুলে ফেলা হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ কেটে দেওয়া হয়েছে। চালাগুলো পাশে রেখে দেওয়া হয়েছে। ৮ নং ঘরের বাসিন্দা নাজমা খাতুন জানান, ঘর ২ ফুট উচ্চতা কম হওয়ায় পুর্ণরায় চাল সরিয়ে উচ্চতা বৃদ্ধি করা হবে। তিনি আরও জানান ঘর নিম্ন মানের সামগ্রী দ্বারা নির্মান করা হয়েছে।
নির্মাণের পর থেকেই ছোয়া লাগলেই পলিস্টার উঠে যাচ্ছে। চাল খোলার সময় ঘরের বারান্দার পিলার ভেঙ্গে পড়েছে। ঘরের উচ্চতা বৃদ্ধির জন্য পাশেই স্তুপ করে রাখা হয়েছে ইট। যা ব্যবহার হবে ঘরের দেওয়ালে।
বিনা খাতুন ও খুশি খাতুন নামের আরও দুই বাসিন্দা জানান, প্রধানমনাত্রী শেখ হাসিনার দেওয়া ঘর পেয়ে তারা নতুন করে বেঁচে থাকার স্বপ্ন দেখছে। এ স্বপ্ন ঘর পাবার আগে কখনও দেখেনি। তবে তারা নিম্ন মানের কাজের জন্য বিপদের মধ্যে রয়েছেন বলে জানান। তাদেও দাবি সামান্য বৃষ্টি হলে চাল দিয়ে পানি পড়ে, ছাগলের দড়িতে টান লাগলে পলেস্তারা উঠে যাচ্ছে। ঘরের বাসিন্দা বিষ্ণুপুরের অজিত কুমার জানা ঘওে পানিতো পড়ছেই এবং ঘরের ওয়াল ফেটে গেছে।
এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার এসএম জামাল আহমেদ জানান, জেলা প্রশাসকসহ উর্ধতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে ঘর ভেঙ্গে সামান্য উচু করা হচ্ছে। এ ছাড়া ছোট খাটো কিছু ত্রুটি বিচ্যুতি থাকায় সেগুলো সংশোধনের জন্য মেরামত করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, পাবনার জেলা প্রশাসক বিশ্বাস রাসেল হোসেন গতকাল শনিবার নতুন করে মেরামতের কাজও পরিদর্শনও করেছেন।
মোঃ মাসুদ রানা/বার্তা বাজার/টি