২০ বছর ধরে সহস্রাধিক মানুষের একমাত্র অবলম্বন বাঁশের সাঁকো

টাঙ্গাইলের নাগরপুরে একটি সেতুর অভাবে ৭ গ্রামবাসীকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলার পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কের ধলেশ্বরীর শাখা নদীর উপর সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ও সীমাহীন কষ্টে চলাচল করতে হচ্ছে এ সকল গ্রামবাসীর। প্রায় তিন বছর আগে স্থানীয়রা স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করেন। বাঁশের সাঁকোটি এখন ওই ৭ গ্রামের মানুষের একমাত্র ভরসা।

স্থানীয়দের অভিযোগে জানা যায়, নাগরপুর উপজেলার মোকনা ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের ৭টি গ্রামের জনগণের উপজেলা শহরের সাথে যোগাযোগের একমাত্র সড়ক এটি। এই সড়ক দিয়ে পংবাইজোড়া, লাড়–গ্রাম, দেইল্লা, স্বল্প লাড়–গ্রাম, নিউ চৌহলী পাড়া, পংবড়টিয়া ও ঘুণি গ্রামের স্কুল ও কলেজগামী ছাত্র-ছাত্রীসহ হাজার হাজার পথচারী প্রতিনিয়ত যাতায়েত করে। সেতু না থাকার কারনে বর্ষা মৌসুমে নৌকা যোগে ও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হতে হয় তাদের। অপর দিকে আবাদী কৃষিপণ্য ক্রয় বিক্রয়ে চরম বিড়ম্বনার শিকার হতে হচ্ছে এ অঞ্চলের কৃষকদের।

সেতুর পরিমাপ করা হলেও সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে না অদৃশ্য কারণে। ছবি: বার্তা বাজার

স্থানীয় জরু খান বলেন, একটি সেতুর অভাবে আমরা দীর্ঘ ২০ বছর ধরে জীবনের সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে আছি। সব এলাকার উন্নয়ন হলেও আমাদের এলাকার উন্নয়ন হয় না। আমরা শুধু একটি সেতুর অভাবে পিছিয়ে আছি।

দেইল্লা গ্রামের তারা মিয়া বলেন, সুস্থ ব্যক্তিরাই এই বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে প্রায়ই দূর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন। এ ভয়েই আমাদের গ্রাম গুলোর গুরুত্বর প্রসূতি রোগীকে জরুরি ভাবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়া সম্ভব হয় না। গ্রামবাসীর এই দূর্ভোগ ঘোচাতে দ্রুত একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি জানান তিনি।

মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের ২ নং ওয়ার্ডের রিয়াজ উদ্দিন খান রাজা বলেন, তিন বছর আগে স্থানীয় ভাবে আমরা এখানে একটি বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করি। আজও ঝুঁকিপূর্ণ ওই সাঁকো দিয়েই আমাদের চলাচল করতে হচ্ছে।

মোকনা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান খান বলেন, সেতু নির্মাণের দাবিতে ইতোমধ্যেই একাধিকবার প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) কার্যালয় থেকে ১শ ৫০ ফুট সেতুর পরিমাপ করা হলেও সেতুটি নির্মাণ হচ্ছে না। পংবাইজোড়া-দেইল্লা সড়কের ধলেশ্বরীর শাখা নদীতে জরুরি ভিত্তিতে একটি পাকা সেতু নির্মাণের দাবি এখন তাদের প্রাণের দাবি।

এ ব্যাপারে নাগরপুর উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) মাহবুবুর রহমানের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার চেষ্টা করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।

হাসান সিকদার/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর