‘আম্মুকে দেখতে ইচ্ছে করছে, আম্মুকে নিতে এসেছি’

সকালে এখানে এসেছি, এসে মাকে দেখিনি। আমি আমার আম্মুকে নিতে এসেছি। আম্মুকে দেখতে ইচ্ছে করছে। এভাবেই কথাগুলো বলছে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান সেজান জুস কারাখানায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত নাজমা বেগমের ছেলে নয়ন(৬)। সে জানেনা তা মা আর ফিরে আসবেনা। নিষ্ঠুর পৃথিবীর বাস্তবতা এখনও ছুঁতে পারেনি এ শিশুকে।

শনিবার (১০ জুলাই) সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গের সামনে বাবা তৌহিদুর ও নানি কল্পনা বেগমের হাত ধরে ঘুরে ফিরছিল মর্গের এদিক-ওদিক। এরই ফাঁকে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে নয়ন বলে, ‘আমার মা নেই। সকালে এখানে এসে মাকে দেখিনি। আমি আমার আম্মুকে নিতে এসেছি।’ একটু থামলো নয়ন। আশপাশের অনেকের দিকে তাকালো। অস্পষ্ট কণ্ঠে বলে উঠলো, আম্মুকে দেখতে ইচ্ছা করছে।

নয়নের এ বাক্য আর্দ্র করে ফেললো উপস্থিত অনেককেই। এমনকি পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে আসা গণমাধ্যমকর্মীরাও কিছুটা থমকে গেল।

নয়ন আরও জানায়, তার মা তাকে খাইয়ে দিতো। এখন তার নানু খাইয়ে দেয়।

নয়নের পাশে দাঁড়ানো তার নানি কল্পনা বেগম বলেন, আমরা গরিব মানুষরে বাজান। মাইয়াটা ছেলেটারে আমার কাছে রেখে চাকরিতে যাইতো। কাজের ফাঁকে ফোন করে বলতো ছেলেটারে দেখে রাইখো। আমাদের গ্রামের বাড়ি বগুড়া। ৫ বছর আগে এ ফ্যাক্টরিতে কাজ নিয়েছিল নাজমা। ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা বেতন পাইতো। ওভারটাইম করে পাইতো আরও ২ হাজার টাকা। গত মাসের বেতন এখনও পায়নি।

আগুন লাগার পর কথা হয়েছে কিনা জানতে চাইলে কল্পনা বেগম বলেন, আগুন লাগার পর আর কথা হয়নি। আজকে রক্ত দিছি। জানিনা কবে মাইয়াটার লাশ হাতে পাবো।

গত বৃহস্পতিবার (৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রূপগঞ্জ উপজেলার কর্ণগোপ এলাকায় অবস্থিত সেজান জুস কারখানায় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২৯ ঘণ্টা পর ডেমরা, কাঞ্চনসহ ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ সম্পন্ন করে। কারখানা থেকে উদ্ধার করা হয় ৫২ জনের মরদেহ। আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন।

বার্তাবাজার/পি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর