ফ্যাক্টরিতে তালা দেওয়া সেই সুপারভাইজারও নিখোঁজ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের ফুডস ফ্যাক্টরিতে আগুন লাগার পর চারতলার ফ্লোর সুপারভাইজার মাহবুব লোহার গেটটিতে তালা মেরে দিয়েছিলেন।

অগ্নিকাণ্ডে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। ভ্যাগের কি নির্মম পরিহাস, আগুনে পুড়েই মারা গেছেন ওই সুপারভাইজার। এমনটিই জানিয়েছেন বেঁচে যাওয়া শ্রমিকরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শ্রমিক জানিয়েছেন, চারতলার ফ্লোর সুপারভাইজার মাহবুব ও তার দুই সহযোগী আগুনে পুড়ে মারা গেছে। আগুনের সময় তারাও ভেতরে ছিল।

এদিকে সেজান জুস কারখানার সাব-কন্ট্রাক্টর মোতালেব মিয়া বলেন, আগুনের খবর শোনে চিৎকার করতে করতে ওই ভবনের সামনে গেছি। তখন চারতলার একজন নারী শ্রমিক উপর থেকে জানালা দিয়ে দেখছিল। ফায়ার সার্ভিসের লোকজন তাকে রশি দিয়া নিচে নামাইছে। ওর কাছে জিজ্ঞেস করছিলাম ভেতরে কী হইছে। তখন ও বলছে আগুন লাগার খবর পেয়ে সুপারভাইজার মাহবুব স্যার সবাইকে রুমের এসির সামনে নিয়া দাঁড় করাইতাছিল। তখন নাকি ওই মেয়েটা কৌশলে বের হয়ে গেছে। নিচে আগুনের তাপ দেইখা উপরে ছাদে গেছে। মনে হয়, এরপরই গেট বন্ধ হইছে।

মোতালেব মিয়া আরও বলেন, ঢাকা মেডিকেল ও ইউএস-বাংলা হাসপাতালে অনেকবার গেছি। কিন্তু কোথাও মাহবুব স্যারের খোঁজ পাই নাই। তার ফোনও বন্ধ। চরফ্যাশন এলাকার ১২ জনরে আমি কাজে আনছিলাম। তারা সবাই নিখোঁজ।

হাশেম ফুড লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) রফিকুল ইসলাম রাজু বলেন, মাহবুবের খোঁজ পাওয়া যায়নি। ভবনের কারখানাগুলোতে জালি গেট ছিল। আলাদাভাবে কাজের জন্য সেখানে এই ব্যবস্থা করা হয়েছিল। আগুন লাগার পর অন্য ফ্লোরের লোকজন নামলেও চারতলার লোকজন আটকা পড়ে। তারা ছয়তলায় যাওয়ার চেষ্টা করেছে।

তিনি আরও বলেন, আমার মনে হয়, ফ্লোরের সুপারভাইজারের মাহবুবের নির্দেশেই তারা ভেতরে একত্রিত হয়েছিল। কিন্তু ধোঁয়া ও আগুনের কারণে বাইরে বের হতে পারেনি। ঘটনার পর থেকে মাহবুবের কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ফায়ার সার্ভিস ঢাকা বিভাগের উপপরিচালক (অপারেশন) দেবাশীষ বর্ধন বলেন, আমরা অনেকবার চারতলার গেটের সামনে গিয়েছি। ফ্লোরে প্রবেশের আগে লোহার তৈরি একটি ঝালি গেট ছিল। ওই গেটের দুটি অংশ একত্র করে মাঝখানে তালা দেয়া হতো। মরদেহগুলো চারতলার পূর্ব পাশের জানালার কাছাকাছি অবস্থায় পাওয়া গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, গেট বন্ধ থাকার কারণে আটকে পড়া শ্রমিকরা জানালা দিয়ে নিচে নামার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু আগুনের শিখা ও ধোঁয়া অনেক বেশি ছিল।

শ্রমিকরা যেন অন্য ফ্লোরে না যেতে পারে সেজন্য চারতলার ওই গেট বানানো হয়েছিল। কিন্তু আগুন লাগার পর গেটটি কেন বন্ধ করা হয়েছিল, তা পরিষ্কারভাবে কেউ জানাতে পারেনি।

বার্তা বাজার/নব

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর