নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সেজান জুস কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় এক পরিবারের ৬ জনসহ কিশোরগঞ্জের ১৪ নারী-পুরুষ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে এলাকার আকাশ-বাতাস। এ ছাড়া এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৩ তলা থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আহত হয়ে বাড়ি ফিরেছেন কটিয়াদী উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের আসমা আক্তার ও সোহাগ মিয়া নামে ২ শ্রমিক।
অগ্নিকাণ্ডে নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার দানা পাটুলি ইউনিয়নের দক্ষিণ কালিয়াকান্দা গ্রামের দিন মজুর চাঁন মিয়ার ছেলে এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন। করোনা পরিস্থিতিতে লকডাউনের কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় অভাবের সংসারে ঈদের কেনাকাটার অর্থ সংগ্রহে কাজে যোগ দিয়েছিলেন।
কারাখানা কর্তৃপক্ষ ও সরকারকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান এলাকাবাসী ও মানবাধিকারদের।
জানা যায়, ওই কারখানার ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার শিমূল কালিয়া দক্ষিণ কালিয়াকান্দা গ্রামের এবারের এসএসসি পরীক্ষার্থী শ্রমিক পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তান নাজমুল, কটিয়াদী উপজেলার গৌরীপুর গ্রামের তাসলিমা, রাবিয়া,মাহমুদাসহ ৭ জন এবং করিমগঞ্জ উপজেলার কদমতলী ও মথুরা পাড়া গ্রামের জাহানারা, সাহেলা, রেহেনা, হাকিমা, আহাদ, জাহানারা (২)ও মাহমুদা নামের মোট ১৪ শ্রমিক নিখোঁজ রয়েছেন। এদের মধ্যে করিমগঞ্জ উপজেলার কদমতলী গ্রামের এক পরিবারের ৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
নিখোঁজদের পরিবারের লোকজন জানিয়েছে, ডিএনএ টেস্টের জন্য নিখোঁজদের স্বজনদের ঢাকায় তলব করেছে প্রশাসন।
শুক্রবার রাতে ক্ষতিগ্রস্ত-নিখোঁজ এসব শ্রমজীবী জনগোষ্ঠীর নারী-পুরুষের বাড়ি সরেজমিন পরিদর্শনকালে এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য চোখে পড়ে। পরিবার-স্বজনদের আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠছিল এলাকার আকাশ-বাতাস। গ্রাম জুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া।
এ সময় দানাপাটুলি ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. জালাল উদ্দীন এবং জয়কা ইউনিয়নের মুক্তিযোদ্ধা কমাণ্ডার ও মানবাধিকার কর্মী মো. নিজাম উদ্দিন কারখানা মালিক ও সরকারকে এসব দরিদ্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে পুনর্বাসনের আহ্বান জানিয়েছেন।
বার্তাবাজার/পি