আজ বৃহস্পতিবার রাত ৪:০৫, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৭শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

ষড়যন্ত্র চলছে বলে এবার কর্মীদের সতর্ক করলেন ফখরুল

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : আগস্ট ১২, ২০১৭ , ৩:৩৮ অপরাহ্ণ
ক্যাটাগরি : রাজনীতি
পোস্টটি শেয়ার করুন

‘চক্রান্তের মুখে পড়েছি। ষড়যন্ত্র চলছে’- দলের নেতা-কর্মীদের প্রতি আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের এমন সতর্কতার পরদিন দলীয় নেতাকর্মীদের ষড়যন্ত্রের কথা বলে সতর্ক করলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও। সরকার নতুন কোনো ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

শনিবার দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কার্যালয়ে দলের চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনা করে যুবদলের দোয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে মির্জা ফখরুল এসব কথা বলেন।

১৫ জুলাই লন্ডনে সফরে যাওয়া খালেদা জিয়ার চোখে গত ৮ আগস্ট অপারেশন হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। তার জন্যই এই দেয়ার আয়োজন করা হয়।

দোয়ার আয়োজনে দেয়া বক্তব্যের একটি বড় অংশ জুড়ে ছিল ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় প্রসঙ্গ। গত কয়েকদিন ধরেই তোলপাড় চলছে এই রায় নিয়ে। শুক্রবার দলের সহযোগী সংগঠন স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক আলোচনায় ষড়যন্ত্রের কথা বলে দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

‘আবার আমরা দুঃসময়ে পতিত হয়েছি’- এমন মন্তব্য করে কাদের বলেন, ‘চক্রান্তের মুখে পড়েছি। ষড়যন্ত্র চলছে। বাংলাদেশের উন্নয়ন ও শেখ হাসিনার অর্জনকে পণ্ড করার জন্য।’

পরদিন বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আজকে যখন সুপ্রিম কোর্ট তাদের রায়ের মধ্য দিয়ে দেশের বর্তমান অবস্থার আসল চেহারা তুলে ধরেছেন, তখন তাদের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। গতকাল (শুক্রবার) আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেছেন যে এখন তাদের খুব দুঃসময়। দুঃসময় কেনো? বলছে যে এখন নাকি ষড়যন্ত্র শুরু হয়ে গেছে।’

ফখরুল বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ যখন বলবেন ষড়যন্ত্র হচ্ছে তখন বুঝবেন এটা বিএনপির বিরুদ্ধে নতুন ষড়যন্ত্র।’

‘আপনারা সতর্ক থাকবেন এই সরকার যেন নতুন কোনো ঘটনা ঘটিয়ে মানুষের দৃষ্টিকে ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে না পারে।’

ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্যের সমালোচনা করে ফখরুল বলেন, ‘বিএনপিকে নৈতিকতা শেখানোর আগে সড়কের বেহাল দশার দায় নিয়ে তার পদত্যাগ দাবি করুন।’

ফখরুল বলেন, ‘তোমরা রাষ্ট্র চালাতে পার না, ব্যর্থ হও। এয়ারপোর্টের মধ্যে তিনতলায় আগুন লাগে, সমস্ত বন্ধ করে দিতে হয়। হজযাত্রীরা যেতেও পারছেন না একটার পর একটা সমস্যা তৈরি হয়ে যাচ্ছে, তারা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে। তোমরা ঢাকা শহরের রাস্তা ঠিক করতে পার না। বাইরের কথা বাদই দেন।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পর আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকার নৈতিক বৈধতা হারিয়েছে এমন দাবি করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘অবৈধভাবে ক্ষমতায় আসায় আওয়ামী লীগ নৈতিকতার ধারেকাছে নেই।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা বার বার বলছি, এই সরকার বিশেষ করে এই রায়ের পর্যবেক্ষণের পরে এটা প্রমাণিত হয়ে গেছে, এদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই ক্ষমতায় বসে থাকার। জোর করে বসে আছে, বন্দুক-পিস্তল দিয়ে বসে আছে, পেছনে বন্দুক-পিস্তল না থাকলে দাঁড়াতেও পারবে না এক সেকেন্ড-এটাই হচ্ছে মূল কথা।’

সুপ্রিম কোর্টের প্রশংসা করে বিএনপি নেতা বলেন, ‘সংবিধানের অবিভাবক হিসেবে সুপ্রিম কোর্ট ষোড়শ সংবিধান বাতিলের রায় দিয়েছেন। এই রায় দেয়া সুপ্রিম কোর্টের দায়িত্ব ছিল।’

‘রাষ্ট্র যখন ধ্বংসের দিকে যাচ্ছিল সুপ্রিম কোর্ট তখন এই রায় দিয়েছে। এই রায় নিয়ে এমপি মন্ত্রীদের বক্তব্যে আওয়ামী লীগের আসল চরিত্র ফুটে উঠেছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ডাকসু নির্বাচনের দাবিতে উন্মুক্ত আলোচনায় অংশ নিতে যাওয়া ছাত্রদল কর্মীদের ধাওয়া দিয়ে বের করে দেয়ার সমালোচনা করেন বিএনপি মহাসচিব। বলেন, ‘এই হচ্ছে আওয়ামী লীগের গণতন্ত্র। আবার বলে কিনা দেশে তো গণতন্ত্র আছে, গণতন্ত্রের ওপর কোনো আকাশ ভেঙে পড়লো যে, আপনাদেরকে সহায়ক সরকার দিতে হবে?’।

‘আমাদেরকে তোমরা সাধারণ সভা করতে দাও না, আমাদের মাঠের মধ্যে জনসভা করতে দাও না। ঢাকার বাইরে গতকালও চাঁদপুর থেকে আমাকে টেলিফোন করেছিলো ম্যাডামের আরোগ্য কামনায় মিলাদ করতে চেয়েছিলো তাদেরকে বাইরে মিলাদ করতে দেয়নি। শেষে মসজিদের ভেতরে গিয়ে তারা মিলাদ করেছে, সব জায়গায় এসব কাজ করছে। এখন সেখানে তাদের ভয় যদি মিলাদ করতে গিয়ে এসে বসে পড়ে, এখান থেকে আবার যদি আন্দোলন শুরু না হয়ে যায়, সেখানে ক্ষমতা চলে যায়।’

খালেদা জিয়া লন্ডন সফরে যাওয়ায় আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ হচ্ছে বলেও দাবি করেন ফখরুল। বিএনপি মহাসচিব গণতন্ত্র রক্ষায় লড়াইয়ে নামতে তরুণদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুবদল সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, সাধারণ সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সাংগঠনিক সম্পাদক এসএম জাহাঙ্গীর, ওলামা দল সাধারণ সম্পাদক শাহ নেছারুল হক প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

পরে বেগম খালেদা জিয়ার রোগমুক্তি কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।