বসুন্ধরার এমডির প্রেমিকা মুনিয়া অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন
রাজধানীর গুলশানের একটি ফ্ল্যাট থেকে গত এপ্রিল মাসে উদ্ধার করা হয় বসুন্ধরা গ্রুপের এমডি সায়েম সোবহান আনভীরের প্রেমিকা মোসারাত জাহান মুনিয়ার মরদেহ। মৃত্যুর পর ডাক্তারি পরীক্ষা করে জানা গেছে তিন থেকে চার সপ্তাহের অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন এই তরুণী।
ফরেনসিক প্রতিবেদন থেকে জানা ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট কিছুদিন আগে গুলশান থানায় পৌঁছায় বলে হাসপাতাল ও পুলিশের একটি সূত্রে জানা গেছে।
জানা যায়, চলতি বছরের মার্চ থেকে গুলশানের ওই ফ্ল্যাটে ভাড়ায় বসবাস করতেন মুনিয়া। সেই বাসায় বসুন্ধরার এমডি সায়েম সোবহান আনভীর নিয়মিত যাতায়াত করতেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ।
এদিকে মুনিয়ার স্বজনরাও জানিয়েছে তাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েই বিলাসবহুল এই ফ্ল্যাটে নিয়ে রেখেছিল আনভীর। তাদের দাবি, মুনিয়ার সাথে বেশ কিছুদিন শারীরিক সম্পর্কের পর আনভীর ক্রমশ দুরত্ব বাড়িয়ে দেয়। তবে ডাক্তারি পরীক্ষায় মুনিয়ার অন্তঃসত্ত্বা থাকার বিষয়টি উঠে আসার তথ্য সত্য কি না এ বিষয়ে তদন্ত সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা কথা বলতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে ডিএমপির গুলশান বিভাগের ডিসি সুদীপ কুমার চক্রবর্তী জানান, হাসপাতাল থেকে ফরেনসিক পরীক্ষার কোনো প্রতিবেদন এলে সেটি তদন্ত কর্মকর্তার কাছে আসার কথা। তিনি ভালো বলতে পারবেন। তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেন ডিসি।
কিন্তু গুলশান থানার তদন্ত কর্মকর্তা আবুল হাসান জানান, এমন কিছু তিনি এখনো পাননি। ডিএনএ রিপোর্টও আসেনি। তবে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে মুনিয়ার অন্তঃসত্ত্বা থাকার বিষয়টি ধারণা করেছেন চিকিৎসকরা। চূড়ান্ত ফরেনসিক প্রতিবেদনে সব বিষয় পরিষ্কার হয়ে যাবে।
এদিকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ও পুলিশের অপর একটি সূত্র জানায়, গত ২৬ এপ্রিল কলেজছাত্রী মুনিয়ার রহস্যজনক মৃত্যুর পরেরদিন প্রকৃত কারণ জানতে ময়নাতদন্তের পাশাপাশি ডিএনএ ও ভিসেরা পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে নমুনা পাঠায় গুলশান থানা পুলিশ। মে মাসের প্রথম দিকে ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদন ও গেল জুন মাসের মধ্যভাগে ডিএনএ পরীক্ষার প্রতিবেদন থানায় পাঠায় ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ।
উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসের ২৬ তারিখ সন্ধ্যায় গুলশানের ১২০ নাম্বার সড়কের ১৯ নম্বর বাসার একটি ফ্ল্যাট থেকে মুনিয়ার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। বাসাটি প্রতিমাসে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা ভাড়ার বিনিময়ে আনভীরই মুনিয়াকে নিয়ে দিয়েছিল। এই ঘটনার পর সারাদেশেই তুমুল সমালোচনার সৃষ্টি হয় দেশের শীর্ষ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এই কর্ণধারকে নিয়ে।
বার্তা বাজার/এসজে