ব্রাজিল আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ মানেই আলাদা উত্তেজনা। শুধু আমাদের দেশেই নয় এই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে পুরো বিশ্বে। কারণ ফুটবলের সাথে তাদের রাজনৈতিক দ্বন্দ্বও যে জড়িত।
ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা। লাতিন আমেরিকার দুটি দেশ। ইতিহাস বলছে, ১৮২৫ সালে সিসপ্ল্যাটাইন ভূখন্ড নিয়ে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে মেতেছিল দুই দেশ। প্রায় ৩ বছর তাণ্ডবের পর ব্রিটিশ এবং ফরাসিদের মধ্যস্ততায় রণাঙ্গণ ছেড়েছিল তারা।
যুদ্ধ থামলেও কমেনি উত্তেজনা। যার স্পষ্ট প্রভাব পড়ে ফুটবল মাঠেও। সালটা ১৯২৫, কোপার ফাইনালে মুখোমুখি দু’দল। একটি ফাউল, হাতাহাতিতে দুই দলের ফুটবলাররা, দর্শকদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে উত্তেজনা। ড্র হওয়া সেই ম্যাচের পর ১১ বছর দেখা হয়নি আকাশী-নীল ও হলুদ জার্সিধারীদের।
বারো বছর পর ফাইনালে আবার দেখা। আর্জেন্টাইনদের মাঠে বিতর্কিত গোল আর বর্ণবাদী আচরণে শেষ বাঁশি বাজার আগেই মাঠ ছাড়ে সেলেসাওরা। ব্রাজিলের মিডিয়া বলেছে, এটি ছিল লজ্জার ম্যাচ।
এর ঠিক দুবছর পর আবারো বিতর্ক। উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে শেষ সময়ে পেনাল্টির বাঁশি বাজায় রেফারি। সে সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যায় আর্জেন্টিনার পুরো দল। খালি পোস্টে স্পটকিক নিয়ে ম্যাচ জেতে সেলেসাওরা।
১৯৯০ বিশ্বকাপে হোলিওয়াটার কেলেঙ্কারি তো সবারই জানা। ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্ডার ফ্র্যাঙ্কোর পানির আবেদনে আর্জেন্টিনার ফিজিও দেন ট্র্যাঙ্ক্যুলাইজার ড্রাগ মেশানো বোতল। এরপরই ম্যারাডোনার অ্যাসিস্টে ক্লডিও ক্যানিজিয়ার জয়সূচক গোল। স্বপ্নভঙ্গ হয় ব্রাজিলের। ১৫ বছর ফুটবল ইশ্বর দিয়েগো ম্যারাডোনা বিষয়টি স্বীকার করলেও আজ অবধি মুখ খোলেনি আর্জেন্টাইন ফুটবল ফেডারেশন।
বিশ্বকাপ কিংবা কোপা ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ বরাবরই প্রভাব ফেলে আমাদের দেশেও। এইতো কদিন আগেও ব্রাক্ষণবাড়িয়ায় দুই দলের সমর্থকদের মাঝে তর্কাতর্কিতে মারামারির ঘটনা ঘটে। তাই বলাই যায় সুপার ক্লাসিকোর এ উত্তেজনা মাঠের ভিতরে যেমন মাঠের বাইরে কিছুটা হলেও বেশি। তবে ঝগড়া হোক কিংবা মারামারি জয়টা তো হয় ফুটবলেরই।
বার্তাবাজার/পি