বিদ্যালয় সংস্কার কাজে অর্ধকোটি টাকা অনিয়মের অভিযোগ

ময়মনসিংহের ধোবাউড়ায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারের অর্ধকোটি টাকার কাজে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার ৮ টি সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কার কাজে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ করেন স্থানীয় এলাকার সচেতন মহল ও প্রতিষ্ঠান প্রধানরা।

উপজেলা প্রকৌশল বিভাগ সূত্র জানা যায়, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৮ টি বিদ্যালয় সংস্কার করার লক্ষে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ৭ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা হয়।শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজ নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজ সম্পন্ন করার দায়িত্ব পায়। কিন্তু শাহরিয়ার এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি হিসেবে ধোবাউড়ার ঠিকাদার আশরাফ আলী সংস্কার কাজ করছেন।বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ঠিকাদার তার নিজের ইচ্ছামত দায়সারা কাজ করছেন বলে অভিযোগ করেন প্রধান শিক্ষকরা।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায় কিছু কিছু বিদ্যালয়ে কাজ সম্পূর্ণ করা হয়নি। ৭ লক্ষ টাকার কাজের মধ্যে ভবন পেইন্টিং করার কাজই বেশী।তারপরও ঠিকমত পেইন্টিং করা হয়নি। অনেকটা তড়িগড়ি করে দায়সারা কাজ করে বিল উত্তোলণ করেছেন।

উত্তর রাণীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান,বিদ্যালয়ে সাবমারসেবল এর কাজ সম্পন্ন করা হয়নি। ঠিকাদারকে বারবার ফোন দিলেও কাজ করে দিচ্ছেনা।

ভালুকাপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে।বিদ্যালয়ের পুরাতন ইট দিয়ে হলরুমের মঞ্চ তৈরী করে নতুন ইট নিয়ে যায় ঠিকাদার। সিলিং নির্মাণে নিম্ন মানের বোর্ড ব্যবহার করায় সপ্তাহ না যেতেই নষ্ট হয়ে খুলে পড়ে যায় সিলিং।নতুন টিন দিয়ে চাল তৈরী করলেও বৃষ্টিতে পানি পড়ছে কক্ষে। বিষয়টি প্রধান শিক্ষকের নজরে আসলে ঠিকাদার আশরাফ আলী বিদ্যালয় কক্ষের তালা ভেঙ্গে নষ্ট হওয়া বোর্ড মুছে দিয়ে পরিস্কার করার চেষ্টা করেন।

প্রাক্কলন মোতাবেক সাবমারসেবল নির্মাণ না করায় দূর্গন্ধযুক্ত পানি বের হচ্ছে। যা ব্যবহার করলে অসুস্থ্য হওয়ার আশংকা রয়েছে।একটি কক্ষের মেঝে সংস্কার করার কথা থাকলেও তা করেনি ঠিকাদার।

এ ব্যাপারে প্রধান শিক্ষক জেসমিন মৃধা কল্পনা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন আমার অনুপস্থিতিতে বিদ্যালয়ের তালা ভেঙ্গে প্রবেশ করেছে ঠিকাদার,এটা খুবই দুঃখজনক ঘটনা। অনেক কাজও ঠিকমত করেনি।

মাটিখলা স্কুলে গিয়ে দেখা যায় দায়সারা পেইন্টিং এর কাজ করা হয়েছে। প্রধান শিক্ষক নূরুল আমিন অভিযোগ করেন ঠিকমত বারান্দার মেঝে সংস্কার না করায় পানি চলে যাচ্ছে কক্ষের ভিতরে।

এ বিষয়ে ঠিকাদারকে বলা হলেও কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সালুয়াতলা স্কুল ভবনে ৭ লক্ষ টাকার কাজে পেইন্টিং এবং একটি দরজা মেরামত ছাড়া চোখে পড়ার মত তেমন কোন কাজ নেই। ছনাটিয়া স্কুলের প্রধান শিক্ষক দুলাল মিয়া জানান,অনেক কাজ বাকী রয়েছে,ঠিকাদারের কোন খবর নাই।মুন্সিরহাট সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জানান,কিছু কাজ বাকী রয়েছে।

এ ব্যাপারে ঠিকাদার আশরাফ আলী বলেন তিনি প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ করছেন। কাজ তদারকি করার দায়িত্বে থাকা উপজেলা উপ-সহকারী রফিকুল ইসলাম একটি অপরিকল্পিত প্রাক্কলন তৈরী করেছেন বলে অনেকে অভিযোগ করেন।তিনি কাজ তদারকি করলেও অনিয়ম চোখে পড়েনি। অভিযোগ রয়েছে ঠিকাদারের সাথে যোগসাজশে বিল উত্তোলণ করতে সহায়তা করেন তিনি।

এ ব্যাপারে উপ-সহকারী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম জানান,প্রাক্কলন মোতাবেক কাজ করা হয়েছে। তবে উপজেলা প্রকৌশলী শাহিনূর ফেরদৌস জানান, তিনি বিদ্যালয় পরিদর্শণ করবেন এবং সমস্যাগুলো দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আনিসুর রহমান/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর