আজ বৃহস্পতিবার রাত ৪:০৮, ১৯শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৪ঠা কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ২৭শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

জ্ঞান ফিরে দেখেন, তিনি তার বেডরুমে নগ্ন অবস্থায় পড়ে আছেন,অতঃপর

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : আগস্ট ১২, ২০১৭ , ১০:৩০ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : আন্তর্জাতিক
পোস্টটি শেয়ার করুন

ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ শরীর হিম হয়ে আসার মতো।  যৌন নিপীড়নের এর চেয়েও মারাত্মক ঘটনা জানিয়েছেন আরেক ভারতীয় নারী, যা শুনলে হয়তো অনেকে হতবুদ্ধি হয়ে যেতে পারে।  এই নিয়ে কয়েকদিন আগে ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের আইনসভার এক সদস্যের ছেলের যৌন নিপীড়নের সংবাদ নিয়ে বেশ আলোচনা হয়েছে গণমাধ্যমগুলোতে।  নিজের বসের বিরুদ্ধে এ নিয়ে মামলাও দিয়েছেন ৩৮ বছর বয়সী ওই নারী।  বস শুধু তাকে যৌন হয়রানি করেই ক্ষান্ত হননি, ধর্ষণের উদ্দেশ্যে তার পিছু পিছু অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত গিয়েছেন।

 অথচ সে সময়েও এই নারীর সঙ্গে ছিলেন তার স্বামী এবং দুই সন্তান।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানিয়েছে, পুলিশ ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণ, প্রতারণা, ধর্ষণের দৃশ্য ধারণের অভিযোগে মামলা করেছে।  তবে তার নাম প্রকাশ করা হয়নি।  তাছাড়া শুধু প্রাপ্ত বয়স্কি নয়, শিশুদের ওপর যৌন নিপীড়নের দিক থেকেও বিশ্বের শীর্ষ দেশগুলোর একটি ভারত।   ভারত সরকার এবং ইউনিসেফের প্রতিবেদন অনুসারে, দেশটিতে প্রতি ১৫৫ মিনিটে ধর্ষণের শিকার হয় ১৬ বছরের কম বয়সী একটি মেয়ে।  আর প্রতি ১৩ ঘণ্টায় ধর্ষণের ১০ বছরের কম বয়সী একটি মেয়েকে ধর্ষণ করা হয়।

অভিযোগে ৩৮ বছর বয়সী ওই নারী বলেন, বসের নিপীড়ন থেকে বাঁচতে দুই সন্তান ও স্বামীকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় স্থায়ী বাস শুরু করেন তিনি।  ধর্ষণের উদ্দেশ্যে সেখানেও ওই ব্যক্তি গিয়েছেন এবং নিয়মিত হয়রানি করছেন।  হায়দরাবাদের একটি অফিসের একই বিভাগে তারা চাকরি করতেন।  কাজের খাতিরে ওই ব্যক্তির সঙ্গে নারীর নিয়মিত যোগাযোগ রাখতে হতো।

পুলিশকে তিনি বলেন, ‘আমরা টেলিফোনে নিয়মিত কথা বলতাম।  প্রায় তিনি কাজের জন্য গ্রামে যাতায়াত করতেন।  ধীরে ধীরে তিনি আমাকে তার প্রকল্পে যুক্ত করতে থাকেন।  সবার সামনে আমার কাজের প্রশংসা করতেন।  আমাদের বেশ বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।  ওই বস তার স্ত্রী সম্পর্কেও বাজে কথা বলতেন।  তিনি বলেছিলেন, তার স্ত্রী নাকি অন্যের হাত ধরে পালিয়ে গেছেন।  এই পরিস্থিতিতে তার একজন ভালো বন্ধু চাই। ’

২০১৩ সালের মার্চ মাসে এক সন্ধ্যায় স্থানীয় গুরু গ্রামে ওই নারীর বাসায় যান তার বস।  সে সময় তিনি বাসায় একাই ছিলেন।  বস তাকে কোমল পানীয় খেতে দেন।  নিজেও খান।  এর কিছুক্ষণ পরেই অচেতন হয়ে পড়েন ওই নারী।  জ্ঞান ফিরে দেখেন, তিনি তার বেডরুমে নগ্ন অবস্থায় পড়ে আছেন।  পাশে বসে আছেন তার বস।  এ সময় তিনি হুমকি দিয়ে বলেন, এই ঘটনা যেন কাউকে না বলা হয়।  বললে চাকরি তো যাবেই, সম্মানও নষ্ট হবে।

ওই নারী তার অভিযোগে বলেন, ‘ওই ব্যক্তি আমার নগ্ন ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, তার কথামতো চলতে হবে।  এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন বড় বড় হোটেলে তার সঙ্গে যেতে আমাকে বাধ্য করেছিলেন।  যখনই আমি অস্বীকৃতি জানাতাম, তখনই তিনি আমার স্বামীর কাছে সব ফাঁস করে দেয়ার হুমকি দিতেন।  এভাবেই তিনি আমাকে মানসিক ও যৌন নির্যাতন করতেন।  শুধু তাই নয়, তিনি আমাকে ব্ল্যাকমেল করে টাকা নেয়া শুরু করেন।  আমি তাকে লাখ লাখ টাকা দিয়েছি।  একপর্যায়ে তিনি ২০ লাখ টাকা দাবি করেন।  বিনিময়ে বলেছিলেন, আর নির্যাতন করবেন না।  আমি তাতে রাজি হয়েছিলাম।  কিন্তু কিছুদিন পরেই আবারো তার নির্যাতন শুরু হয়। ’

ঘটনার পর ওই নারী পরিবার নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান।  সেখানেই স্বামী-সন্তান নিয়ে বাস শুরু করেন তিনি।  এরপরেও নানাভাবে তাকে নির্যাতন করা শুরু করেন ওই ব্যক্তি।  তিনি বলেন, ‘ওই ব্যক্তি চরিত্র সম্পর্কে বিশদ বিবরণ দিয়ে আমার স্বামীর কাছে বার্তা পাঠাতেন, ইমেইল করতেন।  তার পাঠানো ই-মেইল দেখে মনে হয়েছে, তিনি আমাকে এখনো অনুসরণ করছেন।  পুলিশে অভিযোগ জানাতে চেয়েছিলাম, কিন্তু অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে তা করিনি।  একদিন মেলবোর্নের রাস্তায় হাঁটছিলাম।  এ সময় পেছন থেকে কেউ একজন কাঁধে হাত দেয়।  ঘুরে দেখি ওই ব্যক্তি।  তিনি আবার হুমকি দিয়ে বলেছেন, মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত হও। ’