কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক সংগঠন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের সাংগঠনিক কার্যক্রমে বেশ ভাঁটা পড়েছে। মামলা হামলা ও গ্রেফতারে জর্জরিত হওয়ার পর নতুন কমিটি গঠন করেও কোনো সুবিধা করে উঠতে পারেনি সংগঠনটি।
তবে সাংগঠনিক কাজের বাইরে আপাতত নেতাকর্মীদের মুক্ত ও মাদ্রাসা খোলার চিন্তা নিয়েই আছে তারা। এজন্য তাদের লক্ষ্য যেকোনো মূল্যে সরকারের সাথে ভালো সম্পর্ক স্থাপন করা। এরই অংশ হিসাবে সোমবার (০৫ জুলাই) রাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খানের সঙ্গে দেখা করেন হেফাজতে ইসলামের আমির জুনায়েদ বাবুনগরী।
মন্ত্রীর বাসায় সাক্ষাতের সমঅয় বাবুনগরীর সাথে ছিলেন হেফাজতের মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদী। ছিলেন সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা আমির শাহ আহমদ শফির একান্ত সহকারী শফিউল আলমও।
সূত্র জানায়, বৈঠকে সারা দেশে গ্রেফতার হওয়া সংগঠনের নেতাকর্মীদের নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ এবং অতি সত্বর কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়ে এসব ব্যাপারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সহযোগিতা চান হেফাজতের আমির। এ ছাড়া শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে কওমি মাদ্রাসাগুলোকে নিবন্ধনের আওতায় আনা এবং মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রমের ব্যাপারে সমন্বিত নীতিমালা তৈরির উদ্যোগের বিষয়েও কথা বলেন।
আরও জানা যায়, আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত প্রতিবেদনে অভিযুক্ত হিসাবে নাম আসায় শুরু থেকেই অস্বস্তিতে ছিলেন বাবুনগরী। ১৫ জুলাই আল্লামা শফী হত্যা মামলার বিষয়ে আদালতের পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আল্লামা আহমদ শফীর মৃত্যুর ঘটনায় আসামির তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার বিষয়ে বাবুনগরীর পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (০৬ জুলাই) সকাল ১১টার দিকে হেফাজতের শীর্ষ নেতার বৈঠকে মিলিত হন খিলগাওয়ের মাখজানুল উলুম মাদ্রাসায়। পরে এক বিবৃতিতে জুনায়েদ বাবুনগরী জানান, ব্যক্তিগত কোনো কারণে নয়, জাতীয় ও দ্বীনি স্বার্থে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সোমবার বৈঠক হয়েছে। বৈঠকে আমরা আলেম-উলামাদের নিঃশর্ত মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার, গ্রেফতার ও হয়রানি বন্ধ এবং অতি সত্বর কওমি মাদ্রাসাগুলো খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছি।
তিনি জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের দাবি-দাওয়াগুলো মনোযোগ সহকারে শুনেছেন এবং আমাদের সে বিষয়ে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা আশা করছি সরকার দ্রুত আমাদের দাবিগুলো মেনে নেবেন।
বার্তা বাজার/এসজে