আজ শনিবার সকাল ৭:০৯, ২১শে অক্টোবর, ২০১৭ ইং, ৬ই কার্তিক, ১৪২৪ বঙ্গাব্দ, ৩০শে মুহাররম, ১৪৩৯ হিজরী

রাজধানীর শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কে কোথায় থেকে অপরাধ সম্রাজ্য নিয়ন্ত্রণ করছেন?

নিউজ ডেস্ক | বার্তা বাজার .কম
আপডেট : আগস্ট ১২, ২০১৭ , ১:৪২ পূর্বাহ্ণ
ক্যাটাগরি : অপরাধ ও দুর্নীতি,প্রধান খবর
পোস্টটি শেয়ার করুন
রাজধানী ঢাকার শীর্ষ সন্ত্রাসীরা কেউ জেলে বসে, কেউ বিদেশে থেকেই নিয়ন্ত্রণ করছে তাদের অপরাধ সম্রাজ্য। সুব্রত বাইন, কালা জাহাঙ্গীর, মোল্লা মাসুদ ছাড়াও আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের রেড নোটিশে রয়েছেন ঢাকার ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর অনেকেই। এদের মধ্যে কেউ কেউ বিভিন্ন দেশে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবন্দি আছেন। অনেকেই পলাতক জীবন পার করছেন। আবার কেউ কেউ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে মোটা অংকের চাঁদাবাজি করছেন।
ইন্টারপোলের রেড নোটিশধারী শীর্ষ সন্ত্রাসী প্রকাশ কুমার বিশ্বাস দীর্ঘ ১৫ বছর ধরে পরিবার নিয়ে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে বসবাস করছেন বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানিয়েছে। প্যারিস থেকে প্রকাশ মাঝেমধ্যে কলকাতা ঘুরে যান। তবে তিনি এখন অব্দি বাংলাদেশে প্রবেশ করেননি। প্যারিসে অবস্থান করলেও তার অপরাধ সম্রাজ্য এখনও রয়েছে রাজধানী ঢাকায়। নিজস্ব নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এখনও নিয়মিত চাঁদাবাজী করে যাচ্ছে প্রকাশ।
তার ভাই আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী বিকাশ কুমার বিশ্বাস ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পান। এরপর যশোরের বেনাপোল বন্দর দিয়ে কলকাতায় পাড়ি জমান।
সেখান থেকে বিকাশ ভাই প্রকাশের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্যারিসে যান। এরপর থেকে তিনি সেখানেই বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। বিকাশ প্যারিসে থাকলেও ঢাকার অপরাধ সম্রাজ্যে এখনও নিজের অবস্থান ধরে রেখেছেন।
রেড নোটিশধারী আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী জিসান বর্তমানে দুবাইয়ে আত্মগোপনে আছেন। সূত্রের দাবি, সেখানে জিসান হোটেল ব্যবসা পরিচালনা করছেন।
এছাড়া বিদেশে বসেই তিনি বাংলাদেশের একটি বৃহৎ রাজনৈতিক দলের বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখছেন বলে গোয়েন্দাদের কাছে তথ্য রয়েছে। জিসানের নেটওয়ার্কও এখনও রাজধানী ঢাকাতে সক্রিয়।
আরেক শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয় বহুদিন থেকেই প্রতিবেশী দেশ ভারতের কলকাতায় অবস্থান করছেন। তিনি কলকাতায় একজন বামপন্থী প্রভাবশালী নেতার আশ্রয়ে ছিলেন।
সেখানে গিয়ে জয় গড়ে তোলেন বিশাল বিত্ত-বৈভব। তবে বামপন্থী ওই নেতার মৃত্যুর পর জয়কে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছিল। পরে অবশ্য মুক্তি পেয়ে তিনি কলকাতাতেই অবস্থান করছেন।
জয় ভারতে থাকলেও বাংলাদেশে তারঅেপরাধ জগতের অবস্থান এখনও মজবুত।
মিরপুর এলাকার আরেক সন্ত্রাসী ও এক সময়ের ছাত্রলীগ ক্যাডার শাহাদাত হোসেনও এখন ভারতে অবস্থান করছেন। তবে অপর শীর্ষ সন্ত্রাসী তানভীরুল ইসলাম জয়ের কারণে কলকাতায় থিঁতু হতে পারছেন না তিনি। কখনও মেঘালয়, কখনও আসাম, আবার কখনও ত্রিপুরায় পালিয়ে পালিয়ে দিন কাটছে শাহাদাতের।
সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রে দাবি, নিজেকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে গুটিয়ে নিতে বহুদিন ধরে চেষ্টা করছেন শাহাদাত। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এক সময়ের এই ছাত্রলীগ ক্যাডার আওয়ামী লীগের কয়েকজন নেতার সঙ্গে যোগাযোগ করে সাধারণ ক্ষমার সুযোগ নিতে চেয়েছিলেন। কিন্তু কোনোভাবে তা করতে না পারায় আত্মরক্ষার্থে শাহাদাত বিদেশ বিভূঁইয়ে হয়েই বেড়াচ্ছেন।
তবে কলকাতাতে বসেই তিনি রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তার সহযোগীদের মাধ্যমে হুমকি-ধামকি ও চাঁদাবাজি অব্যাহত রেখেছেন বলে জানা গেছে।
সম্প্রতি দুই ব্যবসায়ীর অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে সাড়ে নয় লাখ টাকা চাঁদা আদায়কালে শাহাদাত বাহিনীর ছয় সদস্যকে গ্রেফতার করে  ‎র‌্যাব ।
এরপর জিজ্ঞাসাবাদে তারা জানায়, শাহাদাতের নির্দেশেই এই চাঁদাবাজি করছিলেন তারা। চাঁদা আদায়ের পর এসব টাকা কলকাতায় পাঠানো হয়।
এছাড়াও মিরপুর এলাকার গার্মেন্টস জুট ব্যবসা সহযোগীদের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করে শাহাদাত। মিরপুরের আওয়ামীলীগের অনেক নেতাকেই মাসিক ভিত্তিতে শাহাদাতকে চাঁদা দিতে হয়। মিরপুর এলাকার বেশীর ভাগ চাঁদাবাজী হয় শাহাদাতের নামে।
এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী কিলার আব্বাস কারাগারে থেকে নিয়ন্ত্রণ করে মিরপুর বিআরটিএ। কেন্দ্রীয় যুবলীগের এক নেতার আশ্রয়ে থেকে মিরপুর এলাকার চাঁদাবাজীর একটি অংশের ভাগ পায় কিলার আব্বাস।
এছাড়াও প্যারিসে থেকে মিরপুর কল্যাণপুর এলাকায় চাঁদাবাজী নিয়ন্ত্রণ করে বিকাশ বাহিনী।
শীর্ষ সন্ত্রাসী শামীম আহমেদ ওরফে আগা শামীমও ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ক্রসফায়ার শুরু হওয়ার পর তিনি আর বাংলাদেশে ফেরেননি।
রেড নোটিশধারী আরেক সন্ত্রাসী হারিস আহমেদ এখন পাকিস্তানে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে। প্রতিপক্ষ শীর্ষ সন্ত্রাসী জয়ের ভয়ে হারিস কলকাতা ছেড়ে পাকিস্তানে যান।