কোরবানির জন্য প্রস্তুত ৬১ হাজার পশু: নরসিংদীর খামারিরা বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায়
নরসিংদী জেলায় আসন্ন ঈদুল আযহার জন্য ৬০ হাজার ৯১০ টি গবাদি পশু প্রস্তুত করা হয়েছে । করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় কঠোর লকডাউনের কারনে কোরবানির পশু বিক্রি নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন এ অঞ্চলের খামারিরা । পবিত্র ঈদুল আযহাকে সামনে রেখে ছোট ও বড় খামারিরা কোরবানির পশু নিয়ে স্বপ্ন দেখছেন।
গত বছরের লোকসান কাটিয়ে উঠতে আশায় বুক বেধেছেন । কিন্তু কঠোর লকডাউনের কারনে সেই আশা পুরন হবে কিনা তা নিয়ে শঙ্কিত খামারিরা ।
নরসিংদী জেলা পশু সম্পদ অধিদপ্তর সূত্রে থেকে জানা যায়, নরসিংদী জেলায় এ বছর ৬০ হাজার ৯১০ টি গবাদি পশু প্রস্তুত রয়েছে । জেলায় ৬ হাজার ৭৬২ টি খামার রয়েছে । এই সকল খামারের মাধ্যমে ৩১ হাজার ৪০৭ টি ষাড়, ৯ হাজার ৮৫০ টি বলদ, ৫ হাজার ৪৯২ টি গাভি, ১ হাজার ৫১৮ টি মহিষ, ৯ হাজার ৬৫১ টি ছাগল, ২ হাজার ৯১৮ টি ভেড়া ও অন্যান্য ৭৪ টি পালন করা হচ্ছে। জেলায় চাহিদা রয়েছে ৫৫ হাজার।
করোনা সংক্রমণ ও লকডাউনের কারণে এবার কোরবানির পশুর চাহিদা কমতে পারে। ফলে অনেক গরু অবিক্রিত থেকে যাওয়ার আশংকা রয়েছে । কোরবানি ঈদের মাত্র বাকি রয়েছে ১৪ দিন। এর মধ্যে বাড়ছে করোনা সংক্রমণ ।
করোনা সংক্রমণ ও কঠোর লকডাউনের কারনে ভেঙে গেছে খামারিদের মন। মঙ্গলবার ( ৬ জুলাই ) রায়পুরা উপজেলার রাধাগঞ্জ গরর হাটে গিয়ে দেখা যায় ক্রেতা বিক্রেতা শুন্য গরুর হাট। প্রশাসনের বাধায় গরু নিয়ে বাজারে উঠতে না পারায় রাস্তায় রাস্তায় গরু নিয়ে বসে আছে গরু বিক্রেতারা।
রাধাগঞ্জ হাটে গরু বিক্রি করতে আসা বিক্রেতা জায়েদুল বলেন, আমি দুইটি গরু নিয়ে আসছি হাটে বিক্রির জন্য কিন্তু প্রশাসনের বাধায় গরু বিক্রি করতে পারছিনা। গরু নিয়ে রাস্তায় বসে আছি।
আরেক বিক্রেতা মোগল মিয়া বলেন, হাটে গরু বিক্রি করতে বাধা দেওয়ায় আমরা গরু নিয়ে রাস্তায় বসে আছি। আমরা গরু বিক্রি করতে না পারলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হব।
জেলা পশু সম্পদ কর্মকর্তা ডা : মো : হাবিবুর রহমান খান বলেন, করোনা পরিস্থিতিতে কোরবানি পশু বিক্রি নিয়ে আমরা শঙ্কিত। এরই মধ্যে যদি করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হয় এবং জাতীয়ভাবে যদি কোরবানি পশু বিক্রির বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয় তবে আমরা সেই ভাবে ব্যবস্থাপনা করব। বর্তমানে নরসিংদীতে ৮ টি অনলাইন প্লাটফর্মের মাধ্যমে কোরবানির পশু বেচা কিনা হচ্ছে । অবিলম্বে সরকার খামারিদের কথা চিন্তা করে সুষ্ঠ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে কোরবানির পশু বিক্রির ব্যবস্থা করবেন এমনটাই প্রত্যাশা পশু বিক্রেতাদের।
একে এম রেজাউল করিম/বার্তা বাজার/টি