বালিয়াকান্দিতে বিকাশ প্রতারণা চক্রের প্রধান গ্রেফতার

রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দিতে বিকাশ প্রতারনা চক্রের গ্রুপ প্রধান মিরাজ হোসেনকে (৩৫) গ্রেফতার করেছে থানা পুলিশ। সোমবার (৫ জুলাই) তাকে গ্রেফতার করা হয়। সে উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া (মদনডাঙ্গী) গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বালিয়াকান্দি থানার ওসি তারিকুজ্জামান। তিনি বলেন, বালিয়াকান্দি উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের নারুয়া, বাকসাডাঙ্গী, মধুপুর, চরটাকাপোড়া, চরঘিকমলা, মরাবিলা, কোনাগ্রাম, সোনাকান্দর, গাড়াকোলা, খাটিয়াগাড়া ও জঙ্গল ইউনিয়নের অলংকারপুর, ঢোলজানি, সমাধিনগর, পুষআমলাসহ বিভিন্ন গ্রামে দীর্ঘদিন ধরে বিকাশ প্রতারক চক্র সক্রিয় হয়ে উঠেছে। এদের মধ্যে টিম ওয়ার্ক কাজ করে। কেউ বিকাশের দোকানের খাতার ছবি সংগ্রহ, মোবাইলে টাকা হাতানো, টাকা উত্তোলন, কেউ প্রশাসন প্রবেশে নজরদারী, বিকাশ সিম সংগ্রহ করার কাজে ভিন্ন ভিন্ন প্রতারকরা কাজ করে।

তিনি বলেন, গত ১লা মে মাসে উপজেলার জামালপুর ইউনিয়নের ডাঙ্গাহাতিমোহন গ্রামের হরিপদ ঘোষের ছেলে দেবাংশু ঘোষের কাছ থেকে ৮৪ হাজার ৯শত টাকা মোবাইলে প্রতারনার মাধ্যমে হাতিয়ে নেয় বিকাশ প্রতারক চক্র। এ বিষয়ে দেবাংশু ঘোষ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা প্রতারকের বিরুদ্ধে বালিয়াকান্দি থানায় জিডি করেন। জিডির সুত্রধরে থানার পুলিশ তদন্তে নামে। দীর্ঘদিন তদন্ত শেষে প্রতারকদের সনাক্ত করে।

পরে দেবাংশু ঘোষ বাদী হয়ে থানায় নিয়মিত মামলা দায়ের করেন। মামলা দায়েরের পর পুলিশ প্রতারকদের গ্রেফতারে অভিযান পরিচালনা করে। উপজেলার নারুয়া ইউনিয়নের চরটাকাপোড়া গ্রামের কালাম খানের ছেলে রুহুল আমিন ওরফে রুহুকে গ্রেফতার করে। তার কাছ থেকে ২১টি মোবাইলের বিকাশ করা সিম, একটি এ্যাপাসী রেজিষ্ট্রেশন বিহীন মোটর সাইকেল, প্রতারনা কাজে নিয়োজিত একটি মোবাইল সেট উদ্ধার করা হয়। তার স্বীকারোক্তি মোতাবেক সোমবার সন্ধ্যায় থানার এস,আই মাজহারুল ইসলাম সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে ৭টি সিম, ২টি স্মার্ট ফোনসহ বিকাশ প্রতারক চক্রের গ্রুপ প্রধান মিরাজকে গ্রেফতার করে। তাকে মঙ্গলবার রাজবাড়ী আদালতে পাঠানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, মিরাজের পিতা শুকুর আলী পেশায় একজন ভ্যান চালক। দুই ভাই মিরাজ ও মিরুল সংসারের টানাটানিতে গড়াই নদীর তীরে বাড়ী হওয়ার কারণে দিনে ভ্যান চালক ও রাতে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করছিল। হঠাৎ করেই মোটর সাইকেল ক্রয় করে রাজকীয় চলাফেরা করতে থাকে। তখনই মানুষের নজরে আসে রাতারাতি বদলে যাওয়া মিরাজের জীবন। সে তার মনোনিত লোকদের সহায়তায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করে বিকাশ কল সেন্টারের ভূয়া নম্বর ব্যবহার করে হাতিয়ে নেয় লক্ষ লক্ষ টাকা।

মেহেদী হাসান রাজু/ বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর