উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ লংঘন করে নিজের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আনোয়ার ট্রেডার্স’ এর অধীনে নাটোরের গুরুদাসপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সড়ক উন্নয়নের কাজ করানোয় গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেনকে এর কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
নোটিশে বলা হয়েছে- আপনি মো. আনোয়ার হোসেন নাটোর জেলার গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান। আপনি উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান থাকা সত্ত্বেও আপনার মালিকাধীন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এলজিইডি নাটোর -এর GRDRIDP প্রকল্পের অধীন গুরুদাসপুর উপজেলাধীন উন্নয়ন প্রকল্পে চুক্তিবন্ধ হয়ে উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের সড়ক উন্নয়নের কাজ করার বিষয়টি রাজশাহী বিভাগীয় কমিশনারের তদন্তে প্রাথমিকভাবে সত্যতা পাওয়া গেছে।
বর্ণিত অভিযোগটি উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ -এর ১৩(১)(গ) ধারার অপরাধের শামিল। যেহেতু আপনার বিরুদ্ধে উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ -এর ১৩(২) ধারায় কর্যক্রম গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে- এমতাবস্থায় উপজেলা পরিষদ আইন, ১৯৯৮ -এর ১৩(১)(গ) ধারার অপরাধে আপনার বিরুদ্ধে কেন আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা একই আইনের ১৩(২) ধারা অনুযায়ী পত্র প্রাপ্তির সাত দিনের মধ্যে জবাব দাখিল করতে নির্দেশনা দেয়া হলো।একই সাথে আপনি ব্যক্তিগত শুনানিতে ইচ্ছুক কিনা তা জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।
এর আগে ৩০ মে আনোয়ার হোসেনের চেয়ারম্যান পদে থাকার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টেরিট করা হয়েছিলো। মোঃ রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তি রিটটি দায়ের করেন।
রিট পিটিশনে বলা হয়- মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন উপজেলা চেয়ারম্যান পদে উপজেলা পরিষদ আইন ১৯৯৮ লংঘন করে আসীন রয়েছেন এবং নিজের নামে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘আনোয়ার ট্রেডার্স’ -এর পক্ষে সরকারের সাথে চুক্তিবদ্ধ হন মর্মে দরখাস্ত উল্লেখ করেন।
এরপর ১ জুন হাইকোর্টের বিচারপতি এম এনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি সরদার মোহাম্মদ রাশেদ জাহাঙ্গীরের সমন্বয়ে গঠিত দ্বৈত বেঞ্চে এই রিটের শুনানি হয়।শুনানি শেষে গুরুদাসপুর উপজেলা চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন কোন কর্তৃত্ব বলে পদে আসীন রয়েছেন তা জানতে চেয়ে রিটের রেসপনডেন্টদের বিরুদ্ধে রুল জারি করেন হাইকোর্ট।
সাকলাইন শুভ/বার্তাবাজার/পি