টেকনাফে আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এনাম মেম্বারের অবৈধ মার্কেট নির্মাণ!
কক্সবাজারের টেকনাফে উপজেলার সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া এলাকায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে অন্যের জমি দখল করে মার্কেট নির্মান করার অভিযোগ উঠেছে আত্মস্বীকৃত মাদক কারবারী এক ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে।
সূত্র জানায়- সদর ইউনিয়নের নাজিরপাড়া গ্রামের ছিদ্দিক আহমদের ছেলে ফরিদুল আলম গং ২০১২ সালে আরএস খতিয়ান মূলে সোলতান আহমদ, নূরুল ইসলাম ও জুলেখা বিবির এবং মাষ্টার আশরাফ মিয়া গং থেকে বিএস খতিয়ান মূলে ০.৩৬৩৩ একর (৬৬ কড়া) জমি দখলসহ রেজিস্ট্রি মূলে কিনে নেয়। যার- আরএস খতিয়ান নং ৫১০/২৫২, বিএস খতিয়ান নং ৫৮৪, বিএস দাগ নং ১৭২৬৬।
২০১৪ সালে জমিটি ক্রয় সূত্রে মালিক ফরিদ গং মূল মালিকের কাছ থেকে দখল বুঝে নিতে গেলে স্থানীয় মৃত মোজাহার মিয়ার ছেলে ইউপি মেম্বার ও আত্মস্বীকৃত ইয়াবা কারবারী এনামুল হক গং এর সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। পরবর্তীতে এই ঘটনায় ফরিদ আলমের পরিবারকে একটি হত্যা মামলায় অন্যায় ভাবে জড়িয়ে এলাকা ছাড়া করে। সেই সুযোগে এনামুল হক গং জমিটি জবর দখলে নেয়।
পরবর্তীতে জমির মালিক ফরিদ গং এর পক্ষে ফরিদ আলম বাদী হয়ে কক্সবাজার ২য় জজ আদালতে জমিটি উদ্ধারের জন্য একটি মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং (আপর-৫২/১৮)। আদালত উক্ত নালিশি জমিতে স্থিতি অবস্থা বজায় রাখতে এনামুল গং এর প্রতি একই বছর ২৪ অক্টোবর একটি আদেশ জারি করেন। যার আদেশ নং (১০/২০১৮)।

আদালতের নির্দেশ অমান্য করে স্থানীয় এক প্রভাবশালীর ছত্র ছায়ায় উক্ত জমিতে অবৈধ ভাবে একটি নাম মাত্র কথিত নূরানী মাদ্রাসা নির্মান করে জমিটি দখলে নেয়ার চেষ্টা করলে উক্ত অবৈধ স্থাপনা বন্ধ করতে আদালতের আদেশের সংযুক্তিসহ ২০১৮ সালের ফরিদুল আলম বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেন।
জমির মালিক ফরিদ আলমের দাবী- অভিযোগ দায়েরের পর তৎকালীন টেকনাফ থানার ওসি এনামুল হক মেম্বারের কাছে আর্থিক সুবিধা নিয়ে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করেনি। উল্টো মোটা অংকের টাকা দিয়ে ম্যানেজ করে চারদিকে প্রাচীর তুলে সেমিপাকা ঘর নির্মান করে। বাঁধা দিতে গেলে প্রদীপ বাহিনীর মাধ্যমে আমার পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করে এলাকা ছাড়া করে।

১০২ জন শীর্ষ মাদক কারবারীদের সাথে আত্মসমর্পন করে চলতি বছর জামিনে এসে জোর পূর্বক স্থানীয় সন্ত্রাসীদের সশস্ত্র মহড়ায় কথিত নূরানী মাদ্রাসা থেকে মার্কেটে রূপান্তর করে। বর্তমানে সেই মার্কেটে নিজস্ব অফিস ও দোকান দিয়ে ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে। তার অবৈধ টাকা ও সন্ত্রাসী ভাইদের দাপটে আমরা অসহায়।
এই বিষয়ে এনামুল হক মেম্বারের কাছে জানতে চাইলে তিনি যথাযত বক্তব্য না দিয়ে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। ফলে তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
বার্তা বাজার/টি