ঢাকার সাভারে ফিজিওথেরাপি সেন্টারে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। ওই ঘটনায় আটক হওয়া আসামিকে রাতভর থানায় রেখে মোটা অংকের ঘুষের বিনিময়ে ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সাভার থানা পুলিশের বিরুদ্ধে।
শনিবার (০৩ জুলাই) সাভারের সিআরপি এলাকায় আলিফ ফাউন্ডেশন নামে একটি ফিজিওথেরাপি সেন্টারে ধর্ষণের এ ঘটনা ঘটে। ওইদিন দুপুরেই ভুক্তভোগী নারী মামলা দায়ের করেন সাভার থানায়।
অভি্যোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সকালে ডগরমোড়া সিআরপি এলাকায় ওই নারীকে কৌশলে ডেকে নিয়ে যায় আলিফ ফাউন্ডেশনের সংঘবদ্ধ একটি চক্র। সেখানে আগে থেকে উপস্থিত ৭ ব্যক্তিকে দেখে ভুক্তভোগী নারীর কিছুটা সন্দেহ হলে তিনি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেন। কিন্তু অন্যরা তাকে জোর করে একটি কক্ষে আটকে ফেলে। তখন বাকিদের পাহারায় এক যুবক তাকে ধর্ষণ করেন। ঘটনা জানাজানি হলে হত্যার হুমকি দিয়ে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীর স্বামী জানান, ঘটনার কিছুক্ষণ পর সাভার থানায় অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করা হয় সাভার থানায়। অভিযোগের প্রেক্ষিতে শনিবার রাতেই অভিযান চালিয়ে ‘আলিফ ফাউন্ডেশন ফিজিওথেরাপি’ থেকে প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছেলে রুবেল ও ম্যানেজার ইকবাল মিয়াকে আটক করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। পরে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, রাতভর থানায় আটকে রেখে দেড় লাখ টাকার বিনিময়ে থেরাপি প্রতিষ্ঠানের মালিকের ছেলে রুবেলকে রোববার সকালে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে অভিযান পরিচালনাকারী সাভার থানার উপ-পরিদর্শক সৌকত জানান, ধর্ষণের অভিযোগে শনিবার রাতে আলিফ ফাউন্ডেশনের কর্ণধার রফিক কোম্পানির ছেলে রুবেল ও প্রতিষ্ঠানের ম্যানেজার ইকবাল মিয়াকে আটক করা হয়। ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে তিনি যুক্ত ছিলেন কিনা তা জানতে তাকে আটক করা হয়েছিল। এরপর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
স্থানীয় আব্দুল জলিল জানান, রফিক (কোম্পানি) ও তার ছেলে রুবেল দীর্ঘদিন ধরে তার ছয়তলা বাড়িতে রোগীদের চিকিৎসা দেওয়ার নামে, অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে এমন অভিযোগে পুলিশ ওই বাড়িতে কয়েকবার অভিযানও চালিয়েছে। আর ধর্ষণের অভিযোগে আটক আসামি রুবেলকে ছেড়ে দেয় পুলিশ।
এ বিষয়ে সাভার মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কামাল হোসেন জানান, টাকার বিনিময়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার ব্যাপারটি আমার জানা নেই। তবে আটক দু’জনের মধ্যে একজনকে নির্দোষ মনে হওয়ায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
বার্তা বাজার/এসজে