মাগুরার শ্রীপুরে রবিবার কয়েকশত ভ্যান চালক `ভ্যান চালানোর অনুমতি দিন না হয় খাবার দিন`-এই আর্জি জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে। অন্যদিকে ত্রাণের দাবিতে শতশত কর্মহীন অসহায় নারী পুরুষ সকাল থেকে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ভিড় করলেও সন্ধ্যায় খালি হাতে ফিরে গেছেন তারা।
সকালে শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে নিজস্ব ভ্যান নিয়ে শ্রীপুর শেখ রাসেল মিনি স্টেডিয়াম মাঠে এবং শ্রীপুর উপজেলা পরিষদের সামনে এসে জড়ো হন। এরপর ভ্যান চালকরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিউজা উল জান্নাহ-এর কাছে এই দাবি তুলেন যে, ভ্যান চালাতে না পারার কারণে অর্ধহারে অনাহারে দিক কাটাতে হচ্ছে। দ্রুত তাদের ভ্যান চালানোর অনুমতি দেওয়া হোক নতুবা তাদের পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সরবরাহ করা হোক।
শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিউজা উল জান্নাহ ভ্যান চালকদের এই বক্তব্য শোনার পর এই মুহূর্তে কোন ধরনের খাদ্য সহায়তা দেওয়ার বিষয়ে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তবে সরকারি সহায়তা এলেই তিনি সবাইকে খাদ্য পৌঁছে দেবেন বলে জানান। একই সাথে তিনি প্যাডেল চালিত ভ্যান চালানোয় কোনো নিষেধাজ্ঞ নেই বলে ঘোষণা দেন। তবে ভ্যানে কম যাত্রী নিতে অনুরোধ করেন।

উপজেলার মুজদিয়ার গ্রামের গরিব ভ্যান চালক আবু বক্কার জানান, লকডাউন ঘোষিত হওয়ার পর তিনি সম্পূর্ণ বেকার। কোনো আয় রোজগার নেই। আগে ইঞ্জিন চালিত ভ্যান চালিয়ে দিনে গড়ে চার থেকে পাঁচশত টাকা আয় করতেন। কিন্তু বর্তমানে তাঁর অবস্থা খুবই করুন। বক্কারের মতো শত শত ভ্যানচালকের অবস্থা এখন একই রকম।
জানা গেছে শ্রীপুরের আটটি ইউনিয়নে অন্তত কয়েক হাজার ভ্যান ও ইঞ্জিন চালিত ভ্যান চালক রয়েছেন। যাদের জীবিকা পুরোটাই এই যানের উপর নির্ভরশীল। এদিকে খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে সরকারি এবং ব্যক্তিগত উদ্যোগে এখনও কেউ কোনো ধরনের খাদ্যসামগ্রি সহায়তা প্রদান করেনি।
এদিকে রবিবার সকাল থেকে ত্রাণের দাবিতে মাগুরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনেও শতশত নারী পুরষ ভিড় করলে তারা ত্রাণ পান নি। রবিবার সকাল থেকেই শহরতলীর বিভিন্ন গ্রাম থেকে আসা কয়েকশত নারী পুরুষ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে ত্রাণের জন্যে ভিড় করেন। কিন্তু কোনো ত্রাণ তো পাননি, উপরোন্তু প্রশাসনের লোকদের দিয়ে ধাওয়া করে সরিয়ে দেয়া হয়েছে বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে মাগুরা জেলা প্রশাসক ডক্টর আশরাফুল আলম বলেন, ডিসি অফিস থেকে কোনো ত্রাণ দেয়া হচ্ছে না। ত্রাণ দিচ্ছে বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদ এবং পৌরসভা। আমরা কেবল সমন্বয় করছি। তাছাড়া ৩৩৩ নম্বরে কেউ কল করলে তাকে দেয়া হচ্ছে। তবে এন্টি গভমেন্ট কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে ডিসি অফিসের সামনে ভিড় করিয়েছে। কেউ কেউ স্লিপ দিয়ে লোক পাঠাচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে।
তাছিন জামান/বার্তা বাজার/টি