নুরের সাথে আমার ভুল বোঝাবুঝির সমাধান হয়েছে: রাশেদ

কোটা সংস্কার আন্দোলন থেকে সৃষ্ট ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকারের শীর্ষ পর্যায়ের দুই নেতা রাশেদ খান ও নুরুল হক নুরের দ্বন্দ্ব সমাধান হয়েছে বলে জানা গেছে।

রোববার (০৪ জুলাই) বিকাল ৫টায় নিজের ফেসবুক পেজে বিষয়টি জানিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন রাশেদ খাঁন। ভবিষ্যতে একসাথে চলার ক্ষেত্রে তারা সতর্ক থাকবে বলেও জানান।

রাশেদ লিখেন, দেশের মানুষের কাছে দুঃখ প্রকাশ করছি। আমরা বয়সে তরুণ যে কারণে মাঝেমাঝে বক্তব্য, কথা, কাজের মধ্যে ভুল করে বসি। নুর ও আমার মধ্যে যে ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিলো, সেটা আলোচনার মাধ্যমে সুন্দর সমাধান হয়েছে।আশা করি, ভবিষ্যতে নিজেরা চলার পথে আরও বেশি সতর্ক থাকবো। নুর ও আমার মধ্যে কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরুর দিন থেকে সুসম্পর্ক ছিলো, ভবিষ্যতেও সম্পর্ক ধরে রেখে নিজেরা ঐক্যবদ্ধ থাকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করবো, ইনশাআল্লাহ।

তিনি আরও লিখেন, দেশের মানুষকে আমরা অভিভাবক মনে করি। আমাদের ভুল হলে অবশ্যই সমালোচনা করবেন, পরামর্শ দিবেন, যাতে শুধরিয়ে নিয়ে নিজেদের পরিপক্ব হিসেবে গড়ে তুলতে পারি।
সবার কাছে আবারও ক্ষমা প্রার্থনা করছি…….

এর আগে, গত ২ জুলাই এক বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক রাশেদ খাঁনকে অব্যাহতি দেয় ডাকসুর সাবেক ভিপি, ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের সমন্বয়ক নুরুল হক নুর।

নুরুল হক নুর স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কাজে যুক্ত থাকার অভিযোগে বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের আহ্বায়ক মুহাম্মদ রাশেদ খান ও যুগ্ম আহ্বায়ক মো. সোহরাব হোসেনকে সাময়িকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের এক যৌথ মিটিংয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে তাদেরকে কেন স্থায়ী বহিষ্কার করা হবে না তার কারণ দর্শাতে তদন্ত কমিটির কাছে যথাযথ ব্যাখা প্রদান করার অনুরোধ করা হলো।

অন্যদিকে রোববার (৪ জুলাই) পাল্টা নোটিশে নুরকে এই ঘটনায় কারণ দর্শাতে বলেন রাশেদ। এমনকি ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদে সমন্বয়ক নামে কোনো পদ নেই বলে দাবি করেন তিনি।

মুহাম্মদ রাশেদ খাঁন স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের উল্লেখিত নোটিশের আলোচনায় কেন্দ্রীয় কমিটির বেশিরভাগ নেতা উপস্থিত ছিলেন না। আর তাই ওই সভায় সাংগঠনিক কোন সিদ্ধান্ত হওয়ার এখতিয়ার কারো নেই।

একই সঙ্গে বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদে ‘সমন্বয়ক’ কোন পদই নেই। তাই বাংলাদেশ ছাত্র, যুব ও শ্রমিক অধিকার পরিষদের নামে সমন্বয়ক পদ ব্যবহার করে কেন্দ্রীয় কমিটির বিলুপ্তির ঘোষণাকারীর বিরুদ্ধে কেন সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে না তা আগামী ৭ দিনের মধ্যে জানাতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্র অধিকার পরিষদের সকল বিশ্ববিদ্যালয়-জেলা-মহানগর ও উপজেলা কমিটিকে বিভ্রান্ত না হয়ে সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যেতে আহ্বান জানানো হয়েছে।

বার্তা বাজার/এসজে

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর