সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে তেলাপোকার উপদ্রবে অতিষ্ঠ রোগীরা
সিরাজগঞ্জ বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতালে কোনো শয্যা ফাঁকা নেই। শয্যা ছাপিয়ে ওয়ার্ডের ভেতর, বারান্দা, করিডোর থেকে শুরু করে সিঁড়ি পর্যন্ত রোগীরা দীর্ঘ লাইন দিয়ে মেঝেতে শুয়ে আছে। মেঝেতে অতিরিক্ত শয্যা দিয়েও রোগীর ভিড় সামলাতে পারছে না হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। রোগীরা নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় শয্যা বিছিয়ে শুয়ে আছেন। এরপরও রোগীর চাপ কমছে না।
এদের মধ্যে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগী ছাড়াও ১৬ জন করোনা রোগী তেলাপোকার যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন। ওয়ার্ডে-ওয়ার্ডে ঘুরছে তেলাপোকা। বসে-শুয়ে কোনোভাবেই শান্তি পাচ্ছে না রোগীরা। শুয়ে থাকলে গায়ের ওপর দিয়ে তেলাপোকা চলাফেরা করে। খাবার এনে রাখলে তার ভেতর ঢুকে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে ঠিকমতো খাবার খেতেও পারছে না রোগীরা।
শনিবার বিকেলে হাসপাতালের করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডে ভর্তি এক রোগীর স্বজনের পাঠানো ভিডিও এবং কয়েকজন রোগীদের সাথে মোবাইলে কথা বলে জানা যায়, হাসপাতালের ৫ম তলার ১৭, ১৮ ও ১৯নং ওয়ার্ডের প্রতিটি বেডের নিচে তেলাপোকায় সয়লাব। এগুলো খাবারের ওপর দিয়ে চলাফেরা করছে। অক্সিজেনের পাইপের গোড়ায় ও ইলেকট্রিক ছকেটের ভেতরেও বাসা বেঁধেছে। কম বেশি সব ওয়ার্ডের ভেতরেই তেলাপোকা। তেলাপোকার যন্ত্রণায় রোগীরা শান্তিতে বেডে থাকতে পারে না। ঘুমের মধ্যে শরীরের উপর দিয়ে তেলাপোকা চলাফেরা করায় কোন কোন সময় চিৎকার করে ওঠে রোগীরা।
করোনা পজিটিভ হওয়ায় বৃহস্পতিবার বিকেলে হাসপাতালে ভর্তি হন উল্লাপাড়া উপজেলার মুলবেড়া গ্রামের হাজী মো. চাঁদ আলী (৬৩)। এরপর তিনি হাসপাতালের ৫ম তলার ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের ২৯ নং বেডে ওঠেন। তার ভাতিজা আল-মাহমুদ অভিযোগ করে বলেন, সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসা এতো খারাপ মানের তা আমার জানা ছিলোনা।
পরিবেশের কথা আর কী বলবো, তেলাপোকা আর তেলাপোকা। এগুলোর যন্ত্রণায় অতিষ্ঠ রোগীরা। এখানে কোনো মানুষ থাকতে পারে ? শুয়ে থাকলে কানের মধ্যে তেলাপোকা ঢুকে যায়। খাবার রাখলে তা আর পরে খাওয়া যায় না। ঠিকমতো ঘুমাতেও পারে না। এভাবেই যন্ত্রণা সহ্য করে চিকিৎসা নিচ্ছেন এ ওয়ার্ডের রোগীরা।
সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক অফিসের নেজারত শাখার পরিছন্নতাকর্মী কমল কুমার বলেন, গত মাসের ২৩ তারিখে করোনা পজিটিভ আসলে ওই দিনই আমি ভর্তি হই। ভর্তির পর করোনা পজিটিভ ওয়ার্ডের ১৭ নং রুমের ৩১ নম্বর বেড পাই। বেডে শোয়ার কিছুক্ষন পরই দেখি আমার মাথার কাছে তেলাপোকা গিজ গিজ করছে। মনে হলো- কেউ আমাকে শাস্তি দেয়ার জন্য তেলাপোকা ছেড়ে দিয়ে গেছে। এই বুঝি সরকারি হাসপাতাল ? খাওয়ার পানির ব্যবস্থা নেই, টয়লেট অনুপযোগী। ঠিক মতো ওষুধ ও হাসপাতালের লোকজনকে পাওয়া যায় না।
জেলার রায়গঞ্জ উপজেলা পশু হাসপাতালের লাইফ ষ্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) মো. রাকিব হাসানও (২৮) করোনা পজিটিভের কারণে গত মাসের ২৭ তারিখে হাসপাতালে ভর্তি হন। এর পরই যেন তার শুরু হয় তেলাপোকার সাথে যুদ্ধ। নাকে, কানেসহ শরীরের সব জায়গায় তেলাপোকা। খাবার এনে এক মিনিটও রাখার উপায় নেই, সঙ্গে সঙ্গে তেলাপোকা হাজির। তিনি আরও বলেন, উন্নয়ন কাজে সরকার এত টাকা ব্যয় করছে, সেখানে তেলাপোকা মারার মতো ওষুধ কেনার টাকা নেই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের! আমরা চিকিৎসা নিতে আসি আবার চলে যাই, কিন্তু সমস্যার কোনো সমাধান হয় না।
রোগীদের দেখতে আসা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন ব্যক্তি জানান, সরকার চিকিৎসাখাতে অনেক বাজেট বরাদ্দ দেয়। ওই সব বরাদ্দের সবই কি নয়-ছয় হ। না হলে রোগীর বেডগুলো থাকার অনুপযোগী কেন? বেডগুলো ও আশপাশের পরিবেশের কি দশা! সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ চাইলে একদিনেই সমস্যা দূর করতে পারেন। কিন্তু কি কারণে এসব ব্যাপারে ব্যবস্থা নেন না তা বুঝি না।
এ সব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. ফরিদুল ইসলাম বলেন, করোনা ইউনিটে স্টাফদের অনেকেই যেতে সাহস পায়না। যে কারনে এ ধরনের সমস্যা হতে পারে। তবে খোঁজ নিয়ে এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।
হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা. মো. সাইফুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নই, আপনার কাছেই জানলাম। দ্রুত বিষ প্রয়োগ করে তেলাপোকা নিধন করা হবে
এম এ মালেক/বার্তা বাজার/টি