জাতীয় সংসদের বিরোধী দলীয় উপনেতা জিএম কাদের তার সমস্যার কথা জানাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেককে ছয়-সাতবার ফোন দিলেও তিনি ধরেননি বলে অভিযোগ করেছেন।
শনিবার (০৩ জুলাই) বাজেটে অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে নিজ নির্বাচনী এলাকার স্বাস্থ্যসেবার বেহাল দশার কথা জানাতে গিয়ে এই অভিযোগ করেন।
জিএম কাদের বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এক বছর আগে যে অবস্থায় ছিল, এখনো সেখানেই আছে। করোনা পরিস্থিতিতেও মন্ত্রণালয়ের কোনো উন্নতি হয়নি। সদর হাসপাতাল স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সভাপতি পদে পদাধিকারবলে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের দায়িত্ব দেওয়া হয়। তাঁরা সঠিকভাবে কাজ করেন না বলে স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়ন হচ্ছে না, এ মন্তব্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী করেছেন। এ কথার কারণে মানুষের মধ্যে ভুল-বোঝাবুঝির সৃষ্টি হতে পারে। যাঁদের এভাবে সভাপতি করা হয়, তাঁদের কোনো সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব দেওয়া হয় না। তাঁরা নিজ উদ্যোগে হাসপাতালের সমস্যা নির্ধারণ করেন এবং সমাধানের প্রচেষ্টা করেন।
তিনি বলেন, স্বাস্থ্যসেবা কমিটিকে কোনো ক্ষমতা বা কর্তৃত্ব দেওয়া হয়নি। নিয়ম, আইন বা অর্থ বরাদ্দ—এমন কিছুই থাকে না, যাতে তাঁরা সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করতে পারেন। প্রায় সময় সিদ্ধান্তকে বাস্তবে রূপ দিতে মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ হস্তক্ষেপ প্রয়োজন পড়ে। ফলে তাঁদের প্রধান কাজ হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা সরাসরি মন্ত্রীকে খুশি করে কাজটি বাস্তবায়ন করা।
মন্ত্রী ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় না পাওয়ার অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, আমি মাননীয় মন্ত্রীকে (স্বাস্থ্যমন্ত্রী) ছয়-সাতবার টেলিফোন করেছি। উনি টেলিফোন ধরেন না। তাঁর সহকারীকে ফোন দেওয়ার পরও পরে ফোন ব্যাক করেন না। এ রকম ব্যবহার পেয়েছি। পত্র দিলে কোনো উত্তর বা সমাধান মেলে না। সংসদ সদস্যরা অনেকেই তখন বাধ্য হয়ে সমাধানের লক্ষ্যে বিষয়গুলো সংসদে তুলে ধরেন। যদিও এরপর সমাধান তেমন একটা পাওয়া যায় না।
বার্তা বাজার/এসজে