শেষ কেমো নেয়া হলো না ফরিদার

ফরিদা আক্তার (৩২) ফুসফুসের ক্যান্সারে ভুগছিলেন বেশ কিছুদিন যাবত। আজকেই তার শেষ কেমো থেরাপি দেয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস তার আর সেটি দেয়া হয়ে উঠলোনা। মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে হলো মর্মান্তিক এক সড়ক দুর্ঘটনায়। শুধু তিনিই মারা যাননি। তার সাথে মারা গিয়েছেন তার ছোট্ট মেয়ে মারিয়া (১০) এবং তার সাথে সহযোগী হিসেবে যাওয়া বড় বোন ফেরদৌস আরাও (৪৫)।

শনিবার (৩ জুলাই) সকালের দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল-বঙ্গবন্ধু মহাসড়কের কালিহাতীর হাতিয়া নামক স্থানে উত্তরবঙ্গের দিকে যাওয়া একটি অ্যাম্বুলেন্সের সাথে ঢাকাগামী মাছবাহী পিকআপ ভ্যানের সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

নিহত ফরিদার বড় ভাই সোহেল বার্তা বাজারকে বলেন, চট্রগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ৩৮ নং ওয়ার্ডের দক্ষিন হালি শহরে আমাদের বাড়ি। আমার ছোট বোন ফরিদার কয়েক বছর যাবৎ মরণব্যাদি ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্ত। গত ১ বছর যাবত সিরাজগঞ্জের খাজা ইউনুস আলী হাসপাতালে কেমো থেরাপি দিচ্ছিলেন ফরিদা।

তিনি আরও জানান, শেষ কেমো থেরাপি দেওয়ার জন্য গতকাল শুক্রবার রাতে বাড়ি থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে সিরাজগঞ্জ খাজা ইউনুস আলী হাসপাতালের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। আজকেই ছিলো তার শেষ কেমো। আমরা ভেবেছিলাম হয়তোবা এবার অনেকটাই সুস্থ হয়ে যাবে ওহ আশায় বুক বেধে ছিলাম। কিন্তু তা আর হলোনা সাথে থাকা ভাগ্নিসহ বড় বোনেরও প্রাণটা গেলো।

এসময় তিনি কেঁদে কেঁদে বার্তা বাজারকে বলেন, সকালে হঠাৎ করেই পুলিশ আমাকে ফোন করে বলে আপনার বোন ভাগ্নি অনেক অসুস্থ তাড়াতাড়ি টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে চলে আসেন। প্রথমে বুঝতে পারছিলামনা কিন্তু পরে নিউজে জানতে পারলাম বড় সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে টাঙ্গাইলে। তখনই বুঝতে পারলাম আমাদের অনেক বড় ক্ষতি হয়ে গেছে।

ঘটনাস্থলে থাকা প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মজিদ বার্তা বাজারকে বলেন, সকালে হাটার জন্য বের হয়ে ছিলাম। লকডাউনে তেমন বের হওয়া হয় না তাই সকালে বের হয়েছি । হঠাৎ একটা বিকট শব্দ পেলাম পিছনে চেয়ে দেখি একটি পিকআপ ও অ্যাম্বুলেন্স সামনা সামনি ধাক্কা খেলো তারপর কাছে গিয়ে দেখি সবাই গাড়ির নিচে পরে আছে। আস্তে আস্তে আশেপাশের লোকজন আসলো । আমরা ধরাধরি করে বের করলাম তারপর পুলিশ এসে গাড়ির নিচ থেকে গাড়িতে থাকা লোকজনদেরকে বের করার পর দেখি ৩ জন মৃত এবং বাকি ৭ জন আহত।

বঙ্গবন্ধু সেতু পূর্ব থানার (ওসি) তদন্ত শাহিদুল ইসলাম বার্তা বাজারকে জানান, মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে ঘটনা স্থলে যাই । এরপর আমরা বের করে আনি সব লোকজনদেরকে । দেখতে পাই যে ৩ জন মৃত এবং বাকি ৭ জন গুরুত্বর আহত। পরে তাদেরকে চিকিৎসার জন্য টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয় । সেখানে পাঠানোর পর শুনছি আরও দুইজন মারা গেছে।

টাঙ্গাইল জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা ডাঃ শফিকুল ইসলাম সজিব বার্তা বাজারকে বলেন, সকাল ৯ টার দিকে হাসপাতালে আহত ব্যাক্তিদের নিয়ে আসা হয়। সেখান থেকে দুইজন পরে মারা যায়। তাদের হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। আর বাকী পাঁচ আহতকে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।

হাসান সিকদার/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর