যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগীরা মেঝেতে চিকিৎসাসেবা নিচ্ছেন। খালি নেই ১১ টি আইসিইউ বেডের একটিও যার ফলে রোগীদের মধ্যে হাহাকার দেখা দিয়েছে। এক স্বাস্থ্য ঝুকির মধ্যে আরেক নতুন স্বাস্থ্যঝুকির সৃষ্টি হয়েছে।
আইসোলেশান ওয়ার্ডে শয্যার তুলনায় করোনা রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার কারণে জায়গা সংকট দেখা দিয়েছে।
এদিকে যশোর জেনারেল হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে ১১ টি বেডের একটিও বর্তামনে খালি নেই। ফলে কারও জরুরী আইসিইউ প্রয়োজন হলে দেওয়া সম্ভবও নয়।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. আরিফ আহমেদ বার্তা বাজার কে জানান, শুক্রবার করোনা রেডজোনে নারী ও পুরষের দুইটি ওয়ার্ডে ৮০ শয্যার পরিবর্তে ওই ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছিলো ১২১ জন করোনাক্রান্ত রোগী যেখানে ৮০ জন বেডে বাকিরা সব মেঝেতেই চিকিৎসা নিচ্ছিলো।
এছাড়া করোনার উপসর্গ নিয়ে ১৯ শয্যার ইয়োলোজোনে রোগী ছিলেন ৪৭ জন। সেখানেও ১৯ জন বেডে বাকিরা মেঝেতে।
ইয়োলোজোন ওয়ার্ডে শয্যা খালি না থাকায় নতুন রোগী ভর্তি হলে তাদের মেঝেতে রাখা হচ্ছে। এছাড়া আইসিইউতে ১১ শয্যায় ১১ রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে একটি শয্যা ফাঁকা নেই। হঠাৎ করে যদি কারো আইসিইউ সাপোর্টের প্রয়োজন হলে দেয়া সম্ভব হবে না।
এদিকে যশোরে প্রতিদিনই করোনা ও উপসর্গের রোগী বাড়ছে। হাল্কা জ্বর ও সর্দি কাঁশিতে আক্রান্ত হলেই বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। যে কারণে এই যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ক্রমশই রোগীর চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরত যাবার থেকে বেশি সংখ্যাক ভর্তী হচ্ছে।
এদিকে কম উপসর্গের রোগীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রেখে চিকিৎসাব্যবস্থার উদ্যোগ নেয়া উচিৎ মনে বলে করেন আরএমও ডা. আরিফ আহমেদ। অন্যথায় কোভিডে আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগী সামাল দিতে চিকিৎসক সেবিকাদের আরও হিমশিম অবস্থার মধ্যে পড়তে হবে।
যশোর জেনারেল হাসপাতালে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় ইয়োলো জোনের মেঝেতে চাপাচাপি করে থাকছেন রোগীরা। এখানে যারা চিকিৎসাধীন তাদের কারো করোনা পজেটিভ ও কারো নেগেটিভ। অথচ জায়গা সংকটের কারণে সকলেই পাশাপাশি মেঝেতে শুয়ে বসে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করছেন। ফলে হাসপাতাল থেকেই করোনার সংক্রমণ ছড়ানোর আশংকা থেকেই যাচ্ছে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা.আক্তারুজ্জামান বার্তা বাজার কে জানান, করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও উপসর্গের রোগীরা মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নেয়ার বিষয়টি অত্যান্ত দুঃখজনক। তাদের দুর্ভোগ লাঘবে সব ধরণের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
ইতিমধ্যে, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সাজেদা ফাউন্ডেশনের অর্থায়ন ও অবকাঠামোগত সুবিধায় করোনায় আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবার প্রসার বাড়ানো হয়েছে। সাজেদা ফাউন্ডেশনের ১০ জন চিকিৎসক, ১২ জন স্টাফ নার্সসহ আর ২৭ জন স্টাফ দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া হাসপাতালের ১৩ জন নিজস্ব চিকিৎসক রয়েছেন। তাদের ৪ জন বিশেষজ্ঞ ও সহযোগী রয়েছেন ৯ জন।
এবিষয়ে যশোরের সিভিল সার্জন ডা. শেখ আবু শাহীন বার্তা বাজার কে বলেন, করোনা রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় একটু জায়গা সংকট তৈরি হয়েছে। মেঝেতে থাকলেও চিকিৎসাসেবায় সমস্যা হচ্ছেনা। সিভিল সার্জন জানান, দুর্ভোগ লাঘবে বেসরকারি জনতা হসপিটালেও কিছু সংখ্যাক রোগীকে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
এ্যান্টনি দাস(অপু)/বার্তা বাজার/টি