কভিড-১৯ সংক্রমণ রোধে সাত দিনের কঠোর লকডাউনের প্রথম তিনদিনে কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় কঠোর অবস্থানে পুলিশ ও প্রসাশন, দোকান খোলা ও মাস্ক না পরার অপরাধে দোকানীসহ ৪৩ জনকে ১৯১০০ টাকা জরিমানা করা হয়েছে এবং পৌর সদর বাজারের বিভিন্ন সড়ক ও মোড়ে মোড়ে চেকপোস্ট বসিয়ে লোক চলাচল নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন পুলিশ।
বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার এবং শনিবার (১ ও ২ এবং ৩ জুলাই ) সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পৌর সদরের বেশ কয়েকটি সড়ক ঘুরে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পুলিশ ও বিজিবির কঠোর অবস্থানের চিত্র দেখা যায়। মোড়ে মোড়ে পুলিশ দাঁড়িয়ে আছে, চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া রাস্তায় কাউকে থাকতে দিচ্ছে না তারা।
সড়কে থামিয়ে কোথায় যাচ্ছেন, কেন যাচ্ছেন- এমন সব প্রশ্নের পর যৌক্তিক জবাব দিতে পারলেই সাধারণ মানুষকে গন্তব্যে যেতে দেওয়া হচ্ছে। না হয় ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে সবাইকে। রাস্তায় গণপরিবহন চলছে না। তবে চলছে ব্যক্তিগত ও অফিসের গাড়ি। রিকশা চালু আছে। অনেকেই গন্তব্যে যাচ্ছেন হেঁটে।
অপর দিকে বৃহস্পতিবার বিধিনিষেধ না মানায় উপজেলার পৌর সদর, মির্জাপুর, তারাকান্দি, হোসেন্দি, নারান্দি, আজলদি, পুলেরঘাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত ৪৬০০ টাকা জরিমানা আদায় করেন। এ সময় আদালত পরিচালনা করেন জেলা প্রশাসন কিশোরগঞ্জ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শিহাবুল আরিফ এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) একেএম লুৎফর রহমান। এবং শুক্রবার ও শনিবার দুই দিনে উপজেলার পৌর সদর, মির্জাপুর, তারাকান্দি, হোসেন্দি, নারান্দি, আজলদি, পুলেরঘাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত এ ১৪৫০০ টাকা জরিমানা আদায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার (অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত) একেএম লুৎফর রহমান।
লুৎফর রহমান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার বিষয়টি নিশ্চিত করে ‘বার্তা বাজারকে’ বলেন, জেলা প্রশাসন কিশোরগঞ্জ এর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোঃ শিহাবুল আরিফ ও বিজিবি এবং পাকুন্দিয়া থানা পুলিশের একটি চৌকশ দলসহ কিশোরগঞ্জ জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশক্রমে করোনা ভাইরাস সংক্রমণরোধে লকডাউন অমান্য করে দোকান খোলা রাখা ও মাস্ক না পরার অপরাধে উপজেলার পৌর সদর, মির্জাপুর, তারাকান্দি, হোসেন্দি, নারান্দি, আজলদি, পুলেরঘাট বাজারে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হয়।
দন্ডবিধি ১৮৬০ এর ২৬৯ ধারায় নির্দেশ অমান্য করায় এবং স্বাস্থ্যবিধি না মানায় দোকানীসহ মোট ৪৩ জনকে ১৯১০০/-টাকা জরিমানা করা হয়। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।
এছাড়াও বাজারগুলোতে অবস্থিত দোকানপাট পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ রাখতে বলা হয়।তবে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের দোকান সকাল ৯ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।
পাকুন্দিয়া থানার ওসি মোঃ সারোয়ার জাহান ওসি ( তদন্ত) নাহিদ হাসান সুমন সহ পুলিশ এবং বিজিবির সদস্যবৃন্দ মোবাইল কোর্ট পরিচালনায় সহযোগিতা করেন।
হুমায়ুন কবির/বার্তা বাজার/শাহরিয়া হৃদয়