কুড়িগ্রামে পানি বাড়ার সাথে বাড়ছে ভাঙন, প্লাবিত হচ্ছে নিচু এলাকা
পাহাড়ি উজানের ঢলে আর টানা কয়েকদিনের বৃষ্টিতে কুড়িগ্রামের ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় ইতিমধ্যে ধরলা ও তিস্তা নদীর অববাহিকার ৫০টি চরের নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পাশাপাশি নদী ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদী ভাঙনের ফলে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন এলাকাগুলোতে প্লাবিত হচ্ছে।
পাউবো’র নিয়ন্ত্রণ কক্ষ জানায়, শনিবার(৩ জুলাই) দুপুর ১২ পর্যন্ত,গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তা নদীর পানি কাউনিয়া পয়েন্টে ২৮.৮৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে। একই সময়ে ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে ২৫.৫৯ সেন্টিমিটার বেড়েছে। ব্রহ্মপুত্র নদের পানি নুনখাওয়া পয়েন্টে ২৪.৮৮ সেন্টিমিটার এবং চিলমারী পয়েন্টে ২২.৩০ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়েছে।

শনিবার(৩ জুলাই) সকালে সরেজমিনে জেলার উলিপুরের বজরা ইউনিয়ন এবং রাজারহাটের বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ে গিয়ে দেখা যায়, নদী তীরবর্তী মানুষজন নদী ভাঙনের হাত থেকে বাড়িঘর বাচাঁনোর জন্য নিজেদের বসতভিটা অন্যত্র সরিয়ে নিচ্ছেন। অনেকে আশ্রয় নিয়েছেন অন্যের উঁচু জমিতে।
বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের তিস্তাপাড়ের বাসিন্দা লাইলি বেগম বলেন,”আমি ৫০ শতক জমিতে পাট আবাদ করেছি এবং কাঠের গাছ রোপন করেছি। নদী ভাঙনের কারনে আমার ২২ শতক আবাদী জমি নদীতে বিলীন হয়েছে। এখন অপরিপক্ক পাটক্ষেত এবং গাছগুলো কেটে নিচ্ছি।”

আরেক বাসিন্দা কৃষক আব্দুল হক বলেন,” আমি ১০ শতক জমিতে পাট আবাদ করেছি,৮০ দিনের মাথায় আমার পুরো ক্ষেত তিস্তার গর্ভে চলে গেছে।”
বন্যার হাত থেকে বাঁচাতে নিজেদের বসতভিটা সরাচ্ছিলেন বজরা ইউনিয়নের তিস্তা পাড়ের বাসিন্দা ৬৩ বছরের বৃদ্ধা রাশেদা বেওয়া। তিনি বলেন,”আজ ৪-৫ দিন থাকি নদীর পানি বাড়ব্যাইছে(বাড়তেছে)নদীর ভাঙনের হাত থাকি বাঁচব্যের(বাঁচার) জন্য ঘর সরে(সরিয়ে) নিয়ে যাবাইছি,মানষের(মানুষের) জমিত উঠমো।”
নিচু এলাকা দুদিন ধরে প্লাবিত হওয়ার সাথে এসব এলাকার পাট, ভুট্টা, আউস ধান, বীজতলা ও সবজি ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। গ্রামীণ সড়ক ডুবে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে যোগাযোগ ব্যবস্থা।
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান,” মধ্য জুলাইয়ের আগে বড় বন্যার আশঙ্কা নেই।
জেলায় ২৫টি পয়েন্টে নদী ভাঙন চলছে। এর মধ্যে দুই-একটি পয়েন্ট বাদে বাকি অংশে জিও ব্যাগ ও জিও টিউব ফেলে ভাঙন প্রতিরোধের চেষ্টা করা হচ্ছে।”
এদিকে, বন্যার আগাম পূর্বাভাসে পর্যাপ্ত প্রস্তুতি নিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। সম্ভাব্য বন্যা মোকাবিলার বিষয়ে প্রস্তুতি নিয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রেজাউল করিম জানান,”স্থানীয় প্রশাসন এবং জনপ্রতিনিধিদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে যেন বন্যা মোকাবিলায় বিভিন্ন বিভাগগুলো প্রস্তুত থাকে। বন্যা পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে বন্যা কবলিত মানুষদের উদ্ধার করে যেন আশ্রয়কেন্দ্রসহ নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া যায় সে প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছে।পাশাপাশি উপজেলা নির্বাহী অফিসারদের পর্যাপ্ত চাল এবং টাকা বরাদ্দ দেওয়া আছে। আশা করি আগামী ১০-১৫ দিন কোনও সমস্যা হবে না।”
সুজন মোহন্ত/বার্তাবাজার/পি