সূর্য ওঠে সোনার বরণ রূপ নিয়ে। নির্মল আলোয় ভরে যায় চারদিক। আর যমুনার ওপর ঢেউ খেলে যায় উদাসী হাওয়া। আদিগন্ত সবুজের সমারোহ। যমুনার চরে বয়ে যাওয়া নদীর রুপালি ধারায় সূর্যের আলো ঝলমল করে। নদীর তীরে কাশবনের সাদা কাশফুল কখনো হাতছানি দিয়ে ডাকে। তবুও নীল আকাশে মেঘের ভেলা শুভ্রতায় মোড়ানো কাশফুল অপরূপ সৌন্দর্য ছড়ায়। প্রতিদিনই কাশবনে সৌন্দর্য পিপাসুরা ভিড় জমান প্রকৃতির স্নিগ্ধতার পরশ নিতে। সাদা কেশর দুলিয়ে শরতের কাশফুল শুধু যে সৌন্দর্যের দ্যুতি ছড়ায় তা নয়, চরাঞ্চলে কাশফুল জীবিকার খোরাকও বটে। কাশফুলের খড়, ছন আর ঝাটিতে আর্থিকভাবে আসে সচ্ছলতাও।
সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার মেঘাই খেয়াঘাট প্রাঙ্গণ, নাটুয়ারপাড়া খেয়াঘাটসহ চরাঞ্চলের অনেক জায়গায় প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা কাশবনে জীবিকার সন্ধান করেন শতাধিক পরিবার। কাশ বন থেকে পাওয়া আগাছার মতো ছন, খড় ও ঝাটি পানের বরজের জন্য খুবই দরকারি। এছাড়া এগুলো শুকিয়ে জ্বালানি হিসেবেও ব্যবহার করা যায়। সিরাজগঞ্জের চরাঞ্চল থেকে কাশবনের ছন, খড় ও ঝাটি পার্শ্ববর্তী শেরপুরে যায়। এ কারণে কাশ ফুলের মৌসুম শেষ হলেও এর চাহিদা থাকে প্রচুর।

স্থানীয়দের সাথে কথা বলে জানা যায়, প্রতিটি চরেই প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নিয়েছে কাশবন। সবুজ কাশবন বেড়ে ওঠে প্রাকৃতিকভাবেই। এর কোনো পরিচর্যার প্রয়োজন হয় না। শরৎ এলেই ফুল ফোটে। বাতাসে হেলে দুলে নৃত্য করে কাশফুল। নির্ধারিত সময় পর কাশফুল ঝড়ে গেলে এর ডাটা শুকিয়ে গেলে রুপ নেয় ছনে। এক সময় কাশবনের আগাছা সংগ্রহ করতো গো-খাদ্য হিসেবে। আর বর্তমানে বাণিজ্যিক ভাবে বিক্রি করতে দেখা যায়।
বুধবার (৩০ জুন) মেঘাই ঘাটে কাশবন বিক্রি করতে আসা মেছড়া ইউনিয়নের মো. আলামিন সেখ বলেন, কাশবনের ছন দিয়ে পানের বরজে ছাউনি দেওয়া আর পান গাছের শলার সঙ্গে উপরে বেঁধে রাখা যায়। সুতা বা দড়ি দিয়ে বাঁধলে তা স্থায়ীত্ব পায়না, কিন্তু ছন দিয়ে বাঁধলে অনেক দিন থাকে। এ কারণে বরজে খড় বা ছন ব্যবহার করা হয়। এক আঁটি পাঁচ টাকা আর ভ্যান ভর্তি শুকনো ছন ২ থেকে ৩শ টাকায় বিক্রি হয়। এগুলা দিয়ে ডালিও বানায় শেরপুরের লোকজন। ঝামেলা বিহীন ও উৎপাদন খরচ না থাকায় বেশ জনপ্রিয় এ কাজটি।
কাজিপুর উপজেলার নাটুয়ারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল মান্নান বার্তা বাজারকে বলেন, চৈত্র ও বৈশাখ মাসে চর জেগে উঠলে প্রতি বছরই কাশবনের জন্য হয়। যখন ফুল ফোটে ওই বনে দেখতে অসাধারণ লাগে। আবার ফুল গুলো যখন ঝরে পরে তখন অনেকেই ওগুলো কেটে নিয়ে মেঘাই ঘাটে বিক্রি করে। দূর দূরান্তের ব্যবসায়ীরা এসে ও গুলো কাঁচামাল হিসেবে ক্রয় করে নেয়।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি