‘ভাগ্যরাজ’ কোনো ব্যক্তি নয়। নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের চন্ডিগড় গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে কৃষক আজিজুল হকের ফ্রিজিয়ান জাতের পালিত একটি ষাঁড়। আসন্ন কোরবানির হাটে তোলার জন্য প্রস্তত করা হয়েছে এই ষাঁড়টিকে । আদর করে ‘ভাগ্যরাজ’ নাম দিয়েছেন আজিজুল হক ।
আজিজুল জানায়, ১৫ মাস আগে একই ইউনিয়নের সিরাজুল ইসলামের কাছ সাতাওর হাজার টাকা দিয়ে দুই বছর বয়সি এ বাছুরটি কিনেন । বর্তমানে লালন পালন করে ষাঁড়টির ওজন হয়েছে ১হাজার ৫০ কেজি ।
সাড়ে ৭ ফুট ৪ ইঞ্চি লম্বা, ৫ ফুট উচ্চতা,! নাম তার ‘ভাগ্যরাজ’! সন্তানের মত করে আদরেই রাখা হয়েছে ৩ বছর ৩ মাস বয়সী ‘ভাগ্যরাজ’কে।
জানা গেছে, এই ষাঁড়ের জন্য কৃষকের প্রতিদিনের বাজেট ৫০০/৬০০টাকা। খাবারের মেন্যুতে থাকে কলা, চিড়া, , আখের গুড়, ইসাব গুল, খৈল ও ভূসি সহ আরও পুষ্টিকর খাবার।
শুধু আদর যত্নেই নয় ‘ভাগ্যরাজ’র স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য সার্বক্ষণিক চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করে থাকেন আজিজুল।
কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ২৬ মন ওজনের ‘ভাগ্যরাজের মালিক তার দাম হাঁকচ্ছেন ১২ লাখ টাকা। বিভিন্ন জায়গা থেকে ক্রেতা আসছে। অনেকেই দাম হাঁকাচ্ছেন। তবে ন্যায্য মূল্য পেলে বিক্রি করে দেয়া হবে বলে জানান তিনি ।
এই ভাগ্যরাজকে দেখতে প্রতিদিন তার বাড়ীতে ভিড় জমাচ্ছে উৎসুক জনতা। আবার কেউ কেউ সেলফি তুলতেও ভুল করেন না।
গত ৫ জুন(শনিবার) উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেনারি হাসপাতালের আয়োজনে প্রাণিসম্পদ প্রদর্শনী-২০২১ অনুষ্ঠিত মেলায় উপজেলা বিভন্ন এলাকা থেকে আগত বিভিন্ন জাতের গবাদি পশুর ভিতর আজিজুল হকের ভাগ্যরাজটি প্রথম স্থান অধিকার করে ।
কৃষক আজিজুল হকের স্ত্রী সাহেদা খাতুন জানালেন, এই ষাঁড়টির পরিচর্যা করা খুবই কঠিন। প্রতিদিন গোসল করাতে হয়। সারাদিন বৈদ্যুতিক পাখা চালাতে হয়। সারাদিনই আমি আর আমার স্বামী মিলে এই ষাঁড়টিকে যত্ন করতে হয়। বাড়ি থেকেই যেন ন্যায্য মূল্যে বিক্রি করতে পারেন ‘ভাগ্যরাজ’কে সেই ব্যবস্থা করতে সকলের সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।
চন্ডিগড় গ্রামের হানিফ মিয়া জানান , আজিজুল তার স্ত্রী সারাদিন ভাগ্যরাজকে নিজ সন্তানের মতই লালন পালন করে থাকেন । আমার দেখা এটি উপজেলার ভিতর সবচেয়ে বড় ষাঁড় ।
উপজেলা প্রাণিসম্পদক কর্মকর্তা জানান, আসন্ন কোরনানি ঈদ উপলক্ষে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গবাদি পশু লালন-পালন হচ্ছে। অনেক জায়গায় বড় বড় গরু মোটাতাজাকরন হচ্ছে। এগুলোর নিয়মিত খোঁজ রাখা হচ্ছে। তাদেরকে বিভিন্নভাবে পরামর্শসহ টেকনিক্যাল সাপোর্ট দেয়া হচ্ছে।
রাজেশ গৌড়/বার্তা বাজার/টি