রাস্তা নয়, এ যেন খাল!

শত শত পোশাক কারখানার শ্রমিক অধ্যুষিত এলাকা ঢাকার সাভারের আশুলিয়ার জিরাবো এলাকা। আর এদের চলাচলের একমাত্র পথটি দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে ছোট খালে রুপ নিয়েছে! বর্ষার পানিতে ডুবন্ত এই রাস্তাটিকে দেখলে এমনই মনে হবে।

শুক্রবার (২ জুলাই) সরেজমিন জিরাবো হাজি সুফিয়া মার্কেট এলাকায় গেলে রাস্তার ভয়াল দশাটি নজরে আসে। এসময় দুপুরের লাঞ্চ শেষে পোশাক শ্রমিকেরা পায়ে হেঁটে এই রাস্তা দিয়ে তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরছিলেন।

এসময় নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় মোঃ বদরুল ইসলাম জানান, অনেকদিন ধরেই এই রাস্তাটির খুবই ভয়াবহ অবস্থা। আমাদের এলাকায় কোনো উন্নয়নই হচ্ছে না। এটা ইয়ারপুর ইউনিয়নে পড়েছে, আমাদের চেয়ারম্যান সাহেবের তো এব্যাপারে কোনো আগ্রহই নাই। রাস্তাটার সংস্কারের ব্যাপারে তো কোনো কাজই হতে দেখছি না। চেয়ারম্যান সাহেবকে এই রাস্তার ব্যাপারে আমরা অনেক বলেছি; কিন্তু তিনি কোনো আগ্রহ দেখান নাই।

এই রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী একজন অটো চালক জানান, এই রাস্তা দিয়ে প্রতিদিন চলতে গিয়ে গাড়ি উল্টে যাচ্ছে, এতে আমাদের মতো গরীব মানুষদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। এই রাস্তা সংস্কারের জন্যও তিনি আবেদন জানান।

একজন ট্রাক চালক জানান, গাড়ির অনেক ক্ষতি হচ্ছে, লোড গাড়ি নিয়ে চলতে গিয়ে গাড়ির পাতি, এক্সেল ভেঙ্গে যাচ্ছে।

এই এলাকার মার্মা কম্পোজিট কারখানায় কর্মরত একজন পোশাক শ্রমিক জানান, প্রতিদিন এই রাস্তার কারণে সময়মত অফিসে পৌঁছাতে পারে না। সবার জুতা ও জামাকাপড় নষ্ট হয়ে যায়। অনেক কষ্ট হয় ।

সাভার উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মেহেদী মাসুদ মঞ্জুর বাড়ির সামনেই এই রাস্তাটি। জুমার নামাজ শেষে তিনি বাড়ি ফিরছিলেন। তার কাছে রাস্তার এই বেহাল দশা সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আসলে রাস্তাটি আমাদের এলাকার মানুষের জন্য দুর্ভাগ্যই বলতে পারি। দূর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মোঃ এনামুর রহমান এই রাস্তাটি খুব সুন্দরভাবে বানিয়ে আমাদেরকে উপহার দিয়েছিলেন। সেই রাস্তাটি এখানকার বিভিন্ন মিলকারখানার মালিকেরা কারখানায় বাণিজ্যিক গ্যাস সংযোগ নিতে গিয়ে রাস্তাটিকে ইচ্ছামত খোড়াখুড়ির দ্বারাই রাস্তার এই অবস্থার জন্য সিংহভাগ দায়ী। এই বিষয়টি নিয়ে মাননীয় ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. এনামুর রহমান এমপিকে এবং সাভার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজীব কে জানিয়েছি। তারা উপজেলার ইমার্জেন্সি ফান্ড থেকে এই রাস্তা সংস্কারের কাজে হাত দিয়েছিলেন। তবে এখন বৃষ্টির জন্য হয়তো আপাতত কাজ বন্ধ আছে।

এসময় প্রসঙ্গক্রমে তিনি আরও বলেন, আমাদের এই রাস্তার সাথের ড্রেনেজ সিস্টেমও সংস্কারের অভাবে বন্ধ হয়ে আছে। এই ড্রেণেজ সিস্টেম সংস্কার সহ রাস্তাটি পুনরায় আরসিসি ঢালাই করে করলেই এই জনদূর্ভোগ কমবে।

তবে এ ব্যাপারে, ইয়ারপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সৈয়দ আহমেদ ভূইয়া মুঠোফোনে জানান, এই রাস্তার কাজ সাভার উপজেলা প্রকৌশল বিভাগের মাধ্যমে শেষ হবে। তবে রাস্তার কাজ কবে হবে এ ব্যাপারে তিনি কিছু জানেন না বলে জানিয়েছেন। আর বৃষ্টির কারণে রাস্তা ডুবে যাওয়াতেই এরকম অবস্থার সৃষ্টি বলেও জানান তিনি।

তবে এই রাস্তার বিষয়ে এর আগে সাভার উপজেলা প্রকৌশলী সালেহ হাসান প্রামাণিক জানিয়েছিলেন, বিশমাইল থেকে জিরাবো পর্যন্ত রাস্তাটির সংস্কার কাজ খুব দ্রুত শুরু হবে। এব্যাপারে সকল কার্যক্রম গ্রহন করা হয়েছে। আর আমাদের অর্থায়নে রাস্তার যেসব অংশ খুবই খারাপ, সেগুলো সাময়িক ভাবে চলাচল উপযোগী করার কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু শুক্রবার (২ জুলাই) তাকে তার মুঠোফোনে ফোন দিয়ে পাওয়া যায়নি।

মো: আল মামুন খান/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর