সরকারি চাল বিতরণে অনিয়ম, প্রতিবাদ করায় জেলেদের কান ধরালেন চেয়ারম্যান!
ভোলার চরফ্যাসন উপজেলার শশীভূষণে জেলেদের মৎস্য ভিজিএফের চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে চরমানিকা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ হাওলাদারের বিরুদ্ধে।
অনিয়মের প্রতিবাদ করায় উপকারভোগীর তালিকাভূক্ত ১১ জন জেলেকে কানধরে উঠবস করানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ওই ইউনিয়নের মহিলা ইউপি সদস্য রহিমা বেগম। অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে ওই ইউনিয়নের জেলেদের চাউল বিরতণ আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন।
জানা যায়, সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে নিয়োজিত জেলেদের পুনর্বাসনে চর মানিকা ইউনিয়নের ৬শ ২৩ জন জেলের অনুকূলে ৫৬ কেজি করে চাউল বরাদ্দ করা হয়েছে। উপকারভোগী প্রত্যেক জেলে ৫০ কেজির একবস্তাসহ আরো ৬ কেজি করে মোট ৫৬ কেজি চাউল পাবেন। চর মানিকা ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বাররা জানান,পরিষদের প্রত্যেক সাধারন সদস্যের ওয়ার্ডে ৫০ জন করে ৯ ওয়ার্ডে মোট ৪৫০জন,সংরক্ষিত ৩ জন সদস্যের প্রত্যেক ওয়ার্ডে ২৮টি করে ৮৪ জন এবং চেয়ারম্যানের দায়িত্বে রাখা হয়েছে ৮৯জন উপকারভোগীর বরাদ্দকৃত চাউল।
মঙ্গলবার (২৯ জুন) চাউল বিতরণ শুরু করা হয়।
মহিলা মেম্বার রহিমা বেগম বলেন, এ অপমান জেলেদের নয় বরং আমাকে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবহিত করেছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবারও চাউল বিতরণ স্থগিত করেছেন। এখন চাউল বিরতণ বন্ধ রয়েছে।
অভিযোগ প্রসঙ্গে চেয়ারম্যান হাজি শফিউল্যাহ বলেছেন, মহিলা মেম্বার রহিমা বেগম একজন বিধবা মহিলার ভিজিডি চাউল নিয়মিত নিজে ভোগ করছেন। এ বছর ওই চাউল বন্ধ করে দেয়ায় তিনি ক্ষুদ্ধ হয়ে আমার বিরুদ্ধে এমন উদ্ভট অভিযোগ তুলেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রুহুল আমিন জানান, উপকারভোগী প্রত্যেক জেলে ৫৬ কেজি করে চাউল পাবেন। কোন কারণে এই চাউল কম দেয়ার সুযোগ নেই। চাউল কম দেয়া নিয়ে সমস্যা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আপাদত বিতরণ বন্ধ রাখা হয়েছে। আগামী ২ দিনের মধ্যে চাউল বিতরণ করা হবে এবং উপকারভোগী প্রত্যেক জেলের ৫৬ কেজি করে চাউল পাওয়া নিশ্চিত করা হবে।
আরিফ হোসেন/বার্ত বাজার/টি