ওমর ফারুক ত্রিপুরার খুনীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবীতে সংবাদ সম্মেলন

বান্দরবানের রোয়াংছড়িতে বলুহ আলোচিত নওমুসলিম ওমর ফারুক ত্রিপুরাকে (জেএসএস) সন্ত্রাসী কর্তৃক গুলি করে হত্যার প্রতিবাদ এবং খুনীদের ফাঁসীর দাবীতে সংবাদ সম্মানে করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ (পিসিএনপি) বান্দরবান জেলা শাখা।

শুক্রবার (০২ জুলাই) সকাল ১১টায় পিসিএনপি বান্দরবান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে এই দাবী করা হয়।

এ সময় সংবাদ সম্মেলন উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদ বান্দরবান জেলা শাখার সভাপতি মো. কাজী মুজিবুর রহমান, সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা সম্মানিত ক্যাপ্টেন আলহাজ্ব মোঃ তারুমিয়া, সাধারণ সম্পাদক মোঃ নাছির উদ্দীন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোঃ শাহ জালাল, সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আবচার, পৌর-সভাপতি শামসুল হক সামু, সাধারণ সম্পাদক মোঃ এরশাদ চৌধুরী, মোঃ ইকবাল মাহমুদ, মোঃ কামাল, মোঃ মনির ছাত্রনেতা মোঃ মিজানুর রহমান আখন্দ প্রমুখ।

এ সময় সংগঠনের সভাপতি কাজী মজিবুর রহমানট বলেন, পাহাড়ি বিছিন্নতাবাদী জেএসএস এর সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা ইসলামে নবদীক্ষিত ওমর ফারুক ত্রিপুরা ও তার পরিবারের সদস্যদের দীর্ঘদিন ধর্ম প্রচার ও পালনে বাধা প্রদান করে আসছিলো। তারা (১৮ জুন) সুপরিকল্পিত ভাবে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে রাত ৯ টায় তাকে গুলি করে হত্যা করে।

তিনি এই নির্মম হত্যাকাণ্ডে পার্বত্য অঞ্চলের মানবাধিকার সংস্থাগুলো এবং দেশের প্রগতিশীল সুশীল সমাজের নিরবতার সমালোচনা করে বলেন, সাধারণ মানুষ এইসব মানবাধিকার সংস্থাগুলোর নিরবতায় বুঝতে পারছে না তারা কেন এই হত্যাকান্ডে কোনো মানববন্ধন কিংবা কোন প্রতিক্রিয়া জানালেন না।

প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন জানিয়ে সংগঠনের সভাপতি কাজী মজিবুর রহমান বলেন, ভরসার আশ্রয়স্থল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আকুল আবেদন অচিরেই পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কর্মকাণ্ড বন্ধ ও যৌথ অভিযানে পরিচালনার মাধ্যমে হত্যাকান্ডে জড়িত জেএসএস রোয়াংছড়ি উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ক্যবামং মারমা, অপু চাকমা, সার্জেন্ট অবঃ নু ছো মং, তুলাছড়ির দেবেন্দ্র ত্রিপুরা, দানিয়েল ত্রিপুরা, সুফল ত্রিপুরাসহ অন্যান্য সদস্যদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্ছ শাস্তি নিশ্চিতে ব্যাবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

বান্দরবান, খাগড়াছড়ি, ও রাঙ্গামাটি সহ ২৬ টি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ব্যবসা পরিচালনায় পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের চাঁদা দেয়া লাগে, তারা দেশের মধ্যে আরেকটি দেশ প্রতিষ্ঠা করতে মরিয়া। পাহাড়ে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে তাদের হাতে প্রান হারাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

তিনি আরো বলেন পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি নৃগোষ্ঠীর অনেক সদস্য শান্তিপ্রিয় এবং দেশের সরকারি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর ও প্রশাসনিক সেক্টরে তারা কাজ করে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখছে।

পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের দাবী, ওমর ফারুকের হত্যাকাণ্ড সংগঠিত হয়েছে অনেক দিন হলো এখনও প্রশাসন হত্যাকারীদের সনাক্ত কিংবা গ্রেফতারের কার্যত কোন ব্যাবস্থা চোখে পড়েনি। এই ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

এম. মিজানুর রহমান/বার্তা বাজার/টি

বার্তা বাজার .কম'র প্রকাশিত/প্রচারিত কোনো সংবাদ, তথ্য, ছবি, আলোকচিত্র, রেখাচিত্র, ভিডিওচিত্র, অডিও কনটেন্ট কপিরাইট আইনে পূর্বানুমতি ছাড়া ব্যবহার করা যাবে না।
এই বিভাগের আরো খবর