সিরাজগঞ্জে ধসে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করলেন পানিসম্পদ সচিব
সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ (হার্ড পয়েন্টের পুরাতন জেলখানা ঘাট) এলাকায় ধসে যাওয়া স্থান পরিদর্শ করেছেন পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার।
শুক্রবার (২ জুলাই) দুপুরে তিনি ধসে যাওয়া স্থানসহ পুরো বাঁধ এলাকা ঘুরে দেখেন। এ সময় সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক ড.ফারুক আহম্মেদ, লে: কর্নেল সায়েম ও নির্বাহী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলামসহ প্রশাসনের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষায় ৩৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে যমুনার তীরে নির্মাণ করা হয়েছিল শতবর্ষ স্থায়িত্বের বাঁধ। ১৯৯৭ সালের বাঁধটিতে শতবর্ষ দূরে থাক, মাত্র ১২ বছর পরই ভাঙন দেখা দেয়। এরপর ১২ বছরে পাঁচবার ভাঙন সংস্কারে ব্যয় হয়েছে প্রায় ১৮০ কোটি টাকা। তারপরও থামেনি ভাঙন। সবশেষ গত মঙ্গলবার দুপুরে বাঁধের পুরোনো জেলখানা ঘাট এলাকায় ধস শুরু হয়। মুহুর্তেই যমুনা নদীর গর্ভে বিলীন হয়ে যায় বাঁধের প্রায় আড়াইশ মিটার অংশ।
বর্ষা এলেই আতঙ্কে থাকা জেলাবাসীর অভিযোগ, বাঁধ মেরামতে বরাদ্দের সিংহভাগই লুটপাট হয়েছে। সঠিক পরিকল্পনা এবং তদারকিও নেই। এ কারণে বারবার ভাঙন দেখা দিচ্ছে।
পানি সম্পদ সচিব ধসে যাওয়া স্থান পরিদর্শনে এসে ও দুষছেন ২৫ বছর আগের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কোরিয়ান ‘হুন্দাই কোম্পানি’কেই।
স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীদের এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, নির্মাণের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘হুন্দাই কোম্পানি’ থেকে বাঁধের স্থায়িত্বকাল বলা হয়েছিল একশ বছর। অথচ মাত্র ১২ বছরের মাথায় ওই বাঁধে পর পর ধস দেখা দেয়। বাধ্য হয়েই বলতে হয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নির্মাণ কাজে অবশ্যই ত্রুটি ছিল, তা না হলেও কেন এভাবে ধসে যমুনায় পরপর বিলীন হবে।
তিনি আরও বলেন, জরুরী প্রতিরক্ষা কাজের অংশ হিসেবে তাৎক্ষনিকভাবে জিওটেক্সে বালু ও ব্লক ফেলে ধস ও ভাঙন নিয়ন্ত্রণে পাউবোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সে অনুযায়ী প্রতিরক্ষার কাজ চলমান রয়েছে। বঙ্গবন্ধু সেতু থেকে সিরাজগঞ্জ শহর রক্ষা বাঁধ পর্যন্ত সাড়ে ৮ কি.মি. অংশেই আগামীতে যমুনার তলদেশে ও বাঁধ ঘেষে ব্যাথেমেট্রিক সার্ভে করা হবে। শহর রক্ষার বাঁধের ঢালে যেসব স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ মনে হবে, সেসব স্থান চিহ্নিত করে প্রয়োজনে হার্ডরক ফেলে সুরক্ষার জন্য পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে’।
এর আগে পাউবোর নকশা ও ডিজাইন শাখার অতিরিক্ত মহাপরিচালক (অব:) মোতাহার হোসেন ও সিরাজগঞ্জ স্বার্থ রক্ষা সংগ্রাম কমিটির আহবায়ক ডা: জহুরুল হক রাজা কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান হুন্দাইকে বাঁধের বিপর্যয়ের জন্য দায়ি করেছিলেন।
এম এ মালেক/বার্তাবাজার/পি