সাতক্ষীরায় করোনা ডেডিকেটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অক্সিজেন সংকটে আইসিইউ ইউনিটে ৩ জনসহ মোট ৬ জনের মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া একদিনে হাসপাতালটিতে ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
বুধবার (৩০ জুন) সন্ধ্যায় হাসপাতালের আইসিইউ ইউনিটে মারা যান কালীগঞ্জ উপজেলার ভাড়াশিমুলিয়া গ্রামের আকরাম হোসেন খান (৬০)। তার ছেলে খান গণমাধ্যমকে বলেন, আমার বাবা করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৪৫ দিন ধরে ভর্তি ছিলেন হাসপাতালে। কয়েকদিন ধরে তার শ্বাসকষ্ট হচ্ছিল।
তিনি আরও জানান, দুপুরের দিকে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে সমস্যা দেখা দিলে রোগীরা চাহিদামত অক্সিজেন পাচ্ছিল না। সে কারণে সন্ধ্যার পরে আমার বাবাসহ মারা যান বেশ কয়েকজন।
একই হাসপাতালে থাকা রোগির স্বজন কলারোয়ার বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম মোস্তাফা জানান, সন্ধ্যার পর হঠাৎ কান্নার আওয়াজ শুনতে পাই। করোনা ইউনিটে গিয়ে দেখি অক্সিজেন নেই। আমার সামনেই ৭-৮ জন মারা যান। করেন করোনা রোগীদের জন্য আলাদা অক্সিজেনের কোনো ব্যবস্থা ছিল না। অক্সিজেন না পেয়ে মৃত্যু হয়েছে।
এ বিষয়ে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. কুদরত-ই-খোদা জানান, অক্সিজেন ছিল। কিন্তু সন্ধ্যা সোয়া ৭টার পরে হঠাৎ করে সেন্ট্রাল অক্সিজেন সিস্টেমে প্রেসার কমে যায়। অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে জানানো হলে তারা রাত ৮টার দিকে অক্সিজেন সরবরাহ করে।
তিনি আরও দাবি করেন, এক সেকেন্ডের জন্য অক্সিজেন বন্ধ হয়নি। শারীরিক অবস্থা আগে থেকেই খারাপ থাকায় আইসিইউতে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছিল এমন ৩ জন রোগী ওই সময় মারা গেছেন। প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে এমনটি হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে ৭০টি বড় সিলিন্ডারের মাধ্যমে হাসপাতালে অক্সিজেন সরবরাহ করা হয়েছে। ত্রুটিকালীন সময়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়েছে।
এ ঘটনায় সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের প্রধান কাজী আরিফ আহমেদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাতক্ষীরা জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. হুসাইন শাফায়াত।
বার্তা বাজার/এসজে