জাহাঙ্গীর মাহমুদ নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধিঃ নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে বিউটি আক্তার কুট্টি (৫০) নামে এক ইউপি সদস্যকে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করেছে দৃর্বৃত্তরা। পরিবারের দাবি, স্বামী হত্যা মামলার আসামীসহ প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবে এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে। গতকাল বুধবার সকালে উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের পশ্চিমগাঁও এলাকায় এ হত্যাকান্ডের ঘটনা।
নিহত বিউটি আক্তার কুট্টি উপজেলার পশ্চিমগাঁও এলাকার মৃত এম এ হাসান মুহুরীর স্ত্রী। বিউটি আক্তার কুট্টি কায়েতপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের ৭,৮ ও ৯ নং ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্য ছিলেন।
হত্যাকান্ডের খবর পেয়ে পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী (বীর প্রতীক), নারায়ণগঞ্জ জেলা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আব্দুল আল মামুন, সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আফসার উদ্দিন খাঁন ঘটনাস্থল পরিদর্শণ করেছেন। সে সময় পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের বলেন, এক বছর আগে বিউটি আক্তার কুট্টির স্বামী হাসান মুহুরীকে মাদক ব্যবসায়ীরা কুপিয়ে হত্যা করে। ঐ হত্যা মামলার বাদি ছিলেন বিউটি আক্তার কুট্টি। স্বামী হাসান মুহুরী হত্যার সাথে জড়িতরা বিউটি আক্তার কুট্টিকে হত্যা করতে দীর্ঘ দিন যাবৎ হুমকী দিয়ে আসছিলো। তারাই বিউটি আক্তার কুট্টিকে হত্যা করেছে। তবে ঘটনার সাথে জড়িতরা ছাড় পাবে না। তাদেরকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে প্রশাসনকে নির্দেশ দেন তিনি।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদুল হাসান জানান, বিউটি আক্তার কুট্রি একজন ডায়বেটিকস রোগী। প্রতিদিন ফজরের নামাজ শেষে তিনি তার ওয়ার্ড এলাকা চনপাড়া-ইছাখালী গাজী বাইপাস সড়কে হাটতে বের হয়। প্রতিদিনের ন্যায় বুধবার সকালে বিউটি আক্তার কুট্টি চঁনপাড়া থেকে পশ্চিমগাঁও এলাকার দিকে হাটতে বের হয়। সকাল ৭টার দিকে পশ্চিমগাঁও এলাকায় পৌছাঁলে একদল দূর্বৃত্ত বিউটি আক্তার কুট্টির উপর হামলায় চালায়। এসময় কুট্রিকে চাপাতি দিয়ে মাথায় ও বাম হাতে কুপিয়ে জখম করে। এতে তার মাথার মস্তিষ্ক উপড়ে ফেলা হয়। বাম হাতের আঙ্গুল বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়। ঘটনাস্থলেই বিউটি আক্তার কুট্টি মারা যায়। প্রত্যক্ষদর্শী খালেদা বেগম পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছায়। এর আগেই হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে দুটি ধারালো অস্ত্রসহ আলামত উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে অতিদ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান ওসি।
প্রত্যক্ষদর্শী খালেদা বেগম জানান, তিনিও একজন ডায়বেটিকস রোগী। চনপাড়া-ইছাখালী গাজী বাইপাস সড়কে খালেদা বেগমও হাটতে বের হয়। পশ্চিমগাঁও এলাকার ইউসুফ মিয়ার বাড়ী পৌছাবামাত্র ৩ জন যুবক বয়সের দুর্বৃত্ত হাতে চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র নিয়ে বিউটি আক্তার কুট্টিকে ধাওয়া করে কুপাতে থাকে। এসময় খালেদা বেগম কুট্রিকে বাঁচাতে এগিয়ে গেলে তাকেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে ধাওয়া করে। পরে ধাওয়া খেয়ে খালেদা প্রায় ৩০০ গজ সামনে চনপাড়া পুলিশ ফাঁড়িতে গিয়ে হামলার ঘটনার সংবাদ দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছাবার আগেই বিউটি আক্তার কুট্টি নিহত হয়।
নিহতের পারিবারিক সুত্র জানায়, পুর্ব শত্রুতার জের ধরে স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীসহ সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবে গত ২০১৭ সালের ২৯ অক্টোবর রাতে বিউটি আক্তার কুট্রির স্বামী এম এ হাসান মুহুরীর বাড়িতে হামলা চালিয়ে গুলিবর্ষণ করে। ওই সময় হামলা চালিয়ে ব্যপক ভাংচুর ও লুটপাট চালায় হামলাকারীরা। এক পর্যায়ে এম এ হাসান মুহুরীকে চাপাতিসহ ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে জখম করে। ঘটনার দশ দিন পর এম এ হাসান মুহুরী জাপান বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশীপ হাসপাতালে মৃত্যুবরন করেন। ওই ঘটনায় বিউটি আক্তার কুট্রি বাদী হয়ে ২১ জনকে আসামী করে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এম এ হাসান মুহুরী হত্যা মামলার আসামীরা জামিনে বেরিয়ে এসে বিভিন্ন সময় মামলা তুলে নিতে বিউটি আক্তার কুট্রিকে চাপ দেয়। চাপের মুখেও বিউটি আক্তার এ পর্যন্ত মামলা চালিয়ে আসছিলেন।
নিহত বিউটি আক্তার কুট্রির বোন কদবানু বলেন, স্বামী হত্যা মামলার আসামীসহ প্রতিপক্ষের সন্ত্রাসীরা পরিকল্পিত ভাবে বিউটি আক্তার কুটিকে হত্যা করেছে।
হত্যাকান্ডের ঘটনার পর থেকে এলাকায় থম থমে অবস্থা বিরাজ করছে। আতঙ্কে রয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে ফাঁসির দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।