কুষ্টিয়ায় করোনা সংক্রামক ও আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু এবং সংক্রামক দিন দিন বিস্ফোরকমুখ হয়ে উঠেছে। টানা কুড়ি দিনের কঠোর লকডাউনের মধ্যেও সব বাধাল ভেঁঙ্গে দিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্ত হয়েছে ৩২৪ জনের। একই সময়ে নতুন করে করোনায় মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
কুষ্টিয়ায় অতীতের সব রেকড ভেঁঙ্গে একদিনে সর্বোচ্চ ৩২৪ জনের দেহে করোনা ভাইরাস (কোভিড–১৯) শনাক্ত হয়েছে। ৩০শে জুন পর্যন্ত জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রুগীর সংখ্যা ২ হাজার ৩শত চার জন। জেলায় মোট মৃত্যু সংখ্যা দাড়িয়েছে ২শত ৪ জনের। এর মধ্যে এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত হয়ে সদর উপজেলাতেই মৃত্যু বরণ করেছেন ১ শত ৫ জন।
বুধবার(৩০ জুন) রাতে জেলা প্রশাসন সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, এক দিনে সর্বোচ্চ ৩২৪ জনের শরীরে করোনা শনাক্ত হয়েছে।সেই সাথে একই দিনে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। ৮৩০ জনের নমুনা পরীক্ষা করে চলতি বছরে এটাই সর্বোচ্চ শনাক্ত।৮৩০ টি নমুনার মধ্যে পিসিআরে ২৭৮ টি, রা্যপিড এনটিজেনে ৫৪৭ জন, বিদেশ গমন ইচ্ছুক ব্যক্তি ০৫ জন।শনাক্তের হার ৩৯.০৩ শতাংশ।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তি বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, কুষ্টিয়া সদর উপজেলাতেই শনাক্ত হয় ১১৩ জন। এর আগের দিন সদরে শনাক্ত হয়েছিল ৮৪ জনের। কুমারখালীতে শনাক্ত হয়েছে ৫৪ জন, আগের দিন ছিল ৬২জন।
দৌলতপুরে শনাক্ত হয় ৪৯ জন, আগের দিন ছিল ১২ জন। ভেরামারায় শনাক্ত ৫২ জন, আগের দিন ছিল ৮ জন। মিরপুরে শনাক্ত ৩৩ জন, আগের দিন ছিল ১৬ জন। খোকসায় শনাক্ত ২৩ জন, আগের দিন ছিল ৭ জন। হাসপাতালে আইসোলেশনে চিকিৎসাধীন আছেন ২০৪জন এবং হোম আইসোলেশনে আছেন ২ হাজার ১শত জন। তথ্য মতে কুষ্টিয়া জেলায় মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২ হাজার ৩শত ৪ জন।
আজ সকাল ৯টার সময় কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন ডা. আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, দেশে করোনা ভাইরাস(কোভিড – ১৯) শনাক্তের শুরু আজ অদ্যাবদি কুষ্টিয়ায় এই প্রথম একদিনে সর্বোচ্চ ৩শত ২৪ জনের দেহে করোনা ভাইরাস(কোভিড – ১৯) শনাক্ত হয়েছে। আগের সব রেকড ভেঁঙ্গে এক দিনে সর্বোচ্চ করোনা শনাক্তের রেকর্ড দেখা যাচ্ছে।কুষ্টিয়ায় করোনা ভাইরাস ভয়াবহ থেকে ভয়ঙ্কর রুপ ধারন করেছে। কুষ্টিয়াবাসীকে আরো সচেতন হতে হবে। কুষ্টিয়ার মানুষের চিকিৎসা সেবাই আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি। কিন্তু কুষ্টিয়াবাসী করোনার যে বিধিনিষেধ আছে তা মানার প্রবনতা খুবই কম। যার কারনেণে দিন দিন শনাক্তের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
তিনি বলেন, কুষ্টিয়ায় ১১ জুন থেকে ৩০শে জুন পর্যন্ত মোট ২০ দিন লকডাউন চলছে এরপরও কেন রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, তা গবেষণা করা প্রয়োজন। সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর থেকে কঠোর লকডাউনের মতো ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
তিনি আরো বলেন, জেলায় গ্রামপর্যায়ে করোনা ছড়িয়ে পড়েছে।জুন মাসের ২৭ দিনে ৭৩ জন মারা গেছেন, তাঁদের ৭০ শতাংশ ৫৫ থেকে ৬৫ বছর বয়সী এবং গ্রামের বাসিন্দা তাই আমাদের সকলকে সরকারের বিধি নিষেধ মেনে চলাচল করতে হবে।
টুটুল/বার্তাবাজার/পি